ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাভারে তরুণীর চিৎকার শুনে জ্বলে উঠল টর্চ, বৃথা গেল আমিনুলের চেষ্টা


সাভারে তরুণীর চিৎকার শুনে জ্বলে উঠল টর্চ, বৃথা গেল আমিনুলের চেষ্টা

ঢাকার সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের জঙ্গলে পোশাকশ্রমিক তরুণীকে (২৬) ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানার পুলিশ।

এটি ঘটেছে সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে, সাভারের সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি মিনি চিড়িয়াখানা সংলগ্ন এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আমিনুল ইসলাম (৩৫), যিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বাসিন্দা। তিনি সাভারের হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকায় থেকে বিভিন্ন স্থানে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী তার বোনের সঙ্গে সাভারের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সোমবার, বোনের সঙ্গে কিছু রাগারাগির পর তরুণী বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যায় সাভারের সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে যান। এরপর তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ দিয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মিনি চিড়িয়াখানার কাছে পৌঁছানোর পর, আমিনুল পেছন থেকে এসে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে এবং তাকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, ধর্ষণের চেষ্টা চলাকালীন ভুক্তভোগী চিৎকার করলে এক ব্যক্তি তার চিৎকার শুনে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। টর্চের আলো দেখে আমিনুল পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটক করে এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী তরুণী ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেলিভারির ব্যথা হলে সাংবাদিকদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ডেলিভারির ব্যথা হলে সাংবাদিকদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকের

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া সাংবাদিকদের সম্পর্কে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন।"

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই মন্তব্যটি করেন।

ডা. খাইরাতুন হিসান কেয়া পোস্টে উল্লেখ করেন, "ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেন উঠছে না, পানি কেন ভাঙছে, এ ধরণের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে।"

চৌদ্দগ্রামের খামার পুষ্করণী গ্রামের প্রসূতি নাজমা আক্তারের সন্তান প্রসবের ঘটনায় তার স্বজনেরা ডা. কেয়ার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চলার পর একপর্যায়ে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। পরে তারা নবজাতকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতি নাজমাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. কেয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেছিলেন। রোগীর অবস্থা ভালো না থাকায় দ্রুত তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবজাতকের মৃত্যু ও মাথায় আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার কথা বলেন।

এদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের নিয়ে চিকিৎসকের এই মন্তব্যের ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ বছর পর নায়ক মান্নার বক্তব্য ভাইরাল, ‘ফায়ার’ সিনেমা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


২৪ বছর পর নায়ক মান্নার বক্তব্য ভাইরাল, ‘ফায়ার’ সিনেমা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

ঢাকাই সিনেমায় অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন চিত্রনায়ক মান্না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সময়কাল জুড়ে তিনি অশ্লীল দৃশ্যের বিরুদ্ধে কথা বলার পাশাপাশি এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের বিরুদ্ধেও অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তবে তার অভিনীত ‘ফায়ার’ সিনেমা নিয়ে একসময় অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অস্বীকার করে সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণও জানিয়েছিলেন এই অভিনেতা।

২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফায়ার’ সিনেমাটি নিয়ে ২৪ বছর পর আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে মান্নার একটি পুরোনো ভিডিও। সেখানে সিনেমাটিতে কাজ করা, মাঝপথে সরে দাঁড়ানো এবং ডাবিংয়ে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটি মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলির সূত্রে পাওয়া গেছে।

ভিডিওতে মান্নাকে বলতে শোনা যায়, "ফায়ার নামে যে ছবিটি আমি করেছিলাম, সেই ছবিতে অর্ধেক কাজ করার পরে আমি আর কাজ করিনি। এমনকি আমি সিনেমায় ভয়েসও দিই নাই। আমি ডাবিংয়েও যাই নাই।"

মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার ভাষ্য, সিনেমাটি মুক্তির আগে এর পুরো কাজ শেষ করেননি মান্না। পরবর্তী সময়ে তার পরিবর্তে ডামি ব্যবহার করে কিছু দৃশ্যের শুটিং সম্পন্ন করা হয়। মুক্তির পর সিনেমার কিছু দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা হলে বিষয়টি নিয়ে মান্নাও বিরক্ত ছিলেন।

শেলী মান্না বলেন, "মুক্তির পরে দর্শক ও সমালোচকেরা যেসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেসব নিয়ে মান্নার সঙ্গে প্রযোজকের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। মান্না জেনেশুনে কখনোই কোনো অশ্লীল সিনেমায় অভিনয় করবে না। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সে নিজেই লড়েছে।"

‘ফায়ার’-এ অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগও সরাসরি নাকচ করেছিলেন মান্না। তার বক্তব্য ছিল, "একটি সিনেমায় অন্য শিল্পী, পরিচালক কিংবা প্রযোজক কী করছেন, তা সবসময় একজন অভিনয়শিল্পীর পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলেও জানান তিনি।"

মান্না বলেন, "পুরো সিনেমায় আমার কো-আর্টিস্ট বা অন্য শিল্পীরা এবং ডিরেক্টর, প্রযোজক কে কী করছে, সেটা আমার যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমি কোনো অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয় করিনি।"

পুরোনো ভিডিওতে সিনেমাটির প্রযোজকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কথাও উঠে আসে। তবে ঠিক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মান্না। শেলী মান্নার দাবি, সিনেমায় এমন কিছু ঘটছিল, যা মান্নার অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

তার ভাষায়, "মান্না বুঝতে পেরেছিল, সিনেমায় অন্য রকম কিছু হচ্ছে, যা তার সঙ্গে যায় না। তার মনে হয়েছিল, তাকে ছাড়াই অপ্রাসঙ্গিক কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। পাইরেসিসহ নানা বিষয় নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল।"

এরপরই সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান মান্না। শেলী মান্নার দাবি, পরে প্রযোজক ও পরিচালক ডামি ব্যবহার করে সিনেমার কাজ শেষ করেন।

অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছিলেন মান্না। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমি সব সময় অশ্লীলতা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি।"

শেলী মান্নাও জানিয়েছেন, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে মান্নার অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, "সে অশ্লীল সিনেমায় কখনোই অভিনয় করেনি। কেউ যেন এমন সিনেমা না বানায়, সেটা নিয়েও কথা বলেছে। একসময় তার যুদ্ধটা একার ছিল।"

তবে এই লড়াই করতে গিয়ে একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন মান্না। ভিডিওতে নিজের ওপর চাপ ও নানা সমালোচনার কথাও জানান তিনি।

মান্না বলেন, "অশ্লীলতা নিয়ে একার পক্ষে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়। আমি একা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। অশ্লীল সিনেমা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, আমাকে নিয়ে এসব কারণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। অনেক সময় বিপদের মুখোমুখিও হয়েছি।"

তৎকালীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, ওই সময়ে অনেক সিনেমাতেই অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করা হতো। এর বিরোধিতা করতেন মান্না। কয়েকজন পরিচালক, ফাইট ডিরেক্টর ও অন্যান্য কলাকুশলীকে সঙ্গে নিয়ে অশ্লীলতামুক্ত সামাজিক সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।

ওই নেতার দাবি, শুধু অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তিই নয়, ‘ফায়ার’ সিনেমার শিডিউল নিয়েও মান্নার জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সব মিলিয়ে সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

‘ফায়ার’ সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন পলি। মোহাম্মদ হোসেন বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় সিনেমাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং মান্নার বক্তব্য প্রসঙ্গে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় বিএল কলেজের গেটে যুবক মহিদুল গুলিবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


খুলনায় বিএল কলেজের গেটে যুবক মহিদুল গুলিবিদ্ধ

খুলনা নগরীর দৌলতপুরের সরকারি বিএল কলেজের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার নাম মহিদুল (২০)।

এটি ঘটে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে।

আহত যুবক মহিদুল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বনগাঁ গ্রামের শওকত খাঁর ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহিদুলকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় মহিদুল দৌলতপুর থানার বিএল কলেজের দ্বিতীয় গেট এলাকার ফাঁকা স্থানে বা এর কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে মহিদুলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।

দৌলতপুর থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন মহিদুলের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পা হারিয়েও দমেননি, রাবির সাবেক শিক্ষার্থী সুজন এখন পীরগঞ্জ স্টেশনমাস্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


পা হারিয়েও দমেননি, রাবির সাবেক শিক্ষার্থী সুজন এখন পীরগঞ্জ স্টেশনমাস্টার

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে মাইকে ট্রেন থামার বার্তা শোনা যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। মো. সোহরাব হোসেন সুজন স্টেশনমাস্টারের কক্ষে বসে ট্রেনের সিগন্যাল ও কন্ট্রোল রুমের নির্দেশনা তদারকি করছেন। সাধারণ মানুষের মতো কক্ষ থেকে বের হলেও বোঝা যায় না যে তিনি বাঁ পা ছাড়া এত বড় স্টেশনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

২০০৩ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামের কিশোর সুজন সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলেন। এক দুপুরে বড় বাবার সঙ্গে মাঠে গিয়ে পাওয়ার টিলার চালানোর ইচ্ছা জাগে তার। ওই সময় বাড়িতে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ের বৌভাতের আয়োজন চলছিল, চারপাশে উৎসবের আমেজ ছিল। ছেলের আবদারে শেষমেশ বড় আব্বা তাকে গাড়িটি চালাতে দেন। কিন্তু অনভিজ্ঞতার কারণে মোড় ঘোরাতে গিয়ে পাওয়ার টিলারটি পাশের পুকুরে উল্টে যায়। এতে সুজনের বাঁ পা স্লিপ কেটে টিলারের ফালসেটে ঢুকে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে দিনাজপুর এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে হাঁটুর নিচ থেকে সুজনের বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়।

সেই সময় এক বছর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধুদের সামনে কিভাবে দাঁড়াবেন, এ নিয়ে কিশোর মনে সংকোচ ও লজ্জা ভর করে। গ্রামের মানুষ বলতে শুরু করে, ‘ছেলেটার জীবন তো শেষ, ওকে দিয়ে আর কিছু হবে না।’ কিন্তু সুজনের উকিল বোন নাসিমা ও দুলাভাই হাবিবের সহায়তায় পায়ে প্লাস্টিক সার্জারি করে কৃত্রিম পা লাগানো হয়। লজ্জা ভেঙে কৃত্রিম পা দিয়ে সাইকেল চালানো শুরু করেন এবং স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। তবে ক্লাসে যেতেন না, শুধু পরীক্ষা দিতেন। স্কুলের গণিত শিক্ষক মহিনুদ্দীন স্যারের সহযোগিতায় বাড়িতে বসেই পড়াশোনা চলতে থাকে। স্থানীয় কোচিংয়ের মডেল টেস্টে প্রথম স্থান অধিকার করে সবাইকে চমকে দেন। ২০০৮ সালে এসএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি জিপিএ ৪.৬০ পান। এরপর কলেজ থেকে এইচএসসিতে ৪.৯০ অর্জন করেন।

সুজনের স্বপ্ন ছিল আরও বড়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে চান্স পান। রাজশাহী থেকে মাস্টার্স শেষ করার পর সুজন দিনাজপুরে ফিরে আসেন। কোনো কোচিং সেন্টারে না গিয়ে মেসে বসে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন। রাত ৩টা-৪টা, কখনো ফজরের আজান পর্যন্ত টেবিল-চেয়ারেই কাটত তার সময়।

সুজনের কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলতে দেরি হয়নি। তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে ২০১৯ সালের মে মাসে সহকারী স্টেশনমাস্টার (এএসএম) হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগ দেন।

দিনরাত সুজনের দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা ও একাগ্রতা দেখে কর্তৃপক্ষ মাত্র পাঁচ-ছয় মাসের মাথায় ব্যস্ত পীরগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করে। চার বছর পর ২০২৩ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ স্টেশনমাস্টার হিসেবে একই স্টেশনের দায়িত্ব নেন। বর্তমানে সুজন সময়মতো ট্রেনস্টেশন পরিচালনা, শত শত যাত্রীর নিরাপত্তা এবং টিকিট ও ক্যাশের সঠিক হিসাব সবকিছুই দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন।

সুজন বলেন, "প্রতিদিন আমার মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে রেলস্টেশনে আসা-যাওয়া করি। এখন স্যাররা আমার প্রতি ভরসা করে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি।"

স্টেশনমাস্টার সুজন আরও বলেন, "সমাজে কে কী বলল, তাতে কান দিলে চলা যায় না। লক্ষ্য যদি স্থির থাকে আর মনে আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%