০৮:২৯ পি.এম
বিবাহের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ের পদ্ধতি ও তা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে পরিশোধের নীতিমালা তৈরি করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।
আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজেসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ধর্ম সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে শুনানির সময় ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, ধর্মীয় রীতি বাদ দিয়ে লোক দেখানো দেনমোহর ধার্য করতে গিয়েই যত সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়াহ আইনের বাইরে যাওয়া যাবে না বলেও আদালত মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর
আদালতে রুল জারির পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর পরিশোধ স্বামীর আইনগত দায়িত্ব এবং এটি স্ত্রীর বৈধ অধিকার। তিনি জানান, তালাক কে দিয়েছেন (স্বামী বা স্ত্রী) সেটি দেনমোহর পরিশোধের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়; তালাক যে-ই দিক না কেন, স্বামীকে সম্পূর্ণ দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এতে দেখানো হয় যে, এটি বিবাহিত নারীর অধিকার।
এর আগে, বিবাহিত নারীর অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় পরিশোধযোগ্য দেনমোহর আদায়ের পদ্ধতি ও নীতিমালা তৈরি নির্দেশনা চেয়ে গত ৫ জুলাই হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদত্ত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি, নীতিমালা এবং উপায় নির্ধারণ করা থাকবে, যার উদ্দেশ্য হবে বিবাহে নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং সংরক্ষণ করা। এছাড়া মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ নং ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন