বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রদ্রিগেসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের এই আবাসিক প্রতিনিধি বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনায় আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কীভাবে আরও বৃহৎ পরিসরে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন দেশে জাতিসংঘের বহুমাত্রিক উন্নয়ন সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘকে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পাশে পাওয়া যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের বি.এস ডাঙ্গী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন সুলতানা কাকন এ বছর আবারো জেলার গুনী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে, তিনি একবার বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, তিন বার জেলা পর্যায়ে এবং নয় বার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সরকারিভাবে ইন্দোনেশিয়ায় উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও ভ্রমণ করেছেন।
মেধা, সাংস্কৃতি, সৃজনশীল পাঠদান ও কর্তব্য পরায়নতার বিবেচনায় শিরিন সুলতানা কাকন ২০০১ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালে ও ২০১৬ সালে তিন দফায় তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া, শিরিন সুলতানা কাকন নয় বার উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে তিনি সরকারিভাবে ইন্দোনেশিয়ায় উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। সবশেষে, এ বছর তিনি জেলার গুনী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গুনী শিক্ষক শিরিন সুলতানা কাকন জানান, “আমার শিক্ষকতা জীবনে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আমার সহকর্মীদের সহায়তায় আমি উত্তোরত্তর সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এজন্য সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান বলেন, “এ বছর ফরিদপুর জেলায় মাত্র তিনজন গুনী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। সেই গুনী শিক্ষকের তালিকায় অত্র উপজেলার আদর্শ শিক্ষক শিরিন সুলতানা কাকন অন্তর্ভুক্ত থাকায় আমি গর্বিত।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য ও যোগাযোগ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা ও মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে, যদি পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্যের জায়গা নষ্ট হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত কেউ রক্ষা পাবে না এবং রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে একটি ন্যূনতম ঐক্য থাকা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবে না এবং এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকবে না।
বিরোধী দলের কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কথা বলার স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকতে হবে। তিনি জানান, বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির দলীয় নির্দেশনাও ছিল।
রিজভী বলেন, “বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন করা তাদের অধিকার।” তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের রয়েছে। তাঁর মতে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক যোগাযোগের জায়গাটি ধরে রাখা প্রয়োজন।
সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, যে বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা সত্য বলতে হবে। তিনি বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সরকারও এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকারি দলের প্রধানকে নিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ভাষা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ এবং সজীব ওয়াজেদও এ ধরনের বক্তব্য দিতেন। এই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বর্তমানে সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে যায় না।
তিনি আরও বলেন, “শুধু জল্লাদ নয়, মীর জাফররা চারপাশে অবস্থান নিয়ে আছে।” এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পাশের দেশ থেকে বোমা রেখে ছবি তুলে পাঠানোর জন্য টেলিফোনে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের টাকা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি।
রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যতই মতানৈক্য থাকুক, দেশের স্বার্থে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জায়গা রাখতে হবে। ঐক্য বিনষ্ট হলে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিরোধী দলের সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সুযোগ থাকা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জামায়াতকে একটি দল হিসেবে ‘অকৃতজ্ঞ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে, জামায়াত এখন সেই বিষয়টি ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত। তাঁর অভিযোগ, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিরোধীরা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থানীয় ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। যারা এর বিরোধিতা করবেন বা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে এবং পুরোনো সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগতে পারে। বর্তমানে দেশে তারা যে আন্দোলন করছে, তা আওয়ামী লীগকে সহায়তা করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে, এটি প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি।
১১ দলীয় জোটের নেতাদেরও সমালোচনা করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, তারা সংসদে এক ধরনের কথা বললেও বাইরে অন্য কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, তারা নানা ধরনের ‘অভিনয়’ করছেন। এনসিপির নেতাদের বয়স কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সম্মান দিয়ে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন না এবং তারেক রহমানকে নিয়ে ‘বিশ্রী ভাষায়’ কথা বলেন।
বিএনপি কোনো হুমকিকে পরোয়া করে না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে যারা বিএনপির সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছে, তাদের দলে আর জায়গা হবে না।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, যারা দলের দুঃসময়ে কাজ করেছেন, তাদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপ, ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন বৈধ সুযোগ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেহেশতের লোভ দেখিয়ে নয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাস, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেই পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে আবার ভোট চাইবে বিএনপি।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো অল্প সময়ের। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের কাজের হিসাব দেওয়া হবে।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার হয়ে গেছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বাঁশখালীর আরও যেসব রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণ প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা দিলে মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি সহায়তায় কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে জনগণের কাছে ক্ষমা চান তিনি। বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ এনে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁশখালীতে প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ৫১০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহাবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদ শুরু থেকেই কাজ করছে। বন্যার সময় দুর্গত এলাকায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণও বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে জেলা পরিষদ পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের কার্যক্রম সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা। বাঁশখালীর ৫১০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের আরও ৫৯০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাহাবুবের রহমান শামীম একই সঙ্গে তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। বরং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়।
একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচন আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে কমিশন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সরকারের কোনো চাপে নয়, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে, সেজন্য সেসময় বাদ দিয়ে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।” তিনি আরও বলেন, “পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।”
যদিও জানুয়ারিতে ভোট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী বছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েই ভোটের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। আগামী বছর এসব কর্মসূচির সঙ্গে যেন নির্বাচনের সময়সূচির সংঘাত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী বছরের রমজান মাস, ঈদ, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা আছে, সবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ হয়। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও নিয়মিত হয়। ইসি তথ্য চায়, মন্ত্রণালয় তথ্য দেয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারের সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরাসরি চিঠি চালাচালির কোনো নিয়ম বা নজির নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “কেউ কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলে না নির্বাচন কবে হবে, এমন নজির নেই।”
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না।”
এর আগে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল ইসি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেটি চূড়ান্ত সময়সূচি ছিল না।
পরে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভোট আয়োজন থেকে সরে আসার কথা জানায় কমিশন। এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনাই বিবেচনায় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিস্থিতি ও সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং কোন তারিখে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচনের সময় পরিবর্তনের পেছনে সরকারের কোনো চাপ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষার সময়সূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচিতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ