বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জামায়াতকে একটি দল হিসেবে ‘অকৃতজ্ঞ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ‘রাজাকারের তকমা’ দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে, জামায়াত এখন সেই বিষয়টি ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত। তাঁর অভিযোগ, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিরোধীরা লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থানীয় ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। যারা এর বিরোধিতা করবেন বা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরোনো সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে এবং পুরোনো সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগতে পারে। বর্তমানে দেশে তারা যে আন্দোলন করছে, তা আওয়ামী লীগকে সহায়তা করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে, এটি প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে তিনি অনুষ্ঠানে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি।
১১ দলীয় জোটের নেতাদেরও সমালোচনা করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, তারা সংসদে এক ধরনের কথা বললেও বাইরে অন্য কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, তারা নানা ধরনের ‘অভিনয়’ করছেন। এনসিপির নেতাদের বয়স কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সম্মান দিয়ে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন না এবং তারেক রহমানকে নিয়ে ‘বিশ্রী ভাষায়’ কথা বলেন।
বিএনপি কোনো হুমকিকে পরোয়া করে না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে যারা বিএনপির সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছে, তাদের দলে আর জায়গা হবে না।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, যারা দলের দুঃসময়ে কাজ করেছেন, তাদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপ, ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন বৈধ সুযোগ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেহেশতের লোভ দেখিয়ে নয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাস, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেই পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে আবার ভোট চাইবে বিএনপি।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের মেয়াদ এখনো অল্প সময়ের। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে গিয়ে সরকারের কাজের হিসাব দেওয়া হবে।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়ক ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার টেন্ডার হয়ে গেছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বাঁশখালীর আরও যেসব রাস্তা সংস্কার বা নির্মাণ প্রয়োজন, সেগুলোর তালিকা দিলে মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সরকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি সহায়তায় কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে জনগণের কাছে ক্ষমা চান তিনি। বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বরাদ্দ এনে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁশখালীতে প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ৫১০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহাবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদ শুরু থেকেই কাজ করছে। বন্যার সময় দুর্গত এলাকায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণও বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে জেলা পরিষদ পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের কার্যক্রম সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা। বাঁশখালীর ৫১০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের আরও ৫৯০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মাহাবুবের রহমান শামীম একই সঙ্গে তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিস মিয়া এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। বরং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি, পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ভোটের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়।
একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচন আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে কমিশন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সরকারের কোনো চাপে নয়, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে, সেজন্য সেসময় বাদ দিয়ে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।” তিনি আরও বলেন, “পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।”
যদিও জানুয়ারিতে ভোট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী বছরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি বিবেচনায় নিয়েই ভোটের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। আগামী বছর এসব কর্মসূচির সঙ্গে যেন নির্বাচনের সময়সূচির সংঘাত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আগামী বছরের রমজান মাস, ঈদ, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা আছে, সবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ হয়। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানও নিয়মিত হয়। ইসি তথ্য চায়, মন্ত্রণালয় তথ্য দেয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারের সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরাসরি চিঠি চালাচালির কোনো নিয়ম বা নজির নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “কেউ কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলে না নির্বাচন কবে হবে, এমন নজির নেই।”
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইনের বাইরে যায় না, সংবিধানের বাইরে যায় না।”
এর আগে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল ইসি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর করার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেটি চূড়ান্ত সময়সূচি ছিল না।
পরে পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভোট আয়োজন থেকে সরে আসার কথা জানায় কমিশন। এখন জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজনের পরিকল্পনাই বিবেচনায় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিস্থিতি ও সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কোন ধাপে এবং কোন তারিখে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচনের সময় পরিবর্তনের পেছনে সরকারের কোনো চাপ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধানের বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষার সময়সূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সময়সূচিতে পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রির অভিযোগে পুলিশ ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত তিনজনই রেস্টুরেন্ট পরিচালনার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট সংলগ্ন মর্নিংসান হাইওয়ে রেস্তোরা এন্ড হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ভাটিবন্দর গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদির (৪৫), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে মিজান (৪০) এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল সলিমপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আলম (২৬)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের গজারিয়া অংশের তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট সংলগ্ন এই রেস্টুরেন্টে বেশ কিছুদিন ধরে মাদক ব্যবসা চলছিল। রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষের লোকজন তাদের কর্মচারীদের মাধ্যমে আগত গ্রাহক ও যানবাহন চালকদের কাছে মাদক বিক্রি করতেন। বুধবার দুপুরে এমন একটি খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি স্টিলের বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সটি খুলতে বাধ্য করা হলে তার ভেতরে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তদের গাঁজাসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানা যায়, রেস্টুরেন্টটির মালিক তেতৈতলা গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী। তিনি রেস্টুরেন্টটি ভাড়া দিয়ে বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিচালনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে আগত ব্যক্তিদের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এ সময় তিনজনের কাছ থেকে একটি স্টিলের বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সটি খোলার পর তার ভেতরে গাঁজা পাওয়া যায়। আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।" বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাঁজাসহ ৩ জন আটক হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের একাদশে নিয়মিতভাবে জায়গা না পেলেও অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব বহন করছেন জামাল ভূঁইয়া। বাফুফে নতুন নেতৃত্বের খোঁজে রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবসর নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জামাল মন্তব্য করেন, "অবশ্যই সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান।" তিনি আরও জানান, অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তারা সবাই বলেছেন, "খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো।"
বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ২৩ জনের দলে জায়গা পাওয়াকে তিনি একটি বড় সম্মান বলে মনে করেন।
এই ফুটবলারের মতে, "প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু।" তিনি উল্লেখ করেন, "বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সঙ্গে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি।"
আসিয়ান কাপে ভক্তদের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, "এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের নিজেদের এবং দেশের মানুষের বিশাল প্রত্যাশা রয়েছে।" জামাল জানেন, গ্রুপে তারা সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, "আমরা এই টুর্নামেন্ট থেকে তিন-চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। আর ফুটবলে কখন কী হয়, সেটা তো কেউ আগে থেকে বলতে পারে না!"
জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্য আজকের অবস্থানে আসাটা মোটেও সহজ ছিল না। দুই দশক আগে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ৪টি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি।
সেই মৃত্যুঞ্জয়ী জামালই এখন বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি জানান, যতদিন শরীর সায় দেবে, দেশের হয়ে এই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যেতে চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টি কবিতা ‘দুই পাখি’ এবং নাটক ‘রক্তকরবী’ অবলম্বনে নাগরিক নাট্যাঙ্গন নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ উপস্থাপন করছে। এটি দলের ২৮তম প্রযোজনা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান বিশ্বে, যেখানে ইন্টারনেট-স্যাটেলাইট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসন-সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরাজমান, মানুষের জীবন যেন এক রোবটিক জীবন। এই জীবনে এক ধরনের মানুষের জীবন প্রাচুর্য্য-বিলাসিতা-স্বাচ্ছন্দময়, কিন্তু তারা পরাধীন। অপরদিকে, অন্য ধরনের মানুষের জীবন অনিশ্চয়তা-ঝুঁকি-কষ্টময়, কিন্তু তারা স্বাধীন। একটি জীবন স্বর্ণের খাঁচায় আবদ্ধ, অন্য জীবন মুক্ত বনের পাখির মতো স্বাধীন।
একটি জীবন আবদ্ধ হতে হতে উড়বার শক্তি হারিয়ে ফেলে, অন্য জীবন খাঁচার ফাঁদ এড়িয়ে স্বাধীন থাকে। যখন এই পরাধীন এবং স্বাধীন রূপ খাঁচায় ও বনের পাখির পারস্পরিক সাক্ষাতে মিলিত হয়ে এক অভিন্ন সত্ত্বায় মুক্তির বার্তা ঘোষণা করতে গিয়ে অসমর্থ হয়, ঠিক তখনই মহামুক্তির পথ নির্দেশনা নিয়ে উপস্থিত হয় রক্তকরবী নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনী।
নন্দিনী, যিনি আত্মার মুক্তি এবং খাঁচা তথা ব্যারিকেড ভেঙ্গে ফেলবার পথিকৃৎ, লোভ, নিষ্ঠুরতা, ভয়ভীতি, আঘাত প্রভৃতির যাঁতাকলে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজের কারণে কিশোর, ফাগুলালের মতো শত সহস্র মানুষ বাধ্যতামূলক খনিতে নেমে স্বর্ণ তুলতে বাধ্য হয়। এই অবস্থায়, মানুষকে তার মানবিক অধিকার-স্বাচ্ছন্দ-জীবন উদযাপনের মূল সুরে ফিরিয়ে আনতে এবং শোকার্ত মানুষের সারিতে এনে যক্ষপুরীর রাজা মকররাজকে মানবিক হওয়ার, সমব্যাথী হওয়ার, সমন্বয় সাধনের পথরেখা দ্রোহ এবং আত্মত্যাগ দিয়ে আঁকেন রক্তকরবীর নন্দিনী।
স্বাধীনতা আর মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই পাখির যে জিজ্ঞাসা, রক্তকরবীর নন্দিনীর যে সমাধান, তারই চিরন্তন এবং সমসাময়িকতার শিল্প সৃজন ষড়েশ্বর্য লাকী ইনামের নাটক 'দুই পাখী ও নন্দিনী'।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নূরুল হাসনাত জিলান, জুয়েল জহুর, পারিশা আফরোজ, লায়লা পলি, ফারিন তামান্না, প্রলয় জামান, হিল্লোল সরকার প্রমুখ।
আলোক পরিকল্পনা করেছেন জয়নাল আবেদীন পবন, আবহ সংগীত পরিচালনায় শওকত আলী রানা, মঞ্চসজ্জায় শাওন আকন্দ এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন সুমন আহমেদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ