ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কর্মস্থলে না গিয়েই ১৭ বছর ধরে সরকারি বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক


কর্মস্থলে না গিয়েই ১৭ বছর ধরে সরকারি বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে অভিযোগ উঠেছে এক কম্পিউটার শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সরকারি বেতন-ভাতা তোলার। বিদ্যালয়ে পাঠদান তো দূরের কথা, এক দিনের জন্যও তিনি সেখানে পা রাখেননি। তবুও নিয়মিতভাবে তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি টাকা (এমপিও) ঢুকে যাচ্ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, যা একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম পীযুষ কান্তি ঘোষ। তার দাবি, তিনি ২০০৯ সালেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু কীভাবে তার ব্যাংক হিসাবে টাকা ঢুকছে তা তিনি জানেন না। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের কারসাজিতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তবে প্রধান শিক্ষকরা একে অপরের দিকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও এলাকাবাসী শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন ও শিক্ষা দফতর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসও দিয়েছে।

দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবটি বর্তমানে তালাবদ্ধ। সেই বিষয়ে পাঠদানে কোনো শিক্ষক নেই। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিদ্যালয়টির শত শত শিক্ষার্থী কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ ওই শিক্ষক ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে না থেকেও বেতনসহ সরকারি সব সুবিধা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষকের শূন্য পদে পীযুষ কান্তি ঘোষ যোগদান করেন। তিনি তিন বছর চাকরি করলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০০৯ সালে ঢাকায় গিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হন। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও অদৃশ্য কোনো এক ক্ষমতার কারণে এমপিওভুক্ত হন শিক্ষক পীযুষ। সেই থেকে তিনি একবারও বিদ্যালয়ে আসেননি; অথচ ১৭ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতার সুবিধা ভোগ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত আছেন।

শিক্ষক পীযুষ কান্তি ঘোষের ব্যাংক হিসাবের (স্টেটমেন্ট) সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে সময় সংবাদ। জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক নীরঞ্জন কুমার বসু (১৯৮৪-২০১২), এরপর অনন্ত কুমার বিশ্বাস (২০১২-২০১৪), তুষার কান্তি ঘোষ (২০১৪-২০২২), গোলক চন্দ্র বিশ্বাস (২০২২-২০২৫) এবং সবশেষ তুষার কান্তি ঘোষ (২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অদ্যাবধি) দায়িত্ব পালন করেছেন। পীযুষ কান্তির বেতন উত্তোলনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও শিক্ষক পীযুষ কান্তির ব্যাংক হিসাবে টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত দুই প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'আড়াই বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন কম্পিউটার শিক্ষক পীযুষের বেতন বন্ধ রাখি। প্রধান শিক্ষক পুনর্বহাল হয়ে আবারও তার বেতন চালু করেন।' ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী তার দায়িত্বকালীন সময়ে পীযুষের অ্যাকাউন্টে বেতন ঢুকেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি কোনো আবেদন করিনি, তবে কীভাবে ঢুকছে আমার জানা নাই।'

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ অনুপস্থিত শিক্ষকের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে পীযুষকে নোটিশ করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাইকোর্টের এক রায় অনুযায়ী বরখাস্ত করলেও তার প্রাপ্য টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চক্রান্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সেই আড়াই বছরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলক পীযুষের বেতন চালু রেখেছিল। আমি যোগদান করে তার দেখানো পথে পীযুষের বেতন তিন মাস চালু রাখি, পরে আবার বন্ধ করে দিই।'

তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষকদের বেতন চালুর বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ থাকে না। তৎকালীন কমিটির সিদ্ধান্তে তিনি বেতন চালু রাখতে বাধ্য হন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে পীযুষ কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, '২০০৯ সালে স্কুলের চাকরি ছেড়ে এসেছি। বিদ্যালয়ে আর কখনো যাইনি। তবে এসব বেতন উত্তোলন ও এমপিওর বিষয়টি সম্প্রতি বিভিন্ন মারফতে জানতে পেরেছি। তবে এসব টাকার বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।'

তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘ এত বছরে ব্যাংকে আমি কখনো যাইনি। কীভাবে আমার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে, কখনো ব্যাংক থেকেও আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।'

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেছেন, 'একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, 'দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত থেকেও শিক্ষক পীযুষ সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন, যেটি গর্হিত অপরাধ। আর একজন শিক্ষকের একার পক্ষে এ কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। আমি সম্প্রতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছি। তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন সব দফতরে বিষয়টি জানাব। আশা করছি, এই চক্রের সকলের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'

এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরের বছর এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪০১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম

টানা ভারী বর্ষণের কারণে ও উজানের পাহাড়ি ঢলের ফলে মৌলভীবাজারের মনু, ধলাই, জুড়ী এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় মনু নদী কুলাউড়া মনু রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে এবং জেলা শহরের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে, কমলগঞ্জের ধলাই নদী ধলাই রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় সন্ধ্যার দিকে জেলার সকল নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করবে।

আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে হাওড়ের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে কিছুটা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবিরাম বৃষ্টিতে ধসে পড়ল চুয়েটের সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


অবিরাম বৃষ্টিতে ধসে পড়ল চুয়েটের সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অভ্যন্তরীণ সড়কের একটি অংশ প্রায় দেড় ফুট দেবে গেছে। এই অবস্থার কারণে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের সামনের সড়কের একটি অংশে বড় ধরনের ধস নেমে গেছে। এই ধসে সড়কটি প্রায় দেড় ফুট নিচে বসে গেছে এবং সড়কের ওই অংশে ফাটলও সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি কালভার্টও রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ধসে পড়া অংশটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং রাতে চলাচলকারীদের সতর্কতার জন্য সেখানে বৈদ্যুতিক বাতি লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, ‘সড়কটি আমাদের হলসংলগ্ন হওয়ায় বের হতে বা ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানে যেতে এটিই মূলপথ। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করলে আমাদের অনেকটা ঘুরে যেতে হবে। আমরা আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, এখানে আসলে বড় ধরনের কাজ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বৃষ্টির কারণে এটা করা সম্ভব হবে না।’

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বৃষ্টি থামলে দেখতে হবে এটি কোন পর্যায়ে আছে। আগে নিশ্চিত হতে হবে ভিতরের পোলটি ঠিক আছে কিনা, যদি পোলটি ভেঙে না গিয়ে থাকে তবে কাজটি খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। তবে যদি পোলটি ভেঙে যায়, তবে নতুন করে চিন্তা করতে হতে পারে। তবে প্রশাসন এই বিষয়টিতে চিন্তা করছে কীভাবে দ্রুত সংস্কার করা যায় যেহেতু এখান দিয়ে প্রায় ৩/৪টি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগে সবসময় মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান: দীপেন দেওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


দুর্যোগে সবসময় মানুষের পাশে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান: দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে এবং মানুষের কল্যাণে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন এবং তিনি ভবিষ্যতেও থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিএনপি’র পক্ষ থেকে পাহাড়ের দুর্গম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি, যাতে কেউ অসহায় না থাকে।

গতকাল বুধবার, মধ্যরাতে, জেলায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং শহরের লোকনাথ মন্দিরের আশ্রয় কেন্দ্রে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে এ বক্তব্য রাখেন দীপেন দেওয়ান এমপি।

পরিদর্শনকালে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে হত্যা করলেন তৃতীয় স্বামী, আগের বিয়ের তথ্য লুকানোয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


স্ত্রীকে হত্যা করলেন তৃতীয় স্বামী, আগের বিয়ের তথ্য লুকানোয়

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে আছমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছেন তার তৃতীয় স্বামী মো. মুহাসিন মাতুব্বর। মুহাসিন মাতুব্বর দুই বিয়ের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করেছিলেন।

এই ঘটনাটি ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আসামি মুহাসিন মাতুব্বর (৩২) কে গ্রেপ্তার করাতে সক্ষম হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বলিয়াগাঁও এলাকায়, মুহাসিন মাতুব্বর স্ত্রী আছমা আক্তার ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

কিছুদিন আগে তাদের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পূর্বের আছমার দুটি বিয়ের বিষয়টি মুহাসিনের কাছে গোপন ছিল, যা নিয়ে দাম্পত্য কলহ প্রায়ই হয়ে থাকে। পিবিআই আরো জানায়, হত্যার ঘটনাটি ঘটনার আগের দিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার নিতে শুরু করে। পরদিন ৭ জুলাই সকালে, নাস্তা তৈরি না করা এবং মাথা ব্যথা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন।

এক পর্যায়ে, মুহাসিন আছমার গলা চেপে ধরা ও ধাক্কা দেওয়ার ফলে আছমা ঘরের কাঠের পাটাতনে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মুহাসিন তার স্ত্রীকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সেজন্য ব্যর্থ হন এবং মরদেহকে খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার টঙ্গীবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলার একটি দক্ষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরে ৮ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ এবং পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রাখার কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%