ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

দেশব্যাপী আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত।

আদালত রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সকল আসামির উপস্থিতিতে প্রায় ছয় বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের দ্বারা।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সকাল ১১টার দিকে ধর্ষণ মামলার সকল আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রায় আড়াই ঘণ্টায় রায় পড়া শেষ করে আদালত। রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে খালাস প্রদান করা হয় আদালতের পক্ষ থেকে। তারা সকলেই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি জানান যে, আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। আদালতের বিচারক এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এ ছাড়া চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

আসামি পক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি এবং ভিকটিমও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

আদালত সূত্র জানাচ্ছে, মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। আলোচিত মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এর আগে গত বুধবার (৮ জুলাই) আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে নারকীয় এই ঘটনা। ওইদিন সন্ধ্যায় ছাত্রাবাস এলাকায় ঘুরতে যান এক দম্পতি। সেই সময় স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত তরুণীকে (২০) গণধর্ষণ করা হয়। মামলার এজাহারের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বামীকে নিয়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী (২০)। ফেরার সময় তারা গাড়ি থামিয়ে ছিলেন নগরের টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে। স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে রেখে স্বামী পার্শ্ববর্তী দোকানে গিয়েছিলেন। ওই সময় প্রাইভেটকারটি ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ। প্রাইভেটকারসহ ওই দম্পতিকে তারা নিয়ে যায় বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীর সামনেই গাড়ির ভেতর সংঘবদ্ধভাবে তরুণীকে ধর্ষণ করে ছয় তরুণ। পরে তাদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে ধর্ষকরা এবং আটকে রেখেছে তাদের গাড়িও।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ঘটনার রাতেই নির্যাতনের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে নগরের শাহপরান থানায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং দু’জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এসএমপির শাহপরান থানায় মামলা করেন। প্রাইভেটকারটি আটকে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। মামলা দু’টি প্রথমে পৃথক চললেও পরে উভয় মামলা একসাথে চলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সন্দেহভাজন দু’জন ও এজাহারনামীয় ছয় জনসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গ্রেফতার আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি আদালত এই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকার্য শুরু করেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে

পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ রাজশাহী থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক যাত্রীই শিরোইল বাস টার্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ বিকল্প উপায়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহীর নওদাপাড়া ও শিরোইল বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। দুপুর ২টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা।

শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারগুলো খোলা থাকলেও কোনো বাস ছাড়ছে না। যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে টিকিট কিনতে আসা যাত্রীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুরগামী যাত্রী হালিমা বেগম (৫৫) জানান, তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। তার সঙ্গে দুটি ছোট শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, "এই ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কীভাবে ঢাকায় যাব? বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। আবার নওগাঁয় ফিরতেও অনেক কষ্ট হবে।"

জেলার বাগমারা থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিরোইল বাস টার্মিনালে আসেন রাফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, "আগে জানতাম না বাস চলাচল বন্ধ। কাউন্টারে এসে বিষয়টি জানতে পারলাম। এখন উপায় নেই, বাড়ি ফিরে যেতে হবে। বাস কখন চলাচল শুরু হবে, সেটিও কেউ বলতে পারছে না। তাই রাতে ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাওয়ার চেষ্টা করব।"

এর আগে, সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও নির্বাচন আয়োজন নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত কমিটিতে জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়।

শিরোইলের একতা ট্রাভেলসের বুকিং সহকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, "শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনায় বসেছেন। আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।"

এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সিয়াম হত্যামামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে থানার সামনের এলাকায় মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিহত সিয়ামের স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন সুষ্ঠু বিচারের জন্য আশ্বাস প্রদান করলে কর্মসূচি শেষ হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত সিয়ামের মা লাকী আক্তার, মামা রাজিব, বন্ধু জিসানসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা।

এসময় বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি গ্রেফতার হলেও মামলার অন্যান্য আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আবেদন জানান।

এ ছাড়া মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে শেষ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন যেন কোনো আসামি আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, বর্তমানে এই মামলায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকার ছাপড়া মসজিদের সামনে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের ফলে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিয়ামের মৃত্যু হয় ৯ জুলাই। নিহত সিয়ামের বাবা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন ত্রাণ, কৃষি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন ত্রাণ, কৃষি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানি নামতে শুরু করায় পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছিল। বন্যা আক্রান্ত ৮ জেলায় বর্তমানে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, বন্যার্ত এলাকায় তিনি যাবেন। বন্যায় কত টাকার ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। এদিকে, পাহাড়ের পাদদেশে অথবা পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য সমতলে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উল্লেখ করেন ত্রাণমন্ত্রী। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিনের সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ধানের বীজ ডুবে গেছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জমিতে বীজতলা তৈরি করা হবে। সেখান থেকে উপযুক্ত বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী এ সময় গৃহপালিত পশুর খাদ্য ও সুস্থতার ব্যাপারেও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গোখাদ্য এবং গো-রোগের বিষয়ে আমরা সচেতন আছি। তিনি এটাও জানান যে, দু’দিনের মধ্যে খড় ও ভূষিজাতীয় খাবার দেয়া শুরু করবে মন্ত্রণালয়। দুর্গত এলাকায় ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মৎস্যচাষীদের জন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহায়তা করার কথাও জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতিটি ভুক্তভোগী মানুষের ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। সাপের কামড়ে কেউ মারা যায়নি এবং প্রসূতি মায়েদের স্পিডবোটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সব মন্ত্রণালয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসাধ্য সীমিত সম্পদ দিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তারা বন্যা সংকটকে সুন্দরভাবে মোকাবিলা করছেন, এর কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী দুর্গত এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হলে যাবেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার সঙ্গে কর্মের সম্পর্ক নেই। তারা অলস বসে নেই এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে টিমের সদস্যরা সকলে কাজ করছেন।

আনুষঙ্গিকভাবে, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন যে, দুই একদিনের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে। চট্টগ্রামে পানি সম্পদ একটি প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে, যা এ বছরের শেষে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এতে চট্টগ্রাম সিটিতে জলাবদ্ধতার বিষয় থাকবে না বলেও তিনি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙামাটিতে বন্যার তাণ্ডবে কৃষি ও খামারে ৫১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


রাঙামাটিতে বন্যার তাণ্ডবে কৃষি ও খামারে ৫১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

টানা বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার ফলে রাঙামাটির কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে।

হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, ধ্বংস হয়েছে গবাদিপশু এবং পোলট্রি খামার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

কিছু স্থানে ফসলসহ জমি ডুবে গেছে, আবার কোথাও বীজতলা নষ্ট হয়েছে। শাক-সবজি, আদা, হলুদ, মরিচসহ একাধিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি এলাকার খামারিরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে দুটি খামারের আটটি গরু মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি এবং খামারনির্ভর প্রায় ৮ হাজার পরিবার এ দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, জেলার ১০টি উপজেলার কমবেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায়।

জেলায় মোট ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, রাজস্থলী উপজেলার বন্যার পানিতে দুই খামারির ৮টি গরু মারা গেছে।

এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রায় ৪২১ হেক্টর চারণভূমি নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং প্রায় তিন শতাধিক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে রাঙামাটি মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম বলেন, রাঙামাটিতে আলাদা করে উল্লেখযোগ্য মাছচাষ হয় না।

জেলার অধিকাংশ মানুষ কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আগেই ছাড়া পোনাগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল।

বন্যার কারণে কিছু মাছ ছড়িয়ে গেলেও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%