১১:১৪ এম
সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ফলে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে ইলিশের দাম কমেছে। এ কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে ক্রেতাদের মাঝে।
শ্রাবণের সকালে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরের মিরকাদিম মৎস্য আড়তের চেহারা রুপালি ইলিশের ঝিলিকে ভরে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মিরকাদিম মৎস্য আড়ত পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশে এ আড়ত পূর্ণ হয়ে আছে।
কিছু সপ্তাহের তুলনায় এখানে সরবরাহ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে দামে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম কমেছে প্রায় ২০০ টাকা। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে। ছোট ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দামের কিছুটা কমাতে খুশি ক্রেতারা মনে করছেন। আড়তে মাছ কিনতে আসা আব্দুল হালিম জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় আজকের ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও এখনও সস্তা বলা যাবে না, তবে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আশা করেন, সামনে যদি সরবরাহ আরও বাড়ে, তাহলে দাম আরও কমবে।
আরেক ক্রেতা রেজাউল করিম বলছেন, বর্ষাকালে ইলিশের জন্য অপেক্ষা করছেন। আজ তিনি কিছু শর্তে কিছু শ’ টাকা কমে একটি বড় মাছ কিনতে পেরেছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে আরও সরবরাহ বাড়াতে হবে।
আড়তদারদের মতে, জেলেদের জালে এখন আগের তুলনায় আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে আড়তে মাছের সরবরাহেরও বৃদ্ধি ঘটেছে। জাটকা সংরক্ষণে ৩০ জুন আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই ইলিশের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আরও বেশি মাছ আসতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিম মৎস্য আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার পরে জেলেরা নিয়মিত নদীতে মাছ শিকারে নামছেন। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়ে চলছে। তিনি আশা করেন, তবে নদী দূষণের কারণে মিঠা পানির মাছ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না, এটাও একটি বড় সমস্যা।
ইলিশ ছাড়াও আড়তে নদী-নালা ও খাল-বিলের বিভিন্ন ধরনের মাছের ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। আড়ত সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেচাকেনায় মিরকাদিমের ঐতিহ্যবাহী মাছের আড়তে প্রায় এক কোটি টাকা মাছ বিক্রি হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন