ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক রাতেই শেয়ালের কামড়ে ১৪ জন আহত


এক রাতেই শেয়ালের কামড়ে ১৪ জন আহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতের মধ্যে শেয়ালের কামড়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। আক্রমণের ফলে যারা আহত হয়েছেন, তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার(১১ জুলাই) রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা এবং শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় শেয়াল আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

শেয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে মো. আকাশ(১৩), নাঈম(১১), মাজেদা(৪৫), রোজিনা(৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী(৩৪), সাইফুন্নাহার(২৩) এবং আরাফ (১৪) উল্লেখযোগ্য। তবে আহত অন্যান্যদের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ভাংনাহাটি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া জানিয়েছেন, শ্রীপুর উপজেলার আশপাশের এলাকায় শাল-গজারি বনে ঘেরা অবস্থায় রয়েছে। ওই বনগুলোতে বিভিন্ন পশু, প্রাণী ও পাখির বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই শেয়াল বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। গতকাল রাতে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি কামিল মাদ্রাসার পাশে একটি বসতঘরে ঢুকে শেয়াল দুই নারীকে কামড়িয়ে আহত করেছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল রাতে শেয়ালের কামড়ে আহত ১৪ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষত পরিষ্কার করা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি বেশ কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে বনের শেয়ালের গর্তে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় শেয়াল স্থানীয় এলাকায় চলে আসছে। তিনি জানান, লোকালয়ে আসা বন্য প্রাণীর আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে, প্রাণীকে উত্ত্যক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। শেয়ালের কামড় বা আঁচড়ের পর অবশ্যই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করার বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


‘মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর থেকেই ঢাকা এবং বেইজিংয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিএমবিসি) সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই করিডোরটি চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই প্রকল্পে চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে এর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করতে হবে।

গেল জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’-এর প্রস্তাবটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ওই সফরেই ঢাকা ও নিজেদের তৃতীয় যৌথ ইশতেহার জারি করে বেইজিং। সেই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এই অর্থনৈতিক করিডোর। প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনা হলো— সড়ক ও রেলযোগাযোগের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সাথে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সংযোগ স্থাপন করা।

চীনের জন্য এই করিডোর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত পথ প্রদান করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও এই করিডোরের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বর্ধিত বিনিয়োগ, বাণিজ্যের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

তবে এই উদ্যোগটি একেবারেই নতুন নয়। এটি ১৯৯৯ সালে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার' (বিসিআইএম) করিডোরের পরিবর্তিত রূপ। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এবং অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে পরবর্তী সময়ে এই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। ফলে ভারতকে ছাড়াই এখন মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে এই করিডোর এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডোরের প্রস্তাব বাংলাদেশে বড় সুযোগ এনেছে। আবার একটি কঠিন সমীকরণের মুখোমুখিও দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশকে একই সাথে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে।

এদিকে, চীন এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বেশ তৎপর। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা এই করিডোরের একটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করছেন। পাশাপাশি, মিয়ানমারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দেশটির বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বেইজিং।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী। তবে দুদেশের বাণিজ্য চিত্র মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীন। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীন থেকে প্রায় ২২.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সক্ষম হবে না। যদি বাংলাদেশ নিজের শিল্প সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি পণ্য বাড়াতে না পারে; তবে এই করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশ উল্টো আরও বেশি চীনা পণ্যের বাজারে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রফতানি আয় এখনো তৈরি পোশাক ও শ্রমঘন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, উন্নত প্রযুক্তি, সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং বৃহৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে চীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ অবকাঠামো অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অংশ। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে। তবে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস সাপোর্ট, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টের মতো খাতগুলোয় বড় ঘাটতি রয়েছে। এসব অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা না হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন বা বাণিজ্য কেন্দ্র হওয়ার বদলে কেবল একটি ‘ট্রানজিট রুট’ হিসেবেই রয়ে যাবে।

এছাড়া, বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া জরুরি। অর্থনীতিবিদদের মতে, যেকোনো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বন্দর আধুনিকীকরণ, রফতানি অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়নের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

করিডোরের বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। প্রস্তাবিত রুটটি মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। যদিও সেখানে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে করিডোরের প্রস্তাবিত অঞ্চলের একটি বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে বা প্রভাবে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটও যোগ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগের যেকোনো উদ্যোগে যেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অবকাঠামো তৈরি হলে তা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পরোক্ষভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তাই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি ব্যাপকভিত্তিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন আবশ্যক।

করিডোরটিকে ঘিরে জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বিদ্যমান। কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংবেদনশীল সীমান্ত এবং কৌশলগত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর কাছাকাছি চীনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকাকে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

তবে বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কোনও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে বাংলাদেশের উচিত কেবল নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবের লাভ-ক্ষতি বিচার করা। লাওস-চীন রেলওয়ে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) অথবা শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের মতো প্রকল্পগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই অর্থনৈতিক সফলতা আসবে না। এর জন্য স্বচ্ছ অর্থায়ন, নিখুঁত সম্ভাব্যতা যাচাই, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থাকা সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হবে একবারে বড় ঝুঁকিতে না গিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া। আপাতত ছোট ও বাস্তবসম্মত যোগাযোগ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের প্রস্তাবিত এই করিডোরটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে রাখা যেতে পারে। একই সময়ে কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশে রফতানিমুখী চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, ঋণের স্থায়িত্ব (ডেট সাসটেইনেবিলিটি), পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমের মান এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট জাতীয় নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো যোগাযোগ প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই করিডোর আঞ্চলিক যোগাযোগে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখলেও, এর চূড়ান্ত সাফল্য কেবল সড়ক বা রেললাইনের ওপরই নির্ভর করছে না। বরং এটি নির্ভর করছে বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিকে কতটা শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিস্থাপক হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে, তার ওপর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, মা-দুই সন্তানসহ ৪ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, মা-দুই সন্তানসহ ৪ জন নিহত

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দ্রুতগতির একটি বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়, ফলে চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের মা ও তার দুই শিশু সন্তান।

এই ঘটনার মধ্যে আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কে পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের জানান, যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত একটি মিথিলা ভ্যান ডোমার থেকে জলঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পথিমধ্যে পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় এসে, পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের শক্তি এতটাই তীব্র ছিল যে, ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তায় পাশের দিকে ছিটকে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালকসহ চারজনের মৃত্যু ঘটে এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, নাদিয়াপাড়া এলাকার অলি বর্মনের ছেলে ও ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।

দুর্ঘটনার পরে গুরুতর আহত দুইজনকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ফুলে ওঠে। কিছু সময়ের জন্য ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করবে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লো বঙ্গোপসাগরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লো বঙ্গোপসাগরে

গভীর বঙ্গোপসাগরের জলপ্রবাহে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’। এই মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘সুন্দরী মাছ’ নামেও পরিচিত এবং এটি বিভিন্ন রঙের সমান্তরাল ডোরাকাটা আকর্ষণীয়।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার সময় মাছটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটার আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ‘সিফাত ফিস’ আড়তে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গভীর সমুদ্রে ‘মায়ের দোয়া’ নামক একটি ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় আধা কেজি ওজনের এই রঙিন মাছটি ধরা পড়ে।

ট্রলারের মাঝি মো. সেলিম বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অন্য মাছের সঙ্গে এটি জালে আটকা পড়ে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। দেখতে সুন্দর হওয়ায় আলাদা করে যত্ন করে তীরে নিয়ে এসেছি।’

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইনুল ও মৎস্যজীবী মো. হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রের মাছ দেখলেও এমন অদ্ভুত সুন্দর মাছ সচরাচর চোখে পড়ে না। খবর পেয়ে কৌতূহল থেকেই তারা এটি দেখতে এসেছেন।

সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সাধারণত এই উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায় না। সাধারণ বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদাও নেই। তবে এর অপূর্ব সৌন্দর্যের কারণে মাছটি সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।’

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লাইন্ড সার্জনফিশ’-এর বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাকানথুরাস লিনিয়েটাস। এটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘ব্লু-ব্যান্ডেড সার্জনফিশ’, ‘জেব্রা সার্জনফিশ’ ও ‘স্ট্রাইপড সার্জনফিশ’ নামেও পরিচিত।

এরা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উষ্ণ সামুদ্রিক এলাকার প্রবাল প্রাচীর (কোররাল রিফ) ও পাথুরে এলাকায় বসবাস করে। এ ধরনের মাছ মূলত সামুদ্রিক শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এদের লেজের গোড়ায় অত্যন্ত ধারালো একটি কাঁটা থাকে, যা দিয়ে এরা শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে।

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের (ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত) গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘এই মাছের লেজের গোড়ার কাঁটাটি বেশ বিপজ্জনক। আত্মরক্ষার সময় এটি দিয়ে আঘাত করলে মানুষের শরীরে তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন ও সুন্দরবন উপকূলসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে এদের দেখা মেলে।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলে এই মাছ সচরাচর ধরা না পড়লেও বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পরিবেশে এদের বিচরণ রয়েছে। তবে মাছটির লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা উচিত।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বাদে দেশের অন্যান্য সকল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলি পূর্বঘোষিত সূচি অনুসারে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই বোর্ডের অধীন সরকারি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলোর ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থগিত থাকবে।

রোববার (১২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলা ছাড়া) আওতাধীন সকল জেলার পরীক্ষা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্বের ওই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সেই অনুযায়ী ১৩ জুলাই (সোমবার), ১৫ জুলাই (বুধবার) ও ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাগুলি স্থগিত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%