০১:০৫ এম
দেশের চলমান গ্যাস সংকটেরপ্রেক্ষাপটে যদি মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়, তাহলে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (১ আগস্ট) 'রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও পরিবহনে গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে' এক সমাবেশের মাধ্যমে তারা এই হুঁশিয়ারি জানান।
এদিন বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারায় এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়ে। পরে সেখান থেকে তারা 'প্রতীকী মার্চ' করে পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে চলে যান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নীতিগত অনুমোদনের একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এই চিঠিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ৬৭ শতাংশ এবং পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিতে ৫১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থার বিতরণ চার্জ বাড়ানোর কথাও রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর আবেদন করবে। এরপর গণশুনানি করে বিইআরসি সিদ্ধান্ত নেবে।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ন আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সার্ক ফোয়ারায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে বলেন, 'জ্বালানি সরবরাহ এবং জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণের কথা থাকলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাসের মতো সংস্থাগুলো লুটপাটের সংস্থায় পরিণত হয়ে গেছে। পেট্রোবাংলায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। এর ভাগ মন্ত্রী থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।'
আরিফুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেই পাঁয়তারা যদি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে ঢাকাবাসীদের নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন অবরোধ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের বোনেরা রান্না করতে পারছেন না। এর প্রতিবাদে আমরা খালি বাসন ও পাতিল নিয়ে এসেছি। এগুলো নিয়ে আমরা পেট্রোবাংলা অভিমুখে মার্চ করছি।' গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করে জ্বালানি মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর সমাবেশে বলেন, ১০ আগস্টের মধ্যে যদি গ্যাস সংকট সমাধান না হয়, তাহলে মানুষ গ্যাস অফিস ঘেরাও করবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এ সময় তিনি জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেভাবে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে, সেভাবে গ্যাসের দামও যদি বাড়ানো হয়, তবে পেট্রোবাংলার টেবিল-চেয়ার খুলে আনা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ ও মিছিল শেষে ঢাকা উত্তর এনসিপির শীর্ষ নেতা আরিফুল ইসলাম জানান, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। আগামীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধেও বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন