বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
এক কিশোর কুমিল্লায় অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার অসাধারণ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। মাত্র ২০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্ত করে ১৩ বছর বয়সী মুহাম্মদ আরাফাত হোসেন হাফেজ হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার এ সাফল্যে এখন পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজমান।
আরাফাত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আকতার হোসেন ও শিখা আক্তার দম্পতির সন্তান। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম বারীয়া দরবার শরীফের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সদর ইউনিয়নের মুহিব্বানে রহমাতুল্লিল আলামিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল্লাহ সিকদার নিশ্চিত করেছেন তার হাফেজ হওয়ার বিষয়টি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আরাফাতের জন্মের পর থেকেই তার বাবা-মা তাকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। সেই লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের ১ মার্চ তাকে মাদ্রাসার নূরানী বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়। অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে, নিয়মিত অনুশীলন ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে, মাত্র ২০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা সম্পূর্ণ মুখস্ত করার গৌরব অর্জন করে।
শিশু হাফেজ মুহাম্মদ আরাফাত হোসেন জানান, "আমি সবসময় হুজুরদের দেয়া পড়ার চেয়ে বেশি পড়ার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, মা-বাবার দোয়া এবং ওস্তাদদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমি ৩০ পারা কোরআন মুখস্ত করতে পেরেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন বড় আলেম হয়ে ইসলাম ও মানুষের খেদমত করতে পারি।"
আরাফাতের বাবা মো. আকতার হোসেন বলেন, "ছেলেকে হাফেজ বানানো আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আল্লাহ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই, সে যেন দ্বীনি শিক্ষায় আরও সমৃদ্ধ হয়ে ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে।"
আরাফাতের হিফজ শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল্লাহ সিকদার বলেন, "শুরুর থেকেই আরাফাত অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় পড়াশোনায় অনেক বেশি আগ্রহী ছিল। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী, মনোযোগী এবং মেধাবী। নিয়মিত অনুশীলন এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কারণে সে এত অল্প সময়ে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২টি শিশুর মৃত্যু হল। একই সময়ে ৯৪৬ শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। তবে, এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪৭ শিশুর মৃত্যু ঘটে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৩১ শিশু। তাদের মধ্যে ৮৮ হাজার ৪১৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছে।
অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জন। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ শিশুর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর, ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসায় ভারতে যাত্রী পারাপার আবার শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের দ্বার পর্যটকদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম বাংলাদেশি এক ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
বন্দর সূত্র জানায়, দীর্ঘ বিরতির পর ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়া প্রথম এই যাত্রীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ায়। তিনি গত ২৮ জুন ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং ৮ জুলাই (বুধবার) ছয় মাসের মাল্টিপল ভিসা পান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে আখাউড়া বন্দর দিয়ে ভারতীয় যাত্রীরাই বাংলাদেশে বেশি আসছেন এবং তাদের অধিকাংশই মূলত ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, যেসব বাংলাদেশি ভারতে যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই চিকিৎসা ভিসায় (মেডিকেল ভিসা) যাচ্ছেন। ভারত সরকার নতুন করে ভ্রমণ ভিসা দেয়া শুরু করায়, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশি যাত্রী পারাপার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় ভারতে গেছেন। আগামী দিনগুলোতে হয়তো ভারতীয় ভিসা পাওয়া যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়বে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে ভারত। প্রায় দুই বছরের মাথায় সম্প্রতি আবারও ভ্রমণ ভিসা চালু করা হয়েছে। গত ২৮ জুন থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৮ জুলাই থেকে যাত্রীরা ভিসা পেতে শুরু করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পারস্য উপসাগরে প্রায় ৬,০০০ নাবিক আটকা পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান বুধবার (৮ জুলাই) সর্বোচ্চ সংযমের এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন, ‘এই হামলাগুলো জাহাজগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলো পারস্য উপসাগর থেকে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। এই আটকা পড়া প্রায় ৬,০০০ নাবিকের ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপকে আরও তীব্র করে তুলেছে।’
মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন জাহাজের ওপর ইরানি হামলার পর সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে, তবে তিনি আরও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এর পর ইরান পাল্টা হামলা চালানোর পর আবারও সংঘাত শুরু হয়।
এই কৌশলগত নৌপথটি সংঘাতের একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, যা ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।
এদিকে, তেহরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে অটল রয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে তারা যাতায়াতের জন্য মাশুল ধার্য করবে এবং অনুমোদিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছে।
ডোমিঙ্গেজ আবারও বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি জাহাজের ওপর গত দুই দিনের হামলার নিন্দা জানাই।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘নিরীহ নাবিকেরা মারাত্মক বিপদের’ মধ্যে রয়েছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানান, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে, অবিলম্বে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরে এখনো আটকে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুরে শ্বাশুড়ীকে হত্যার দায়ে জামাই হাউস আলী (৫২) কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের সময় মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন তালাক দেন জামাই হাউস আলীকে। এতে হাউস আলী ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার দিন, ২০১৬ সালের ৮ মে, হাউস আলী শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি ফুলসুরাতনের (৬৫) গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় পরে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনার পর বৃদ্ধার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন তার স্বামী হাউস আলীর বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে হাউস আলীর বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১) ধারায় হাউস আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশে দণ্ডিত হাউস আলীকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. শহিদুল ইসলাম এবং বাদী পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ