বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
দেশজুড়ে নিরাপত্তা, শতভাগ সিসিটিভি নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে দিয়ে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত প্রথম দিনের এই পরীক্ষা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র (আবশ্যিক), মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কোনো ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর ৯টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পূর্বে আলাদা প্রশ্নে বোর্ডভিত্তিক এ পরীক্ষা নেওয়া হতো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেছেন, ৯টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষা প্রথম দিনেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পরীক্ষাসংক্রান্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে মোট ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র ২ শতাংশ। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৪৬০টি কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৬৫৩ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১১টি কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৬০৩ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, সব বোর্ড মিলিয়ে প্রথম দিনে সার্বিক পরীক্ষার পরিবেশ ছিল সন্তোষজনক। তবে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব অবহেলার কারণে এদিন কোনো পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা নকলমুক্ত এবং স্বচ্ছ রাখতে এবার মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে ঢাকার কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তের কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে অনাকাক্সিক্ষত যানজট এড়ানো যায়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়ানো বা ফাঁসের চেষ্টা রুখতে সাইবার টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনব্যাপী এই লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে। পরীক্ষা না থাকার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মির্জানগর কদমতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়ক থেকে মিম আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেঘনা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত মিম আক্তার উক্ত মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচরণ নোয়াগাঁ গ্রামের বাবুল মিয়ার সন্তান। তার বিয়ে হয়েছিল পাশের মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর (লক্ষ্মীপুর) গ্রামের মো. সিয়ামের সঙ্গে। পারিবারিক সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে, তাদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পাশে একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে আঞ্চলিক সড়কের ওপর এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, তরুণীর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীতে একটি মুরগিবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন জোহান (৩৪) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।
পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। চালককে শনাক্ত করা এবং গ্রেপ্তারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল চালক জোহান ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত সেতুকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে দেখেন নিহত জোহানের মরদেহ পাশের পানিতে পড়ে রয়েছে, তখন পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দুজন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথেই এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির (ডিআইইউসাস) ষষ্ঠ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও সময় জার্নালের স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ আবুল খায়ের। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং ক্যাম্পাস টাইমসের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নুর ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুপুর ১২টা থেকে সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৩টায় নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করেছে।
নবগঠিত কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন— সহ-সভাপতি মো. আল শাহরিয়া সুইট, সাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুর রহমান ইমন, দপ্তর ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. হৃদয় এবং কার্যনির্বাহী সদস্য তালহা।
নির্বাচন পরিচালনা করেন ডিআইইউসাসের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজিউর রহমান। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুছা মল্লিক ও মাহমুদুল হাসান। এ সময় সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফলাফল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজিউর রহমান মন্তব্য করেন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি আশা প্রকাশ করেন যে তারা সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার মুছা মল্লিক বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে নতুন নেতৃত্ব ডিআইইউসাসকে আরও গতিশীল করবে বলেও তাদের বিশ্বাস।
ডিআইইউসাসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি কালাম মুহাম্মদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, প্রাণীর প্রতি সহিংসতা রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অপশক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। সেই মূল্যবোধকে মাথায় রেখে সরকার এমন রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া ও কবিতা নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নজরুল সম্পর্কে আলোচনা মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে না। কবির সাহিত্য, জীবনদর্শন ও মানবিক চেতনাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস হিসেবে কাজ করেছে। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এ কারণে তার জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উদ্বোধনী আয়োজনটি ভিন্নধর্মীভাবে করা গেলে আরও ভালো হতো। তাঁর মতে, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ নানা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নানাভাবে এতে অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ