বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০১ পি.এম
বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, প্রাণীর প্রতি সহিংসতা রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অপশক্তি রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। সেই মূল্যবোধকে মাথায় রেখে সরকার এমন রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই বাস্তবতায় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া ও কবিতা নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নজরুল সম্পর্কে আলোচনা মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে না। কবির সাহিত্য, জীবনদর্শন ও মানবিক চেতনাকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস হিসেবে কাজ করেছে। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতীয় কবি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এ কারণে তার জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, উদ্বোধনী আয়োজনটি ভিন্নধর্মীভাবে করা গেলে আরও ভালো হতো। তাঁর মতে, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ নানা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নানাভাবে এতে অংশ নেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি শেষ হওয়া চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক অর্জন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, ‘এই সফরের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো চীন-বাংলাদেশ কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপকে আরো গতিশীল করে তোলা, যাতে নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘উভয় দেশ উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি কৌশলগত সংলাপ ব্যবস্থা (স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ মেকানিজম) প্রতিষ্ঠা এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি ‘২+২’ সংলাপ ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।’
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন সবসময়েই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে এবং বাংলাদেশি জনগণের প্রতি ভালো প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অবিচল রয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক দিকনির্দেশনার প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি কখনোই নড়চড় হবে না। চীন সবসময়ই বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং ভালো অংশীদার থাকবে।’
ইয়াও-এর মতে, চীনই প্রথম দেশ যিনি কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় দলিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সমর্থন করেছে। অপরদিকে, বাংলাদেশও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবাহ করেছে এবং তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেছে।
আর্থিক সহযোগিতার বিষয় বৈঠকে তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চ-মানের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে, নিজেদের উন্নয়ন কৌশলগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে এবং গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগ সহযোগিতা সহজতর করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ চীনে তার প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং একটি কৃষি বাণিজ্য প্রটোকল। এগুলো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, গণমাধ্যম, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সবুজ উন্নয়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত চীনের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে বলছি, তিস্তা নদী প্রকল্পের বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তা নদী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য চীন তার সক্ষমতার মধ্যে সমর্থন ও সহায়তা দিতেই থাকবে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করবে। তিস্তা নদী বাংলাদেশের একটি প্রকল্প।’
প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’-কে একটি নতুন কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের বিষয়টি নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর আগে ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার’ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বার্থে চীন ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ নির্মাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এই সফরের সময়ে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা দ্বারা প্রভাবিত।’
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুদিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে বেইজিং পৌঁছান। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তারা বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাক্ষী হয়েছেন এবং একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে প্রথম বিদেশ সফর শেষ করে গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিং থেকে দেশে ফেরেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশুদ্ধ আকিদা ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণ কখনোই সম্ভব নয়। তাই সকল আলেম-উলামা এবং ইসলামপ্রিয় জনসাধারণকে আকিদাগত বিভ্রান্তি থেকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের কুরআন-সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত বিশুদ্ধ আকিদা দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন বাংলাদেশ আয়োজিত একটি আলোচনার সভায় বক্তারা এসব বিষয় উল্লেখ করেন। আলোচনার শিরোনাম ছিল "উম্মতের বিশুদ্ধ আকিদার হেফাজত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট"।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সভাপতিত্ব করেন। সভাটি যৌথ ভাবে পরিচালনা করেন মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ও মাওলানা হাসান জামিল।
সভায় বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা রশিদ আহমদ শিব্বির (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা লিয়াকত আলী, বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুনীর কাসেমী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, লালবাগ জামেয়ার মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাযী, মুফতি মুর্তজা হাসান ফয়েজি মাসুম এবং আরও অনেকে।
সভায় অন্যান্য উপস্থিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া, মাওলানা ইসমাইল বুখারী কাশিয়ানী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি দিলাওয়ার আশরাফী এবং আরও অনেক মাওলানা ও মুহাদ্দিস।
বক্তায়রা আরো বলেন, বর্তমানে উম্মতের বিশুদ্ধ আকিদা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানাবিধ বিভ্রান্তি, ভ্রান্ত মতবাদ এবং অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সহিহ আকিদার শিক্ষা সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া সময়ের অপরিহার্য দাবি। এই লক্ষ্যে আলেম-উলামা, খতিব, ওয়ায়েজ এবং দ্বীনি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তারা আরো বলেন, মুসলিম সমাজে ঈমান-আকিদার বিশুদ্ধতা রক্ষা, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রচার এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার অপপ্রচার প্রতিরোধে নিয়মিত দাওয়াতি কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনমূলক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাসেত খান উল্লেখ করেন, বিশুদ্ধ আকিদা একজন মুমিনের ঈমান, আমল ও চরিত্রের ভিত্তি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত কল্যাণের জন্য বিশুদ্ধ আকিদা অপরিহার্য। সকলকে আকিদাগত বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থেকে কুরআন-সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা দৃঢ়ভাবে ধারণ ও প্রচারের আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শত শত আলেম-উলামা, ওয়ায়েজীন ও দ্বীনি ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্থাটির কাছে নথিপত্র চেয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিসিবির কাছে নথি চাওয়া হয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য জানিয়েছেন। অভিযোগের তদন্তের জন্য মো. সাইদুজ্জামানকে দলনেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমার সমন্বয়ে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
বিসিবির সভাপতির পাশাপাশি পাপন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ছিলেন। দুদক জানায়, তার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত জামাতা ও অন্যান্য কর্মকর্তার যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বিসিবির কাছে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণে পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগ, দরপত্র, কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, বিল পরিশোধ, ব্যয় প্রাক্কলন, প্রকল্প অনুমোদন এবং ভূমি অধিগ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাপনের দায়িত্বকালে বিসিবির আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসির অর্থ প্রাপ্তির তথ্য, বিপিএল আয়োজন, লজিস্টিকস ও প্রটোকল ব্যয়, বিদেশি কোচ নিয়োগ, ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব-১০০’, এ. আর. রহমানের কনসার্ট, বঙ্গবন্ধু বিপিএল, অডিট ফার্ম নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের একটি ঘটনা বিশ্বজুড়ে ক্রীড়ামোদী এবং মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড টেটে ইয়ঙ্গি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্মের দীক্ষা নিয়েছেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার ঠিক আগে, নিজের শহর এডিলেইডের একটি মসজিদে জুম’আর নামাজ শেষে। সেখানে আকস্মিকভাবে উপস্থিত বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মুফতি মেঙ্কের হাত ধরে কালিমা শাহাদাহ পাঠ করেন এই উদীয়মান ফুটবলার।
টেটে ইয়ঙ্গি পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তার জীবনে কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিলেন। মসজিদে মুফতি মেঙ্কের সাথে হ্যান্ডশেক করার পর, যখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে শাহাদাহ পাঠ করা হয়েছে কি না, তখন ইয়ঙ্গি আর না করতে পারেননি। এভাবেই সেখানেই তিনি জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে খেলছেন। বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার আগে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তার অভিষেক ম্যাচেই একটি দুর্দান্ত গোল করেন, যা দলের ড্র নিশ্চিত করে। তাকে ১.৯৭ মিটার উচ্চতার ফরোয়ার্ড হিসেবে জানানো হয়েছে।
মূল পর্বেও জাতীয় দলের কোচ টনি পপোভিকের আস্থার প্রতিদান দিয়ে চলেছেন তিনি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তুর্কীর বিপক্ষে ২৪ মিনিট এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৭ মিনিট মাঠে থেকে দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই ফুটবলার জাপানি ক্লাব মাচিদা জেলভিয়াতে খেলছেন।
নিজের নতুন ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গর্বিত টেটে ইয়ঙ্গি জানিয়েছেন যে, তিনি তার আচরণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ইসলামের প্রকৃত এবং সুন্দর রূপ সবার সামনে ফুটিয়ে তুলতে চান। সূত্র: উইকিপিডিয়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রোফাইল ২০২৬, নুজুম স্পোর্টস ও কালবি স্টুডিওস ইন্টারভিউ, ফক্স স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ ডেটা, কাশমির নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ