রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ চীনের ইউনান প্রদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম-মিয়ানমার হয়ে ইউনানের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ইউনানে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত চালু করা এবং সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের কার্যকর সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, "প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।"
ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে এ প্রদেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ইউনানের প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে দুই অঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যাবে।
ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন বলেন, "দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে।" তিনি জানান, এর আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস, প্রদর্শনী কেন্দ্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সুবিধা দ্রুত কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউনানে রপ্তানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইউনানের সাথে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। কৃষি খাতে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ও ইউনানের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশেষ করে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান।
সিলেটের পুরনো কারাগারের জায়গায় পার্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটে একটি আধুনিক পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাণ গ্রুপ জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রাণ গ্রুপ
পদের নাম: এমটিও-এইচআর
পদসংখ্যা: ৫
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ম্যানেজমেন্ট, হিউমান রিসোর্সে ম্যানেজমেন্টে বিবিএ
অন্যন্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে এমএস অফিস (এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, ওয়ার্ড) ব্যবহারে দক্ষতা।
অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ২৭ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: ২৫,০০০ টাকা (মাসিক)
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাদশে সাতটি পরিবর্তন করেছেন। ইতালিয়ান এই কোচ কৌশলগত পরিবর্তন এনে ৪-৩-৩ ফরমেশনে দলের অনুশীলন পরিচালনা করেছেন।
রোববারের (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুশীলনে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ওতাভিও ভান্দেরসন, জাইর, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও মাউরো জুনিয়র, দানিলো, ব্রুনো গিমারায়েস ও গ্যাব্রিয়েল বোনতেম্পো, রায়ান, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
গত শুক্রবার টাউনসভিলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। ম্যাচের পর আনচেলত্তি একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে তিনি একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছেন।
তবে গোলরক্ষক পজিশনে এখনও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। রোববারের অনুশীলনে শুরুতে ওতাভিওকে মূল দলে খেলানো হলেও হুগো ও মরিসকোও এর আগে মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
আগের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে কেবল দানিলো, ব্রুনো গিমারায়েস, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জায়গা ধরে রেখেছেন। তবে রাফিনিয়ার ভূমিকায় এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। বার্সেলোনার হয়ে আক্রমণভাগের আরও ওপরে খেলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ডকে এবার সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে পরীক্ষা করছেন আনচেলত্তি।
বার্সেলোনার হয়ে চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন রাফিনিয়া। জাতীয় দলের জন্য তার বর্তমান ফর্মের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চান ব্রাজিলের কোচ।
অনুশীলনের শেষ পর্যায়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে আরও কিছু সমন্বয় পরীক্ষা করেন আনচেলত্তি এবং তার কোচিং স্টাফ। এ সময় আন্দ্রে সান্তোস, বিদোন ও মার্টিনেল্লি এবং লিনো, এন্দ্রিক ও এস্তেভাওকে নিয়ে বিভিন্ন কম্বিনেশন দেখা যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সোমবার ব্রাজিল আরও একটি অনুশীলন করবে। এরপরই ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা হবে।
ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে মঙ্গলবার। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এর নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খানসহ আইটিইটির কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। এরপর প্রধান অতিথি মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের কাছ থেকে আইটিইটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। শেষে অতিথি ও সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। রাতের খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিল্পখাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা শিল্পায়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে অপরিহার্য। তিনি বলেন, "বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, সরকার, শিল্পমালিক ও প্রকৌশলীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করা সম্ভব।
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, ‘আইটিইটি সত্যিকার অর্থেই যেন এই কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।' তিনি বলেন, "সময় এসেছে সত্য প্রমাণ করার—দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার।"
তিনি আরও বলেন, আইটিইটিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অর্থবহ সদস্যপদ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি যারা নির্বাচিত হননি, তাদেরও গঠনমূলক আলোচনায় নয়, গঠনমূলক অংশগ্রহণে যুক্ত করতে হবে।
এছাড়া তিনি টেক্সটাইল গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। এ তহবিল থেকে জ্বালানি দক্ষতা, অটোমেশন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও টেকসই উৎপাদন নিয়ে গবেষণায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জাতীয় টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যান্ড এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস ক্যাডার চালুর বিষয়েও সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানিতে বড় অবদান রাখছে। তিনি বলেন, "বিদেশে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গেলে দূতাবাসগুলোকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারি প্রতিনিধি নন, দেশের একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও।
তিনি কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্শিয়াল উইংয়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া হোক।" তিনি বলেন, "বিদেশের মাটিতে একজন টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সঙ্গে কারিগরি বোঝাপড়া, চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং দেশের কারখানার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা অনেক সহজ হবে।"
তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা আমার পুরো প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে যে ঋণে আবদ্ধ করেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন, "আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৭ জন দক্ষ ও পরীক্ষিত কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আপনাদের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, কার্যকর ও সদস্যবান্ধব নতুন আইটিইটি উপহার দিতে পারব।"
বক্তারা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার একটি তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।
মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমান। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।
‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।
লেখক: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ