ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরেবাংলা নগর ও মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জন গ্রেফতার


শেরেবাংলা নগর ও মুগদা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জন গ্রেফতার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও মুগদা থানার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে শেরেবাংলা নগর পুলিশ ও মুগদা থানা পুলিশ।

শেরেবাংলা নগর থানার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে, এই অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- ১। মোঃ হাকিম বাবু (৩২) ২। মোঃ আলাউদ্দিন (৩০) ৩। মোহাম্মদ আলী (২১) ৪। আহবাব নাদিদ জেনান (১৯) ৫। মোঃ রায়হান (১৯) ৬। মোঃ জাহিদ (১৮) ও ৭। মোঃ মামুন (২০)।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এছাড়া, মুগদা থানার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মুগদা থানার পুলিশ থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকার অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- ১। মোঃ মারুফ হোসেন রমজান (৩৯) ২। মোছাঃ পারুল বেগম (৩৫) ৩। মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫) ৪। বিষু ওরফে শাহ আলম (৪৫) ৫। মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৬) ৬। রাসেল (২৩) ৭। মোঃ ইয়াকুব খান (২৩) ৮। রাফি (২০) ৯। সুমাইয়া আক্তার (১৯) ১০। আরিফিন ইসলাম রনি (২৩) ১১। মোঃ সবুজ (২৬) ১২। মোঃ শফি (৩৮) ১৩। নুর মোহাম্মদ (২৬) ১৪। শ্রী রাম প্রসাদ দাস (৪০) ১৫। নুরুন্নবী (২৫) ১৬। মোঃ হালিম (৪৫) ও ১৭। মোঃ হৃদয় (৪০)।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫২ এম


আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি

একটি গুজবকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ায় সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর ন্যাক্কারজনক আক্রমণের ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছে।

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গত ৮ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বুধবার, সন্ধ্যায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামে চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃত রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে থানায় মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। রিয়াজ ফকির সে সময়েও ছিলেন মাদকাসক্ত। থানা হাজতে থাকাকালে তিনি মাদকের প্রভাবে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এর ফলে রিয়াজ ফকির অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রিয়াজ ফকিরকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে, উন্নত চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরের দিন অর্থাৎ ৯ জুলাই ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের নিজ এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়া মাত্রই কতিপয় ব্যক্তি আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ করে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপই নয় বরং বাংলাদেশে গড়ে উঠা নব্য “মব সংস্কৃতি”, যা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার প্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি। এটি মূলত একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।

বাংলাদেশে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে, যা শুধুমাত্র আইনগত দায়িত্ব নয় বরং একাধিক মানবিকতার উদাহরণের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, গুজব ও উসকানির প্রেক্ষিতে সংঘবদ্ধ হামলা বা মৰ সংস্কৃতি মূলত পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, যা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অন্তরায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে নিজেদের কায়েমী স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, আপনারা মিথ্যা তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করুন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন, কারণ এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ বরাবরের মতো তার পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এই সুমহান দায়িত্ব পালন করবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশ সুপার, ঢাকা জেলা শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরের সাজা এড়াতে ১৫ বছর পলিয়ে, শেষ রক্ষা হলো না মুলাদীর নান্নুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ এম


পাঁচ বছরের সাজা এড়াতে ১৫ বছর পলিয়ে, শেষ রক্ষা হলো না মুলাদীর নান্নুর

বরিশালের মুলাদীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নাসির উদ্দিন ওরফে নান্নুরাড়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে, যখন তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। নাসির উদ্দিন ওরফে নান্নুরাড়ী (৬০) সফিপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরডিগ্রী গ্রামের সবেদ আলী রাড়ীর ছেলে। দীর্ঘ সময়, প্রায় ১৫ বছর ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন, যা পুলিশ জানিয়েছে।

মুলাদী থানা পুলিশ জানাচ্ছে, নাসির উদ্দিন রাড়ীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এবং এর জন্য আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি, জরিমানা অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে আসামি গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেন এবং প্রায় ১৫ বছর পলাতক ছিলেন। পরে, আদালতের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। বুধবার রাতে মুলাদী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা, অবরুদ্ধ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ এম


বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা, অবরুদ্ধ ১৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্ধার

বরিশালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কয়েক ছাত্র অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।

এ ঘটনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. এস.এম মনিরুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপিপন্থী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বিরোধের জেরে গত তিন দিন ধরে এই ঘটনাটি চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরে তালা লাগানোর নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম। এর আগে গতকাল বুধবার, তাঁর নেতৃত্বে মনিরুজ্জামানকে টেনে বের করে পরিচালকের কক্ষে তালা দেওয়া হয়। পরিচালকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডা. সেলিমের নেতৃত্বে মেডিকেল কলেজের কিছু ছাত্র পরিচালকের দপ্তরে যান। সকাল বেলা পরিচালক তাঁর দপ্তরে আসার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে ছাত্ররা। এরপর ছাত্ররা ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।

কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এতে সহকারী পরিচালকসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেতরে আটকা পড়েন। এছাড়া, জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়া ৪ জন ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহির রায়হান পুলিশসহ বিকেলে তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন। জানতে চাইলে ড্যাব নেতা ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম জানান, পরিচালক ৫ দিনের ছুটিতে আছেন। অথচ বৃহস্পতিবার সকালে বহিরাগতদের নিয়ে দপ্তরে গিয়ে ছাত্রদের দেওয়া তালা ভেঙেছেন।

এতে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা আবারও ওই দপ্তরে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে তিনিও সেখানে যান। তিনি চলে আসার পরে ছাত্ররা তালা লাগিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, 'আমার অফিসে আমি গিয়েছি। ছুটি থাকলে যাওয়া যাবে না, এমন কোনো আইন নেই। বরং যিনি (ডা. সেলিম) গিয়েছেন, তিনি বহিরাগত। আগের দিনও তিনি বিপুলসংখ্যক বহিরাগত নিয়ে সরকারি অফিসে বিশৃঙ্খলা করেছেন।' স্বাস্থ্যের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, বেলা ১টার দিকে কয়েকজন প্রথমে দপ্তরে ঢুকে। পরে তারা প্রধান ফটকে তালা মেরে চলে যায়। তিনি নিজ কক্ষের মধ্যে থাকায় কারা গিয়েছিল বা তালা মেরেছে তা তিনি দেখেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হলে বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভাঙা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মব করে পরিচালকের কাজে বাধা: দ্বন্দ্বে অশান্ত বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০১ এম


মব করে পরিচালকের কাজে বাধা: দ্বন্দ্বে অশান্ত বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ

বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগে BNP সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব’র অন্তর্দ্বন্দ্ব-কোন্দলে অশান্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এই বিভাগে চিকিৎসক ডা. মনিরুজ্জামানকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ পাওয়ার পর ড্যাবের একটি গ্রুপ তাকে মব করে তার দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা। বর্তমানে পরিচালকের দপ্তরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বুধবার মনিরুজ্জামানকে বের করে দেওয়ার পর, বৃহস্পতিবার পুনরায় তালা দেওয়া হয় তার দপ্তরের প্রধান গেটে। ফলে, পরিচালক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন।

পরে অবশ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। ড্যাবের একটি গ্রুপ চাইছে, মনিরুজ্জামানের এই নিয়োগ বাতিল করা হোক। অপর গ্রুপের বক্তব্য, যদি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে নিয়োগ বাতিল করা হয় তাহলে তারা আন্দোলনে নামবেন। গত ৫ জুলাই, সরকার ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। তিনি ৬ জুলাই এই পদে যোগদান করেন। বুধবার, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) কিছুচিকিৎসক এবং শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালকের দপ্তরে যান শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম, যিনি সম্প্রতি অবসরে গেছেন। তিনি পরিচালকের কক্ষে ঢুকে লোকজন দিয়ে মব তৈরি করে ডা. মনিরুজ্জামানকে তার চেয়ার থেকে টেনে তোলেন। পরে তাকে দপ্তর থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এ সময় উপস্থিত ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং জেলার ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা সেলিমকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি শোনেননি। সেলিম ও তার সহযোগীরা পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে আবারো পরিচালকের দপ্তরে পৌঁছান সেলিমের সহযোগীরা। তারা দেখতে পান, পরিচালকের কক্ষে লাগানো তালা খোলা হয়েছে। তাই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তারা এবং দ্বিতীয় দফায় মব করে প্রধান গেটের তালা ঝোলানো হয়।

কয়েক ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকার পর তালা খুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, শেবাচিমে উপপরিচালক পদে থাকাকালে জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। তিনি ফ্যাসিস্ট আমলে স্বাচিপের নানা কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন। আগস্ট বিপ্লবের সময় তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই, তারা মনিরুজ্জামানের নিয়োগ মেনে নিতে রাজি নন। বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপের প্রয়োজন, কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।

শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, কেন্দ্রীয় ড্যাবের আজীবন সদস্য ডা. মনিরুজ্জামান। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে ড্যাবের নির্বাচনের যে কমিটি হয়েছিল, তাতেও তিনি ছিলেন। তিনি এবং সেলিম একসঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশগ্রহণ করেছেন। হঠাৎ কেন এ বিভক্তি দেখা দিল, তিনি বুঝতে পারছেন না। সম্ভবত ব্যক্তিগত জেলাসির কারণে এটি হতে পারে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেছেন, মব সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক চেয়ার থেকে দাঁড় করানোর ঘটনা দুঃখজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, শেবাচিমে উপপরিচালক পদে থাকাকালীন তিনি সরকারি নির্দেশ পালন ছাড়া কিছুই করেননি। সরকারি চাকরিতে থাকার সময় সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম। শান্তি সমাবেশের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তৎকালীন পরিচালক বাধ্য করেছিলেন তাকে সেখানে যোগ দিতে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%