মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত একটি সংঘর্ষের ফলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯) নামে এক শিশু। এই সংঘর্ষটি ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং জেএসএস (সন্তু লারমা) সমর্থিত সশস্ত্র দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকশ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। গোলাগুলির মধ্যে চাইল্যাতলী এলাকার বাসিন্দা শিশু সঞ্জিতা ত্রিপুরার বাম হাতে গুলি লাগে। পরে তার হাত থেকে গুলি বের করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকায় একটি কওমি মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ মাওলানা সাদেকুল ইসলাম (৩৫) নামে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজনগরের জান্নাতুল মাওয়া কওমি মাদরাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারী ছাত্রটি হবিগঞ্জ শহরের দি রোজেস স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আটক মাওলানা সাদেকুল ইসলাম নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম ওই ছাত্রকে কৌশলে মাদরাসায় নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রটি অভিযোগ করে যে, তাকে বলাৎকার করা হয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে যে, বিষয়টি কাউকে জানালে জিন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়েছিল।
পরে ওই ছাত্র মেসে ফিরে একজন সাংবাদিককে বিষয়টি জানায়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষকও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা বানিয়াচং উপজেলার সাঙ্গর গ্রামের আব্দুর রউফ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে, সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্যটি করেন।
আবু হানিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সরকার বর্তমানে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডার মুখোমুখি। একদিকে সংসদে থাকা বিরোধীদল বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি, পলাতক নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিদেশে বসে নিয়মিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ এবং বর্তমান বিরোধীদল সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর ক্ষেত্রে একত্রিত। এসব প্রোপাগান্ডার মোকাবিলার জন্য সরকারের উচিত দ্রুততার সঙ্গে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করা, কারণ বিলম্ব হলে জনগণের মাঝে ভুল বার্তা চলে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে।
আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ারীতে অবস্থিত ঢাকা খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি আদি ঢাকার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে।
এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন।
পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’
প্রশাসক আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে।
এ সময় কবরস্থানটির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরো অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রশাসক।
আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মহিপুরের ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারুক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন যে, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। পটুয়াখালীর মহিপুরে এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, এবং মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে।
ফারুক লিখিত বক্তব্যে বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় তিনি মাসুদ রানা, আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ফারুক জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। এরপর তাকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করেন। তিনি দাবি করেন, রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ-এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।"
পরে তার দুই বন্ধু, মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
ফারুক বলেন, "একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ হতে পারে না। ডিবি পরিচয় দিয়ে কাউকে তুলে নেওয়া এবং নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। আমরা এমন বর্বরতার অবসান চাই।"
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত মাসুদ রানা, রাশেদ ও আমিরুল ইসলাম ফাহিমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফাহিম জানান, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ