০৪:২২ পি.এম
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারো ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জলপাই ও পাইন বাগানে ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানাচ্ছে যে, ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের ইয়ারুন, আরনুন এবং বিন্ত জবেইল শহরের জলপাই ও পাইন গাছের ঘেরা এলাকায় ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করেছে। এ পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এবং কৃষিজমি ও বনাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাতভর গোলাবর্ষণের সময় এসব দাহ্য গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ফসফরাস গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে একটি বিমান হামলাও চালানো হয়েছে ইসরাইলি বাহিনী দ্বারা। এছাড়া, বুয়ুত আল-সাইয়াদ এলাকায় একটি ইসরাইলি ড্রোনের মাধ্যমে সাউন্ড বোমা ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে, সাদা ফসফরাসের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে, বেসামরিক লোকজন বা জনবসতির কাছাকাছি এ ধরনের দাহ্য অস্ত্র ব্যবহার গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
ফসফরাস বোমা ব্যবহারের সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল নিয়মিতভাবে বিমান, ড্রোন এবং গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। একইসাথে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরুর প্রস্তুতিও চলছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
কূটনৈতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইতালির রোমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, ইসরাইলি সেনার প্রত্যাহার এবং বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর কিছু দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামে লেবাননের বাসিন্দারা ফিরতে শুরু করলেও, পরিস্থিতি এখনও অস্থির। এলাকায় ইসরাইলি সেনা এবং নজরদারি ড্রোনের উপস্থিতি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বজায় রেখেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন