ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারাগার এখন মাদকসেবীদের নিশ্চিন্ত আস্তানা!


কারাগার এখন মাদকসেবীদের নিশ্চিন্ত আস্তানা!

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় আট বিঘা সরকারি জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে একটি উপ-কারাগার।

উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা, সীমান্তবর্তী এলাকার আসামিদের নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং জেলা কারাগারের ওপর চাপ কমানো। তবে নির্মাণের ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও একদিনের জন্যও চালু হয়নি এই উপ-কারাগারটি। এর ফলে মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই পরিত্যক্ত কারাগারটি। এই কারণে বেহাত হয়ে গেছে কোটি টাকার সরকারি স্থাপনাটি, যা আজ পরিণত হয়েছে এক পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কারাগারের ভবনগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালা-দরজা নষ্ট হয়ে গেছে এবং চারপাশ ঘিরে আছে ঝোপঝাড়। দীর্ঘদিনের অবহেলায় একসময়কার সম্ভাবনাময় সরকারি স্থাপনাটির এখন ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুরোনো নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২ দশমিক ৭৩ একর (প্রায় ৮ বিঘা) জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল বকশীগঞ্জ উপ-কারাগার। এখানে বন্দিদের জন্য ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, খেলার মাঠ ও একটি বড় পুকুর নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে নির্মাণ ব্যয়ের তথ্য বর্তমানে আর পাওয়া যায় না। তৎকালীন সময়ে বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জামালপুর জেলা কারাগারে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিতে হতো। সেই ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেই উপ-কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আর চালু হয়নি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনটি পরিণত হয়েছে অব্যবহৃত সরকারি সম্পদে। কারাগারের ভবন থেকে ইট খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির অভাবে কারাগারের কিছু অংশ অবৈধ দখলে চলে গিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পুরো জায়গাই বেদখলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে স্থাপনাটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে সংরক্ষিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

এদিকে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এত বড় সরকারি জায়গা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের দাবি ক্রমে জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এখানে একটি আধুনিক শিশু বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক, কোল্ড স্টোরেজ, স্টেডিয়াম, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরকারি কলেজ অথবা অন্য কোনো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে জেলখানাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু চালু না হওয়ায় এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মূল স্থাপনার ঐতিহাসিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে ভেতরে শিশু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এটি যেমন ইতিহাসের স্মারক হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি শিশুদের বিনোদনের নতুন ঠিকানাও হবে। এছাড়া এখানে একটি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে কৃষকরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. কনিকা খাতুন বলেন, ২০০৩ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে স্থাপনাটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর থেকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত জেলখানা, মাঠ ও পুকুরটি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে এটি জনগণের কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, বকশীগঞ্জের পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এটিকে জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটিকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা গেলে একদিকে রক্ষা পাবে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ, অন্যদিকে বকশীগঞ্জবাসী পাবে একটি যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় সেবাকেন্দ্র।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট ছিলেন: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট ছিলেন: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট ও নাৎসিরা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকলেও শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

আজ রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, নাৎসি হিটলার ও মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনজিং বা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। তবে তারা নিজেদের জাতিকে পৃথিবীজুড়ে শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা সরকারি জমি দখল করেননি। তার ভাষ্যে, তারা ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল। অন্যদিকে শেখ হাসিনার মূল এজেন্ডা ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে নিজের আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণে শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিশেষ এক চোরাপথে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতে দ্বিধা করেনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ছাত্র ও শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হয়েছেন। রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও নিহত হয়েছে। এছাড়া রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক বিশাল জাগরণ এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে সুপ্ত শক্তির পারমাণবিক বিস্ফোরণ। জনগণের এই শক্তি শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছেন। বিশ্বের দু-একটি দেশ ছাড়া কেউ সেই সরকারকে সমর্থন করেনি। তবুও তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে গণতান্ত্রিক প্রত্যয় রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে লড়াই করেছেন, সেই লড়াইয়ে তারা ভবিষ্যতেও শামিল হতে দ্বিধা করবেন না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


জামালপুরে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

জামালপুরের মাদারগঞ্জে আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি আবদুল ওয়াহেদকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর র‍্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল।

আবদুল ওয়াহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে, যখন র‍্যাব-১৪ জামালপুর সিপিসি-১ এর মাধ্যমে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অভিযানের আগে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলবেলা জামালপুর জেলা শহরের বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, র‍্যাব-১৪ এর জামালপুর সিপিসি-১ সূত্রে, গত ৪ মে মাদারগঞ্জ উপজেলায় আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আবদুল ওয়াহেদের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয় মাদারগঞ্জ থানায়। এর পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত আবদুল ওয়াহেদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে, র‍্যাব-১৪ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে নামে। পরে মঙ্গলবার, অবশেষে পলাতক আসামি আবদুল ওয়াহেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের পর, র‍্যাব জানায় যে আবদুল ওয়াহেদকে মাদারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জিত হবে: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জিত হবে: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যদি কোনো দেশ শুধু প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করে, তাহলে সেই দেশ সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীলই থাকবে। কিন্তু যে দেশ স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা এবং গণিত) শিক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বুঝতে সক্ষম হয়, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করতে পারে এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, সেই দেশই প্রকৃত অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জন করে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে জাপান সেই পথ দেখিয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশও প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই স্টেমভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আজ জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন ২০২৬- এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলি বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি শক্তিশালী স্টেম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি শেখানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং ছেলে-মেয়েদের প্রশ্ন করতে শেখানো, সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করা, ধারণাকে গভীরভাবে বোঝা, সমস্যা বিশ্লেষণ করা এবং মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতেই হবে মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ৭ কোটিরও বেশি এবং বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাথমিকে পড়ালেখা করছে। তবুও দেশের অর্থনীতি এখনো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এজন্য একটি বহুমুখী, জ্ঞানভিত্তিক এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টেম শিক্ষার শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করা অপরিহার্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় জাপানের ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। মেইজি পুনর্গঠনের সময় অথবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর উভয় ক্ষেত্রেই জাপান শিক্ষা, প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই ধারাকে অনুসরণ করতে চায়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক শিখন সংকট মোকাবিলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শিশুদের সাক্ষরতা, সংখ্যাজ্ঞান এবং মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি দৃঢ় শিক্ষাভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, স্টেম শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয়বহুল প্রযুক্তি সবসময় আবশ্যক নয়। একটি শিশুর লাগানো একটি গাছই হতে পারে জীববিজ্ঞান শেখার কার্যকর ল্যাবরেটরি। স্থানীয় পানির মান পরীক্ষা করা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা, কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণ করা অথবা নিজ এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার সহজ প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খোঁজা, এগুলি শিশুদের জন্য কার্যকর স্টেম শিক্ষার অংশ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব এবং মৌলিক রোবোটিক্স শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে চায়। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টেম শিক্ষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, আরটেক জেনারেল এক্সিবিশনে প্রকাশিত শিক্ষা উপকরণের পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত সহজ, মডুলার, ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী। এই উদ্ভাবনী মডেলগুলি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সহজেই অভিযোজিত হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী এবং বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়নযোগ্য শিক্ষাসমাধানগুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য মুখস্থ করাবে না, বরং সমস্যাকে শনাক্ত করতে ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করবে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনে তাদের সক্ষম করে তুলবে।

তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভাঙন, দ্রুত নগরায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, অটোমেশন এবং কৃতি বুদ্ধিমত্তার মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তবে এসব চ্যালেঞ্জ শুধু বাংলাদেশের নয় বরং বৈশ্বিক। তাই এসব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই।

বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী আরটেক, অক্টোব্রেইন, এই অনুষ্ঠান আয়োজক, অংশগ্রহণকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আরও সহনশীল, উদ্ভাবনী এবং সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে পারি।

অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে জেলা বিএনপি’র জুলাই পদযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


হবিগঞ্জে জেলা বিএনপি’র জুলাই পদযাত্রা

জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ - এই স্লোগান সামনে রেখে হবিগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পদযাত্রা করেছে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন।

বুধবার সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি পদযাত্রা শহরে অনুষ্ঠিত হয়।

পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, হুইপ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম তরফদার তুন, অ্যাড. নুরুল ইসলাম, হাজী এনামুল হক, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুবসহ বিএনপি’র অঙ্গ-সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এ সময় জিকে গউছ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।

এমনকি কথা বলা এবং রাজনৈতিক সভাসমাবেশ করার অধিকারও ছিল না।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জীবন যাপন করছে।

‘২৪-এর গণঅভ্যূত্থানে দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি আরও বলেন, फ্যাসिस्टরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে বসে এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%