মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৭ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পরে, একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আসাদুজ্জামান খন্দকার মাসুদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল ও নাহমুদুল হক রাছেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্যসচিব আলম জামান মিন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, "পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।" তারা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. হামিম খান নামের এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে, কারণ তারা তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ছেলের সন্ধানে অভাবের সংসারের সব কাজকর্ম ফেলে বাবা-মা পথে পথে ঘুরছেন।
নিখোঁজ হামিম খান সেহাংগল গ্রামের দিনমজুর মো. জাকির খানের ছেলে। সে স্থানীয় সুন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হামিমের মা মোসা. ছবি বেগম ঘরের বাইরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তিনি আড়াই বছর বয়সী ছোট ছেলেকে হামিমের কোলে দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলের কান্নার শব্দ শুনে ছবি বেগম ঘরে ফিরে আসেন এবং দেখেন, হামিমের কাছ থেকে ছোট ভাইটি মাটিতে পড়ে কাঁদছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হামিমকে কিছুটা বকাঝকা করেন।
এর কিছুক্ষণ পর হামিম স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দুপুরে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, স্থানীয় আব্দুর রহিমের অটোরিকশায় করে হামিম স্বরূপকাঠির দিকে যাচ্ছিল। এরপর স্বরূপকাঠি, কাউখালী উপজেলা এবং বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নেওয়া হয়। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতেও সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু তিন দিনেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর হামিমের মা ছবি বেগম নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা ছবি বেগম। তিনি বলেন, "শনিবার সকালে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দুষ্টুমি করার কারণে ছেলেকে একটু বকাঝকা করেছিলাম। এরপর সে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দুপুরে বাড়িতে না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। অনেক জায়গায় খুঁজেও তাকে পাইনি।" এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এদিকে দিনমজুর বাবা জাকির খানও ছেলের সন্ধানে কাজকর্ম বাদ দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হামিমের সন্ধান পাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, "হামিম নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বনানীতে একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী হাসান ইমাম সোহেল (৪৫) প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার সহকর্মী, যিনি মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
বনানী থানার এসআই জুয়েল বিশ্বাস জানিয়েছেন, সোহেল তার সহকর্মীর মোটরসাইকেলে চড়ে মোহাম্মদপুর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি ও সৈনিক ক্লাবের মাঝামাঝি স্থানে লাবিব পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে দুই আরোহীই রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান। সোহেল বাসটির সামনে পড়ে গিয়ে চাকায় পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। দুর্ঘটনায় আহত মোটরসাইকেলচালককে চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান বাসের চালক ও সহকারী। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। নিহত সোহেলের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিজের সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ার কারণে নিজের জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ।
মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল এই বিষয়ে জানান যে, শিশুদের পৃথিবীতে নিয়ে আসা অনুচিত, কারণ এর ফলে তাদের সারা জীবন ধরে বহু কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
রাফায়েল স্যামুয়েল বিষয়টি উপলব্ধি করেন যে জন্মের আগে কারও সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তিনি যুক্তি দেন, জন্ম নেওয়া আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না।
সুতরাং, যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় জন্ম নিতে চাননি, তাই আজীবন বেঁচে থাকার সব ধরনের খরচ মা-বাবারই বহন করা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সাধারণ কোনো পরিবারে এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পর্কের ইতি ঘটাতে পারত, তবে পেশায় আইনজীবী রাফায়েলের মা-বাবার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তারা বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মক ও ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার ছেলের সাহসের প্রশংসা করি যে মা-বাবা দুজনই আইনজীবী জেনেও সে আমাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি সে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে যে আমরা কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নিতে পারতাম, তবে আমি আমার ভুল স্বীকার করে নেব।"
স্যামুয়েলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা মূলত ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা ‘জন্মবিরোধিতা’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের অনুসারীদের মতে, মানবজীবন নানা দুঃখ-কষ্টে পূর্ণ; তাই মানুষের সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এতে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা সার্বিকভাবে এই গ্রহ এবং অন্যান্য পশুপাখির বেঁচে থাকার জন্য অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ (Nihilanand) নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের বেশ কিছু ডিজিটাল পোস্টার ছড়িয়ে দেন রাফায়েল। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করা এবং ক্যারিয়ার গড়তে চাপ দেওয়া কি অপহরণ বা দাসত্বের শামিল নয়?"
তবে স্যামুয়েল জানান, মা-বাবার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তিনি বলেন, তার জীবন বেশ ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত।
যদিও তিনি জানেন যে কোনো বিচারক এই মামলা গ্রহণ করবেন না, তবুও এই বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা ও আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান বলে জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম দুই ব্যক্তি, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একাধিক মাদক মামলায় জড়িত থাকার পরও জামিনে মুক্ত হয়ে তারা একই কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল ও হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে।
এ অবস্থায়, কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের নৈতিক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের থানায় ডেকে এনে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিনের তাবলিগ শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা থানায় ফিরে এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
তারা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "শুধু মামলা দিয়ে সব সময় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে তারা সমাজে ফিরে আসুক—এটাই লক্ষ্য।"
ওসির এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ