০৮:২২ পি.এম
এক ব্যক্তিকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পৃথক ধারায় তিন ভাইকে ১৯ বছর করে এবং তাদের বোনকে ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। তিন ভাইয়ের নাম রাশেদ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, টিপু হাওলাদার। তাদের বোন রেশমা বেগম। এ ঘটনার জন্য চার আসামিকে ৬ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাদের আরও ১১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ রায় সোমবার বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ ঘোষণা করেন। বিচারকের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাই পলাতক ছিলেন, কিন্তু তাদের বোন রেশমা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় মামলার বাদী আহিদা খাতুনের স্বামী শহিদুল ইসলাম একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি, যাকে সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শহিদুল ইসলাম ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শুক্রবারের অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শহিদুল ইসলামকে একটি কক্ষে আটক রাখা হয় এবং তার কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা না দিতে পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং পরে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
আহিদা খাতুন এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে কাউনিয়া থানার পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়। আদালত এ মামলার অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত রেশমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন