ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাকসু ভিপি: নির্বাচনী ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি


রাকসু ভিপি: নির্বাচনী ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি পেয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তির কাছাকাছি এসে রাকসু নেতারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের হিসাব তুলে ধরছেন। বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।

দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে আরটিভির সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছেন রাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভির রাবি সংবাদদাতা সায়েম চৌধুরী।

আরটিভি: রাকসু ভিপি হিসেবে আপনার দায়িত্ব কেমন চলছে?

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমি জনপ্রিয় নেতা হওয়ার জন্য নয়, বরং বড় নেতা হওয়ার উদ্দেশ্যও নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকে, তাদের আবাসন সমস্যা রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যাগুলো সমাধান না হবে, ততক্ষণ আমি শান্তি পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীরা এসে কান্নাকাটি করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আরও ভালো লাগতো।

আরটিভি: দায়িত্ব গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রাকসু কতটা সফল হয়েছে?

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমরা রাকসুকে শতভাগ সফল করার চেষ্টা করছি। আমাদের ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। কিছু কাজ প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত, তাই অল্প কিছু কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

আরটিভি: রাকসু পরিচালনা করতে গিয়ে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে?

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ভাতা এবং আবাসন সমস্যা। এই চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন। বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বাহিরে থাকে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী বাইরে রয়েছে।

‘এই ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় যে, এই সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করা যায়। হল তৈরি করাও সম্ভব নয়, কারণ হল নির্মাণে কয়েক বছর সময় লাগবে। এই কয়েক বছর কীভাবে চলবে? প্রতিমাসে যদি ভাতাও দেওয়া যায় ১ হাজার করে, তবে তাও কয়েক কোটি টাকা লাগে। সরকার কোন ফান্ড থেকে দেবে? কীভাবে দেবে, আমরা যোগাযোগ করছি। এই সমস্যাটিই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং।’

আরটিভি: নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে ১২ মাসে ২৪টি ইশতেহার দিয়েছি, যেখানে ১০৭টি কাজের কথা রয়েছে। আমাদের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি কাজগুলোর বেশিরভাগই চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

‘আমরা আশা করছি, মেয়াদের মধ্যেই অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তবে কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমরা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এর মধ্যে রয়েছে অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, পূর্ণাঙ্গ টিএসসি, অনাবাসিক এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন, হলগুলোতে ফ্রিজ দেওয়া, হলের মসজিদে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং হলগুলোতে জিমনেশিয়াম স্থাপন।’

‘হলগুলোর রিডিং রুমে এসি দেওয়া হয়েছে; তবে মসজিদগুলোতে এসি দেওয়া এখনও বাকি রয়েছে। আমরা বর্তমানে এসব বিষয় নিয়েই কাজ করছি। এর বেশিরভাগই প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কারণ আমরা চাইলেও অনাবাসিক ভাতার জন্য সরাসরি আমাদের ফান্ড থেকে অর্থ দিতে পারি না। একইভাবে জিমনেশিয়াম স্থাপনের জন্যও অনেক টাকা প্রয়োজন, যা আমাদের মূল ফান্ড থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে।

‘তবে যদি প্রশাসনের মাধ্যমে কোনো কারণে এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে কিংবা স্পন্সর ম্যানেজ করে, যেভাবেই হোক এসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইশতেহারের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরটিভি: অনেক শিক্ষার্থী রাকসুর কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: শিক্ষার্থীদের বড় চাহিদাগুলোর মধ্যে অনাবাসিক ভাতা অন্যতম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই সমস্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আমরা প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে দেখছি। অনেকে বিভাগীয় ফি দিতে পারছেন না, মেসের ভাড়া দিতে পারছেন না, এমনকি খাবারের টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না।

এই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করতে না পারায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। আমরা অনাবাসিক ভাতার বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। প্রশাসন যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসত, তাহলে আমাদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন শতভাগের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব হতো এবং শিক্ষার্থীদের হতাশাও অনেকাংশে দূর করা যেত বলে আমরা মনে করি।

আরটিভি: কিছুদিন আগে রাকসু কিছু প্রতিনিধি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসুকে সহযোগিতা করছে না। আপনি কি মনে করেন?

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের চরমভাবে অসহযোগিতা করেছে। প্রথমে যেমন অসহযোগিতা করেছে, এখন সেটি আরও বেড়ে গেছে। অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সংস্কার এবং ডাইনিংয়ে খাদ্য ভর্তুকির ব্যাপারে প্রশাসনকে আমরা বারবার বলেছি। কিন্তু প্রশাসন এসব ব্যাপারে বারবার ‘ইগনোর পলিসি’ অবলম্বন করছে এবং বিশেষ করে অনাবাসিক ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপই করছে না।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

আরটিভি: লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি থেকে কতটা মুক্ত থাকতে পেরেছে রাকসু?

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমরা রাকসুকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলেও আমাদের কাজগুলো দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য ছিল। কোন দল, মতকে আমরা বলি নাই যে, তোমাদের আমরা এই সেবা দেবো না।

আরটিভি: কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, এটা নিয়ে কিছু বলবেন?

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: এই বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে মিডিয়ায় এসেছে। এটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মূলত ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের উদ্দেশ্য সেই বক্তব্য ছিল।

আরও পড়ুন: মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কার

আরটিভি: বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। আরটিভির পাঠক ও দর্শকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের ২৬ ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের ২৬ ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে

বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের অফশোর জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান করেছে।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি সামিট’-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টেজে আয়োজিত মিনিস্টেরিয়াল সেশনে এই আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সামিটের মিনিস্টেরিয়াল সেশনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, বঙ্গোপসাগরের অফশোর সম্পদের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির কারণে দেশে জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চাহিদা পূরণে দেশীয় গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

এই বিডিং রাউন্ডে বঙ্গোপসাগরের ১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে। মোট ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সম্মেলনে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রবাহের কথা উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সহায়ক নীতির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপস্থাপনায় বঙ্গোপসাগরের অনাবিষ্কৃত অফশোর জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। আধুনিক সিসমিক তথ্যের সহজলভ্যতার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।

এ সময় ‘অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এর বিভিন্ন বাণিজ্যিক শর্ত উপস্থাপন করা হয়। এসব শর্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক ডেটা পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়।

চলমান অফশোর বিডিং রাউন্ডে অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লোরিডায় নকল ওজন কমানোর ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


ফ্লোরিডায় নকল ওজন কমানোর ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে নকল ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বিক্রির একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা চীন থেকে নকল ওজেম্পিক এনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবেশকের কাছে কম দামে বিক্রি করতেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী স্বপ্নদীপ রায় এবং ৩৭ বছর বয়সী ভিকি রামানচা রয়েছেন। উভয়ই ভারতের নাগরিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বাসিন্দা।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলীয় আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অভিযোগপত্র প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জানা যায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তারা চীনের অনুমোদনহীন প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে হাজার হাজার নকল ওজেম্পিক সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেন। পরে এসব ওষুধ কম দামে দেশটির বিভিন্ন পরিবেশকের কাছে বিক্রি করা হতো। সেখান থেকে তা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাত।

আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নকল ওষুধগুলোর মোড়ক, ভেতরের নির্দেশনা, লেবেল ও সূচ পর্যন্ত নকল করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্রেতাদের বিশ্বাস করানো যে তাঁরা অনুমোদিত ওজেম্পিক কিনছেন। আসল ওজেম্পিক তৈরি করে ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নোভো নরডিস্ক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর আদালতে হাজির হন স্বপ্নদীপ রায়। অপরদিকে, ভিকি রামানচা এখনো পলাতক রয়েছেন।

দুজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, পাচারের তিনটি অভিযোগ এবং নকল ওষুধ বিক্রি ও বিক্রির উদ্দেশ্যে নকল ওষুধ রাখার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৭১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নকল ওজেম্পিকের সরবরাহ নিয়ে আপত্তি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম না মানতে উৎসাহিত করতেন তারা। একটি বার্তায় তারা লিখেছিলেন, কম দামে পণ্য চাইলে কিছু নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে হবে। এছাড়া চক্রের সাথে জড়িত কয়েকজনকে তারা হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে কৌঁসুলিরা।

২০২৪ সালের মার্চে ভিকি রামানচা প্রায় ১১ হাজার নকল ওজেম্পিকের চালান যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হাজার হাজার নকল ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহ করা হয়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দেশটির ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় নকল ওজেম্পিক পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে ভোক্তাদের সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, নকল ওষুধের সংখ্যা বাড়ছে এবং এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত এই ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অপরাধবিষয়ক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন দুভা বলেন, বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত নকল ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তার দাবি, অভিযুক্তরা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আর্থিক লাভ করেছেন।

স্বপ্নদীপ রায়ের আইনজীবীরা মঙ্গলবারের শুনানি ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করে দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করে দুই বন্ধুর বিশ্ব রেকর্ড

লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি ছোট টুকরোকে একত্রিত করে সফলভাবে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। অবিশ্বাস্যভাবে, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু এই দ্রুততম সময়ে প্লাস্টিকের ব্লক ব্যবহার করে মানচিত্রটি তৈরি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

লেগো হলো প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ধরনের ব্লক, যা একটির সঙ্গে অন্যটি জোড়া দিয়ে বাড়ি, গাড়ি, রোবট বা বিভিন্ন অবয়ব তৈরি করা সম্ভব।

বিশ্ব রেকর্ড গড়া দুই তরুণ-তরুণী হলেন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট। গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ড শহরের ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি খেলনার দোকানে তারা এই রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। গিনেস সংস্থা মানচিত্রটি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবে আথেনা ও সেভি নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধঘণ্টা আগে কাজটি সম্পন্ন করেন।

এই বিরল সাফল্য অর্জনের আগে, প্রায় এক মাস ধরে লেগো দিয়ে বিশ্বের মানচিত্র বানানোর জন্য কঠোর অনুশীলন করেন এই দুই বন্ধু। ছোটবেলা থেকেই আথেনার প্লাস্টিকের খেলনা লেগোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে লেগো প্রেমের একটি সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি হয়।

লেগো দিয়ে গিনেস রেকর্ড তৈরির মূল ধারণাটি প্রথম আথেনার মাথায় আসে। গিনেস সংস্থাকে তিনি জানান, ছোটবেলায় লেগো তার কল্পনাশক্তি প্রকাশের জন্য দারুণ সুযোগ করে দিয়েছিল। এক বছর আগে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর, লেগোর প্রতি তাদের সমান ভালোবাসার কথা প্রথম জানতে পারেন।

এর আগে এককভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে বিশ্ব মানচিত্র বানানোর আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশের। ২০২৩ সালে তিনি ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে কাজটি সম্পূর্ণ করেছিলেন। আথেনা ও সেভি দুজন মিলে এই নতুন দলীয় রেকর্ড গড়লেও ক্ল্যারি ফারকাশের একক ক্যাটাগরির সেই বিশ্ব রেকর্ডটি এখনও বহাল রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে একজনের কাছেই মিলল সাড়ে ৩ কেজি খাঁটি সোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


যশোরে একজনের কাছেই মিলল সাড়ে ৩ কেজি খাঁটি সোনা

যশোরে এক যুবককে আটক করা হয়েছে, যিনি প্রায় সাড়ে ৩ কেজি সোনার মালিক ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২১ বিজিবি দপ্তরের একটি প্রেসনোটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আটক যুবকের নাম রিপন হোসেন (৪১), তিনি শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের সন্তান।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় বাগআঁচড়া বাজারের একটি মার্কেট থেকে সোনার বারসহ পাচারকারী রিপনকে আটক করা হয়। পরে যশোরের একটি দক্ষ জুয়েলারি দ্বারা যাচাই করার পর জানা যায় যে, উদ্ধার করা বারগুলো খাঁটি সোনা ও ২৪ ক্যারেটের।

এ বিষয়ে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রুদ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের বাবু সুপার মার্কেট থেকে রিপনকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার কাছে কৌশলে লুকানো অবস্থায় ২৬টি সোনার বার জব্দ করা হয়। যার মোট ওজন প্রায় ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম। এর বাজার মূল্য ৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৯০ টাকা।

তিনি আরও জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলা করে শার্শা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%