ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বান্দরবানে অস্ত্রসহ কেএনএর এক সদস্য গ্রেপ্তার


বান্দরবানে অস্ত্রসহ কেএনএর এক সদস্য গ্রেপ্তার

বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) এক সদস্য আটক হন। আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম যৌতলাং বম বলে জানা গেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই সদস্যকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানের পরে তাকে থানচি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এটি জানা গেছে যে, পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-মূল) সদস্যরা বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা ও থানচির দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন সংবাদ পাওয়ার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি আভিযানিক দল গত ২৮ জুন থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে এমন এলাকায়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। ধারাবাহিক এই অভিযানের অংশ হিসেবেই শনিবার সকালে থানচির দুর্গম এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএ সদস্যকে আটক করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার বলেন, ‘থানচির দুর্গম এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএ সদস্যকে আটক করা হয় এবং তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নোটিশ পেলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ, দাবি ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১২ পি.এম


প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নোটিশ পেলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ, দাবি ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করার অভিযোগে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফুয়াদের ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ঢাবির গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে জমা দেয়ার দাবি করা হয়েছে।

গত বহৃস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে এই নোটিশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের গত ৫০ থেকে ৭০ বছরের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদেরকে জাতীয় ক্ষতির জন্য দায়ী করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক এবং বিভাজন সৃষ্টিকারী বক্তব্যও দেন। এইসব মন্তব্যের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে নোটিশে জানানো হয়।

আগামীতে, নোটিশে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে এবি পার্টির মহাসচিবকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে মূলধারার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

সাথে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা ঢাবি গবেষণা তহবিলে জমা দেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে অর্থটি একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা যায়।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন (পিআইএল) দায়ের করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা

কেউ হারিয়েছেন একমাত্র উপার্জনক্ষম বুকের মানিককে, কেউ হারিয়েছেন আজীবন সুখ-দুঃখে পাশে থাকার জীবনসঙ্গীকে। সন্তান ও স্বজন হারানোর সেই দগদগে ক্ষত নিয়ে আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার বুকে জড়ো হয়েছিলেন তারা। একে একে যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বজনরা তাদের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করছিলেন, তখন মিলনায়তনজুড়ে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, যার রেশ ছুঁয়ে যায় উপস্থিত অন্যান্য অতিথিদেরও। রক্তক্ষয়ী সেই জুলাই-আগস্টের স্মৃতি আর বেদনার চাদরে ঢাকা পড়েছিল পুরো আয়োজন।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে শুরু হয় এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের ব্যানারে লেখা ছিল–‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মৃতিচারণা আর শ্রদ্ধার এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতারা।

সম্মেলনে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আত্মত্যাগ সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল রাজপথে নামার জন্য। জুলাইয়ে অংশগ্রহণ করা অনেকেই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার আর্জি জানাচ্ছি।’ ভাইয়ের হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক সংরক্ষণ করার আর্জি জানাচ্ছি। এই স্মৃতিগুলোই আমাদের শক্তি।’

নিহত ১৫ বছর বয়সি আলভীর বাবা আবুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানের বিচারের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারের নামে একধরনের প্রতারণা করেছে। এখন আমরা বর্তমান সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান ও সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করছি।’

একইভাবে আক্ষেপ ও বিচারহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করেন শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিক আলম। তিনি বলেন, ‘আদৌ আমরা সন্তানের বিচার পাব কি না, তা জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই, একজন সন্তান হত্যার বিচার হলেও আমরা শান্তি পাব।’

নিহত শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া স্মৃতিফলক সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলে তার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিল, এটাই তার অপরাধ ছিল। শুধু জুলাই না, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যারও বিচার করতে হবে। জুলাই শহীদদের কবরের নামফলক তৈরির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে আমাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই স্মৃতিফলকগুলো অবহেলায় রয়েছে। যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেখানে জুলাই শহীদদের নাম লেখা থাকে, তার সম্মান যেন বজায় থাকে।’

স্মরণ সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহীদ আবদুল্লাহ জামিলের মা ফাতেমা তুজ জোহরা বিগত দিনের অবহেলের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমার বড় ছেলে ৫ আগস্ট শহীদ হয়। এরপর আমার ১৩ বছরের ছোট ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ে এবং আমার স্বামীও মারা যান। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে যথাযথ সাহায্য পাই নাই। যাদের ডাকে আমরা সাড়া দিয়েছিলাম, তারা কেউ আমাদের কাছে আসে নাই। তবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও তারেক রহমান সবসময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে আহত যোদ্ধারাও নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। আহত শাহীন মালু বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুইভাবে আমাদের দেখেছে। তবে দেশ নিরাপদ থাকবে বিএনপির হাতে।’ অন্যদিকে ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত আমরা বিএনপি কর্মীরা কেউ পরিপূর্ণ চিকিৎসা পাইনি। আমরা ছাত্রদলের কর্মী হওয়ায় ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের কারণে আমাদের গেজেটে নাম ওঠানো বা মূল্যায়ন করা হয়নি।’

অনুষ্ঠানে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে স্মরণ করা হয়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন শেষমেশ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী সরকার উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নেয়। ৩৬ দিনের সেই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে পুরো দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে গুলি, টিয়ারশেল ও চরম বলপ্রয়োগ করা হয়। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রথমে ফেসবুক এবং পরে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হলেও তা হিতে বিপরীত হয়। ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত রক্তপাত শুরু হওয়ার ২০ দিনের মাথায় পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে, তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে, তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের অনেক দেশে চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গরম, খরা, অতিবৃষ্টি ও বন্যা।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব দ্রুত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও অধিক বাড়তে পারে।

ডব্লিউএমওর মুখপাত্র ক্লেয়ার নালিস জানিয়েছেন, বছরের সবচেয়ে গরম সময়ের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত সপ্তাহে জার্মানির তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, পূর্বাভাসে যোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন টিকিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু স্থানগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির পরিমাণ কম হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এই প্রভাবের মধ্যে ভারত মহাসাগরের আরেকটি জলবায়ুগত ঘটনা ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ও বিষয়টিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে সরকারগুলো এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর ফলে মানুষের এবং জীবিকার ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। সংস্থার কর্মকর্তা উইলফ্রান মুফুম্বা সিলভা বলেছেন, যেসব অঞ্চলে খরার ঝুঁকি রয়েছে, সেখানকার জন্য কৃষিকাজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থা এখন থেকেই নিশ্চিত করা উচিত।

এল নিনো সম্পর্কে বলা যায়, এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। সাধারণত, প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি ঘটে এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এটি সাধারণত বছরে মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় এবং বছরের শেষ দিকে সবথেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তবে ডব্লিউএমও জানাচ্ছে, এল নিনোর প্রভাব সব দেশের উপর একইভাবে পড়ে না। আবার এল নিনো বা লা নিনা না থাকলেও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম দামে কিনে বেশিতে বিক্রি, লাগেজে লুকিয়ে আসছে বিদেশি সিগারেটের চালান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


কম দামে কিনে বেশিতে বিক্রি, লাগেজে লুকিয়ে আসছে বিদেশি সিগারেটের চালান

অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্সের কারণে দেশে সিগারেটের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বিদেশি সিগারেটের চোরাচালান আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অনেক যাত্রীর লাগেজে আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। গত ছয় মাসে ২৫ হাজারের কাছাকাছি কার্টন সিগারেট এবং বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিবারই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফ্লাইট অবতরণ করলেই বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ হয়ে থাকে। তল্লাশিতে এমন অনেক লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ১০ থেকে ২০ কার্টন সিগারেট রয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি পরিমাণ সিগারেট বহন করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে ২৪ হাজার ৩৬৪ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যরা অত্যন্ত তৎপর রয়েছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্ক্যানিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ চোরাচালান হওয়া সিগারেট জব্দ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মে মাসেই জব্দ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৪৪ কার্টন সিগারেট। গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বাধিক ৬ হাজার ৫৪২ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া জানুয়ারিতে ১ হাজার ৯৯৭ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৩৩৪ কার্টন, মার্চে ১ হাজার ৪৫৬ কার্টন এবং এপ্রিলে ৪ হাজার ১৯১ কার্টন সিগারেট জব্দ করা গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী সর্বাধিক ২০০ শলাকা বা ১০ প্যাকেট সিগারেট আনতে পারেন। এর বেশি আনলে তা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়।

বর্তমান ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা একজন যাত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ২০০ শলাকা সিগারেট বহন করতে পারেন। কিন্তু শুল্ক আরোপের সুযোগ নেই, তাই বিদেশ থেকে আনা এসব সিগারেট দেশে বাজারে তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাচালান হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ডিউটি-ফ্রি বাণিজ্যের একটি বড় কেন্দ্র। সেখানে কম দামে কেনা সিগারেট শুল্ক ছাড়া দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দুই থেকে তিন গুণ লাভ হওয়া সম্ভব। এ কারণেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব সিগারেট দেশে আনার প্রচেষ্টা চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে নিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬২ টাকা থেকে শুরু হয়ে অতি উচ্চ স্তরের প্রিমিয়াম সিগারেটের দাম ২১০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিটি স্তরেই সরকার নির্ধারিত সম্পূরক শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে এসব সিগারেটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা। অথচ দেশে সেগুলো ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ কথা জানিয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন অন্তত ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি প্রতিটি যাত্রীর লাগেজে কার্যকরভাবে তল্লাশি চালানো যায়, তাহলে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%