ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে অস্ত্রসহ তিনজন গ্রেপ্তার, জব্দ বিভিন্ন সরঞ্জাম


রাজধানীতে অস্ত্রসহ তিনজন গ্রেপ্তার, জব্দ বিভিন্ন সরঞ্জাম

ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : রাজধানীর বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ মার্কেট-সংলগ্ন লিংক রোডে, পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক।

এই বিশেষ অভিযানটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন করা হয়।

শুক্রবার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল ইসলাম (৪০), মো. আজাদ (৩০) এবং মো. রাজন (৩৪)।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের ৪৬৪টি ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে চাপাতি, বড় ছুরি, সুইচ গিয়ার চাকু, কমব্যাট নাইফ, ইলেকট্রিক শক গান, চাইনিজ কুড়াল, ব্যাটন স্টিক এবং আসল আগ্নেয়াস্ত্রের আদলে তৈরি খেলনা পিস্তল।

উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধে ডিএমপির এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ বিলুপ্তির পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ বিলুপ্তির পথে

পার্বত্যাঞ্চলে অবাধে বাঁশকোড়ল (চারাবাঁশ) সংগ্রহ এবং নির্বিচারে বাঁশ নিধনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রাকৃতিক পেঁয়াবাঁশ, মূলিবাঁশ, মিতাবাঁশ, ওড়াবাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশের জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সুপরিচিত ছিল। কিন্তু বহুদিন ধরে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার, বাজারজাতকরণ এবং নির্বিচারে বাঁশ কাটার ফলে এসব বাঁশের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।

এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল কেটে আগুনে পুড়িয়ে জুমচাষ করার কারণে প্রাকৃতিক বাঁশবনও ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে মূল্যবান এই বাঁশসম্পদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এসব বাঁশ ব্যবহৃত হয়।

পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাদ্য। তারা বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে এটি সবজি হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বাঁশকোড়ল সমৃদ্ধ স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে। শুধু পাহাড়িরাই নয়, অনেক বাঙালিও বাঁশকোড়ল খেতে পছন্দ করেন।

স্থানীয়ভাবে বাঁশকোড়লের বিভিন্ন নাম রয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘মেহ্যাং’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘মেওয়া’, চাকমা ভাষায় ‘বাচ্ছুরি’ এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘বাচ্ছুই’ নামে পরিচিত। এটি মূলত বাঁশের গোড়া থেকে গজিয়ে ওঠা কচি ও নরম অংশের একটি নাম।

বন বিভাগ প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য বাঁশকোড়ল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এর ফলে বাঁশের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।

পাহাড়ি সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, পাহাড়িদের কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার এবং এটি তারা নিয়মিত সবজি হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ বন্ধ না হলে নতুন বাঁশ গজানোর সুযোগ এনসেস হবে। ফলে ভবিষ্যতে বাঁশের সংখ্যা কমে যাবে এবং বাঁশনির্ভর বিভিন্ন শিল্প ও প্রয়োজনীয় কাজে সংকট দেখা দেবে। তদুপরি, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ ও বাঁশ নিধন বন্ধে স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রয়োজন আছে।

বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাস সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ এই সময় বাঁশের বংশবিস্তারের মৌসুম। এর প্রেক্ষিতে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের উদ্যোগে প্রতিটি রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয়দের বোঝানো হচ্ছে যে, বাঁশকোড়ল সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে তারা বেশি উপকৃত হবেন এবং প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশসম্পদও রক্ষা পাবে।

তিনি জানান, পার্বত্যাঞ্চলের মূল্যবান বাঁশসম্পদ সংরক্ষণ ও নতুন নতুন বাঁশবন গড়ে তুলতেও বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা: ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা: ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

দিনাজপুর, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। কে কী মন্তব্য করেছেন বা কে কী করেছেন, সেই বিষয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ আমাদের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের মূল দায়িত্ব।

‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩ দিনব্যাপি বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি এবং সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সরকার জনগণের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অসহায় ও সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই। এজন্য দেশের প্রত্যেকটি উপজেলাতেই জনসাধারণকে বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত করতে বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রত্যেক নাগরিককে তাদের পছন্দমত ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ক্রয় করে নিজেদের বাড়ি আশেপাশে পতিত জায়গাতে রোপণ করার জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মেরামত ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে ২৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩৬ জন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ত্রাণের ১৩০ কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে ওসিকে ঘিরে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


ত্রাণের ১৩০ কম্বল আত্মসাতের অভিযোগে ওসিকে ঘিরে বিতর্ক

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জব্দকৃত চোরাচালানের কম্বল সংখ‌্যায় কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এই সঙ্গে তিনি কম্বলের গুণগত মান গোপন করেছেন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও ওসি মনির ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।

একাধিক মামলার নথিপত্র, এসএমপি কমিশনারের চিঠি ও সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে এসব তথ্য জানতে পারেন। তথ্য সূত্র জানায়, কম্বল আত্মসাতের ঘটনায় এসএমপি কমিশনার, মোগলাবাজার থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনকে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করে একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য, চুরির সময়ের ছবি ও নানা বিশ্লেষণে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

কমিশনারের চিঠির তথ্য অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (মামলা নং: জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫৬০ পিস দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) দামি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। তবে ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি জব্দতালিকায় ৫৬০ পিসের বদলে মাত্র ৪৩০ পিস কম্বল এজাহারে দেখান। এ ছাড়াও কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট না ডাবল পার্ট, এ বিষয়ে জব্দতালিকায় সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

তদন্তে দেখা যায়, সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮ পিস এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কিনে নেন। পরে তার কাছ থেকে দুই ব্যবসায়ী আরমান হুদা ২২৮ পিস এবং মো. সেলিম আহমদ ৪৩০ পিস কম্বল কিনে নেন। এরপর আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০ পিস কম্বল আসলে শাহপরান থানার মামলার নিলামের কম্বল। ওসি মনিরের পরিকল্পনা ছিল, আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করা এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০ পিস কম্বল নিজেদের জন্য আত্মসাৎ করা।

এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন। আদালত আলামতের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে কাজী তোবারক হোসেন সরেজমিন থানায় রক্ষিত কাভার্ড ভ্যানের কম্বল গণনা বা পরীক্ষা না করেই চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়লে আদালত নতুন করে কম্বল গণনা ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি মোগলাবাজার থানার কম্পাউন্ডে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিস্তরবিশিষ্ট ৫৬০ পিস দামি কম্বল পায় এবং কমিটি পরে আদালতকে অবহিত করে।

গত ৯ মার্চ আদালত তোবারক হোসেনকে সশরীরে হাজির হয়ে কৈফিয়ত দিতে বলেন। শুনানি চলাকালে তিনি জানান যে, তিনি জনৈক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তার অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এসএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠান। এসএমপি পরে তাকে কৈফিয়ত তলবনামা পাঠান এবং তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অপেশাদারিত্ব, অদক্ষতা, গাফিলতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

তবে এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত নায়ক, সেই ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছিল। সব কম্বল থানার হেফাজতে ছিল এবং পরে সেগুলো আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসএমপি কমিশনারের একটি চিঠিতে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে যে, ওসির মদদে ও নির্দেশে কম্বল চুরি হয়েছে। কমিশনার কেন এটা লিখেছেন, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, কেউ কারও বিরুদ্ধে লিখলে তো আর কম লিখে না। তাই তিনি লিখেছেন।

এ বিষয়ে এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, আমি ওসি মনিরের সঙ্গে কথা বলব এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা পুঙ্খানাপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রথমে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, রাজপথে ‘জেন আলফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


ভারতে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন, রাজপথে ‘জেন আলফা

ভারতের বিহার রাজ্যে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার এগিয়ে পদযাত্রা করে মহকুমা প্রশাসকের (এসডিএম) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাকে অনেকে ‘জেন আলফার আন্দোলন’ নামে চিহ্নিত করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, মঙ্গলবার বিহারের গয়া জেলার টিকারি মহকুমার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে টিকারি সাব-ডিভিশনাল অফিসে উপস্থিত হয়ে অবস্থান নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসডিএম কার্যালয়ের সামনে বসে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেটগুলো অস্বাস্থ্যকর, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান এবং বিদ্যুৎ সুবিধা নেই, মিড-ডে মিলের মান খুব নিম্নমানের, সময়মতো ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয় না এবং পাঠদানের পরিবেশও তাদের মতে সন্তোষজনক নয়।

ঘটনার পর টিকারির এসডিএম প্রবীণ কুন্দন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে সহকারী জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা চন্দন কুমার, নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ সিং এবং ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা যোগেন্দ্র পাসওয়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি ঘটনার সময় এসডিএম মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তিনি ফিরে এসে তিনজন ছাত্রীসহ মোট ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলনের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%