০১:৫২ এম
এক কিশোরীকে তরুণ বয়সে ভালোবেসেছিলেন তিনি। কিন্তু যখন প্রেমের প্রস্তাব পাঠান, তখন ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেই প্রত্যাখ্যানের কষ্টের কারণে দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে এক যুবক লোকালয় ছেড়ে গহীন জঙ্গলে একাকী বসবাস করছেন। ঘটনাটি ঘটছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের কৃষক ছোট্ট বড়ালের ছেলে পলাশ বড়াল জীবনের ব্যর্থতার কারণে জঙ্গলজীবন বেছে নিয়েছেন। তিনি গাছগাছালিতে ঘেরা নিজেদের নিঝুম জঙ্গলে সুপারি গাছ ও কাদামাটি দিয়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করেছেন। সেখানেই তার বসবাস অব্যাহত রয়েছে। ঘরের পাশে ছোট একটি পুকুর কেটেছেন তিনি। দীর্ঘ ১৫টি বছর এভাবেই পলাশ নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তরুণ বয়সে পাশের গ্রামের এক কিশোরীকে ভালো লাগেন পলাশের। কিন্তু যখন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন, তখন ওই কিশোরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকে মনের কষ্টে জঙ্গলে একাকী জীবন যাপন করতে শুরু করেন তিনি। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারিবারিকভাবে বিয়েও দেয়া হয়। কিন্তু জঙ্গলে বাস করার কারণেই বিয়ের এক বছরের মধ্যেই পলাশের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আবারও সেই জঙ্গলে একাকী জীবনযাপন শুরু করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
তবুও, পলাশ বড়াল জানান, তিনি এখনও মানুষকে ভালোবাসেন। নিজের এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে দোষ না দিয়ে বরং নিজের ভাগ্যকেই দোষারোপ করছেন জঙ্গলবাসী এই যুবক। তিনি বলেছেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিই না, আমার ভাগ্যই এমন।’ বর্তমানে পলাশের বয়স ৩৮ বছর এবং তিনি তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। এলাকাবাসীর মতে, তিনি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন