০৬:৪৬ পি.এম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আতাউর রহমান আতা মিয়াকে (৬০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিট। আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গাজীপুরের পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রকিবুল আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া চালার বাজার গ্রামের রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) এবং একই উপজেলার মির্জানগর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নকিবুল হাসান, যাকে ওরফে রাকিব বলা হয় (২৪)।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেলে আতাউর রহমান নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন রাত ৮টার আগে কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি নির্জন কলাবাগানে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা তাকে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে অটোমোবাইলটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। আতাউর রহমানের একমাত্র সন্তানের মৃত্যু খবর শুনে তার মা জহুরা খাতুন হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। একই দিনে মা ও ছেলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার গুরুত্বের দিকে লক্ষ্য রেখে গাজীপুর পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে কাপাসিয়ার চালাবাজার ও নরোত্তমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। চোরাই অটোরিকশা কেনার অপরাধে কিবরিয়া (৪২) নামে এক দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, তারা ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। আসামি নকিবুল চালক আতাউর রহমানের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাকে খুব সহজেই ‘টার্গেট’ করে। ঘটনার দিন কৌশলে আতা মিয়াকে নির্জন স্থানে ডেকে নেয় তারা। সেখানে রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। পরে অটোরিকশাটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং অটোরিকশা বিক্রির নগদ ২২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার বলেন, একজন নিরীহ চালককে হত্যা এবং তার মায়ের মৃত্যুর এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। অপরাধীরা ভেবেছিল নির্জন স্থানে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু পিবিআই দ্রুত সময়ে আসামিদের ধরতে সক্ষম হয়েছে। আদালতে দ্রুততম সময়ে নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করার অভিপ্রায় জানিয়েছে তিনি।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন