ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাকে মারধরের ঘটনায় প্রতিশোধ, ভাড়াটিয়া খুনে ৪ ভাই গ্রেফতার


মাকে মারধরের ঘটনায় প্রতিশোধ, ভাড়াটিয়া খুনে ৪ ভাই গ্রেফতার

ময়মনসিংহ নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার আলোচিত রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে ‘কাইল্যা রুবেল’ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর দ্বারা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাড়িওয়ালাকে মারধর করা ও শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতে ওই নারীর চার ছেলে মিলে ভাড়াটিয়া রুবেলকে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার এক দিনের মধ্যেই জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

পিবিআই জানায়, নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা পারুলের বাসায় প্রায় এক মাস আগে একটি কক্ষ ভাড়া নেন রুবেল। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন ও কেনাবেচা করতেন। এ নিয়ে বাড়ির মালিক পারুল সহ তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রুবেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে, পারুল তাকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে রুবেল প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলে জনির কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর করেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির বিষয়টি অন্য তিন ভাইকে জানান পারুলের ছেলে জনি।

এরপর পূর্ববিরোধ এবং মাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে চার ভাই একত্রে রুবেলের ঘরে যান। সেখানে তাকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর পালিয়ে যান তারা।

এই হত্যার ঘটনায় রোববার রাতেই নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাড়িওয়ালা পারুল বেগমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দফতরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার গভীরে আরও কিছু রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চালুর বছর না পেরোতেই বন্ধ সিলেটের ৩০ কোটি টাকার ফ্রি ওয়াইফাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


চালুর বছর না পেরোতেই বন্ধ সিলেটের ৩০ কোটি টাকার ফ্রি ওয়াইফাই

২০১৭ সালে সিলেটকে দেশের প্রথম স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। এই প্রকল্পটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) দ্বারা বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নগরজুড়ে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা প্রদান করা। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন অচল অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে সিলেট নগরীর ৬২টি স্থানে ১২৬টি ওয়াইফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট চালু করা হয়েছিল। তখন ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রতিটি পয়েন্টে একসঙ্গে ৫০০ জন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ১০ এমবিপিএস গতিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুর মধ্যেই ধীরগতির সংযোগ, বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

বর্তমানে বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, টিলাগড় সহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত ওয়াইফাই ডিভাইসগুলো সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই প্রকল্পটি এখন শুধু নামেই আছে, বাস্তবে এর কোনো সেবা নেই। তারা দাবি করছেন, এটি জনগণের অর্থের স্পষ্ট অপচয় এবং এ বিষয়ে দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০২১ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিসিসি ওয়াইফাই জোনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দেয়। তবে পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল না থাকায় সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি সচল রাখতে পারেনি। ফলে মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে না পেরে এই সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ের অধিকাংশ মূল্যবান যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হয়ে গেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সময় সংবাদকে বলেন, 'প্রকল্পটির নকশাগত ত্রুটি ছিল। ফলে এক বছর সেবা চালুর পর সেটি আর টেকসই হয়নি। প্রকল্প পরিকল্পনার সময় দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।'

অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেন, 'বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নির্দেশনা দিলে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

স্মার্ট সিটির যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল, তার বড় অংশই এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোটি টাকার এই প্রকল্পে যেমন কোনো সেবা নেই, তেমনি নেই কোনো কার্যকর জবাবদিহি। ফলে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই অপরিকল্পিত বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, নাকি জনগণের অর্থ অপচয়ের আরেকটি বৃহৎ নজির। বর্তমানে এই পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও উত্তর খুঁজছেন সিলেটবাসী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহফুজ আলমের পোস্ট: ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


মাহফুজ আলমের পোস্ট: ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ’

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উগ্র ডানপন্থী বা ‌‘ফার-রাইট’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাইট উইং এক্টর আর কুশীলবদের ফার-রাইট এলেমেন্টস ইউজ করার ভয়ঙ্কর খেলা এখন কোন পর্যায়ে আছে? মব সন্ত্রাস, মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলায় ওদের মার্সেনারি হিসেবে ব্যবহারের ভেতর দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা শেষ। এখন হাত ধুয়ে ফেলবে জাশি-রাইট উইং বলয়!

তিনি লেখেন, গত দুই বছর কীভাবে ফার-রাইট এলেমেন্টস কথিত রাইট-উইং কুশীলবদের দ্বারা সৃষ্ট-পুষ্ট হইল, সেকুলার-মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই নিয়ে বীতশ্রদ্ধা তৈরিতে ভূমিকা রাখলো এবং কাদের আশকারায়-‘শরিকানা’য় এসকল ফার-রাইট এলেমেন্টস জুলাইকে একটা ‘ইসলামি’-‘ঐতিহ্যবাদী’-‘পুনর্জাগরণবাদী’ বিপ্লব বানানোর স্বার্থে অনলাইনে-অফলাইনে বেমেসাল মব-নৈরাজ্য চালালো-সেসব আশা করি বিজ্ঞজন বলা শুরু করবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, আমি গত বছরের শুরু থেকেই এসব ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র আর ডিজিটাল মবের বিরুদ্ধে বলেছি। সেজন্য কুশীলবদের চক্রান্ত এবং ফুটসোলজারদের দৌরাত্ম্য কম সহ্য করতে হয়নি। 

 

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ জেলেকে বহনকারী ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


১১ জেলেকে বহনকারী ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবেছে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ১১ জন জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ৬ জন নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।

সন্ধ্যা বেলায়, রোববার (৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের নাম উল্লেখযোগ্য হল— বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫)।

এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খা (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।

উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ জানান, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ১১ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার জন্য বঙ্গোপসাগরে যায়। পরে রোববার রাতে সাগরে প্রবল স্রোত ও বড় ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। তাঁরা ট্রলার ও একটি বয়া ধরে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি ট্রলার তাঁদের উদ্ধার করে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক জানিয়েছেন, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার পর রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুর পৌরসভা দুর্নীতি ও কোন্দলে বিপর্যস্ত, ২৬০ কিমি সড়ক অচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


পিরোজপুর পৌরসভা দুর্নীতি ও কোন্দলে বিপর্যস্ত, ২৬০ কিমি সড়ক অচল

দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় কোন্দলের কারণে বিগত কয়েক বছরে পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়ার ফলে প্রকৃত সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়ার পরও এখানকার অধিকাংশ সড়ক দেখে মনে হয় যেন এটি গ্রামের কোনো কাদা-মাটির রাস্তা। বড় বড় খানাখন্দে জমে থাকা পানি রাস্তাগুলোকে এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য করে তুলেছে। পৌরসভার মোট ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৬০ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে ভাঙা ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই কারণে বর্ষা মৌসুমে লক্ষাধিক পৌরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তি হচ্ছে, আর সড়কে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

পৌরসভা সূত্রে নিশ্চিত করা যায়, ১৯৯০ সালে পিরোজপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়, কিন্তু সময়ের পরেও এখানকার নাগরিক সুবিধা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসভায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশই বর্তমানে ভাঙা ও বেহাল দশার শিকার। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি এখন পৌর এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে এই ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক রয়েছে ৩৫-৪০ কিলোমিটার, এবং চলাচলের উপযোগী রয়েছে মাত্র ৯০ কিলোমিটার। বাকি ২৬০ কিলোমিটার সড়কই এখন চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

পৌরসভার রায়েরকাঠি এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, 'পৌরসভার ভিতরে যতগুলি রাস্তা রয়েছে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দে ভরা। আমরা পৌরবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগের মধ্যে চলাফেরা করে আসছি। ভাঙা রাস্তায় রিকশা অথবা অটোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। কবে নাগাদ রাস্তাগুলি ভালো হবে তা হয়তো আমরা দেখে যেতে পারব না।'

একই ধরনের সমস্যার শিকার পৌরসভার পালপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডিম ব্যবসায়ী সিরাজুল। তিনি তার কষ্টের ঘটনা জানিয়ে বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে পাইকারি ডিম সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ভাঙার কারণে ঝাঁকিতে ৮-১০টি ডিম প্রতিদিনই ভেঙে যায়। যার ফলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খারাপ থাকার কারণে আমার ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখতে পারছিনা।'

পৌরসভার এই বেহাল দশার জন্য সাধারণ পৌরবাসী কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তবে এই প্রসঙ্গে পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন জানান, পর্যাপ্ত ফান্ড বা বরাদ্দ না থাকার কারণে সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নাগরিক সুবিধা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, 'বরাদ্দ না থাকার কারণে সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%