০৭:২৩ পি.এম
দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় কোন্দলের কারণে বিগত কয়েক বছরে পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়ার ফলে প্রকৃত সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়ার পরও এখানকার অধিকাংশ সড়ক দেখে মনে হয় যেন এটি গ্রামের কোনো কাদা-মাটির রাস্তা। বড় বড় খানাখন্দে জমে থাকা পানি রাস্তাগুলোকে এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য করে তুলেছে। পৌরসভার মোট ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৬০ কিলোমিটার সড়ক বর্তমানে ভাঙা ও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই কারণে বর্ষা মৌসুমে লক্ষাধিক পৌরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তি হচ্ছে, আর সড়কে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
পৌরসভা সূত্রে নিশ্চিত করা যায়, ১৯৯০ সালে পিরোজপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়, কিন্তু সময়ের পরেও এখানকার নাগরিক সুবিধা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌরসভায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশই বর্তমানে ভাঙা ও বেহাল দশার শিকার। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ ও ভোগান্তি এখন পৌর এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে এই ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক রয়েছে ৩৫-৪০ কিলোমিটার, এবং চলাচলের উপযোগী রয়েছে মাত্র ৯০ কিলোমিটার। বাকি ২৬০ কিলোমিটার সড়কই এখন চলাচলের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পৌরসভার রায়েরকাঠি এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, 'পৌরসভার ভিতরে যতগুলি রাস্তা রয়েছে অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দে ভরা। আমরা পৌরবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগের মধ্যে চলাফেরা করে আসছি। ভাঙা রাস্তায় রিকশা অথবা অটোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। কবে নাগাদ রাস্তাগুলি ভালো হবে তা হয়তো আমরা দেখে যেতে পারব না।'
একই ধরনের সমস্যার শিকার পৌরসভার পালপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডিম ব্যবসায়ী সিরাজুল। তিনি তার কষ্টের ঘটনা জানিয়ে বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে পাইকারি ডিম সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ভাঙার কারণে ঝাঁকিতে ৮-১০টি ডিম প্রতিদিনই ভেঙে যায়। যার ফলে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খারাপ থাকার কারণে আমার ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখতে পারছিনা।'
পৌরসভার এই বেহাল দশার জন্য সাধারণ পৌরবাসী কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। তবে এই প্রসঙ্গে পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন জানান, পর্যাপ্ত ফান্ড বা বরাদ্দ না থাকার কারণে সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নাগরিক সুবিধা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, 'বরাদ্দ না থাকার কারণে সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা নাগরিক সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।'
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন