ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিন দিন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই: ফিরে এসে আল আমিন বললেন, ‘আমার সহকর্মীরা বেঁচে থাকতে পারে’


তিন দিন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই: ফিরে এসে আল আমিন বললেন, ‘আমার সহকর্মীরা বেঁচে থাকতে পারে’

বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন জেলে আল আমিন।

ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে উপরে ভেসে থাকার সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালের শয্যায় রয়েছেন। কিন্তু নিজের ফিরে আসার আনন্দের চেয়ে, এখনো নিখোঁজ থাকা পাঁচ সহকর্মীদের চিন্তাই তাকে বেশি কাঁদাচ্ছে।

তার বিশ্বাস রয়েছে, তারা যদি ট্রলার থেকে বেরিয়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে তারা এখনো জীবিত থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

আল আমিনের এই বিশ্বাস স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারকে।

আল আমিন গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে। গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় ভোলার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা তাকে স্পিডবোটে করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী তার চিকিৎসা ও সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কাঁপা কণ্ঠে আল আমিন জানিয়েছেন, "আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। যদি তারা ট্রলার না ছেড়ে থাকে, তাহলে ওরা এখনো বেঁচে থাকতে পারে। দ্রুত খুঁজলে হয়তো ওদের পাওয়া যাবে।"

তিনি আরও জানান, গত ৫ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। অনেকে সাগরে ছিটকে পড়েন এবং কেউ ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়েন।

আল আমিনের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে তিনজন ছিলেন এবং আটজন পানিতে ভেসে ওঠেন। তিনি, আক্কাস এবং হারুন ডুবন্ত ট্রলার আঁকড়ে ভেসে ছিলেন। ট্রলারের ভেতরে থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন পরে ঢেউয়ের তোরে বেরিয়ে এলেও একজন বের হতে পারেননি।

টানা তিন দিন তিন রাত ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই করেছেন তারা। চারদিকে শুধু অথৈ পানি। ছিল না কোনো খাবার বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

বৃষ্টির পানি মুখে নিয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করেছেন। দিনের প্রখর রোদে শরীর পুড়েছে এবং রাতের অন্ধকারে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়েছে।

একপর্যায়ে দূরে একটি ডুবোচর দেখতে পেয়ে সেটিকে তীর ভেবে সাঁতরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, সেখানে কোনো স্থলভাগ নেই।

এ সময় হারুন ও আক্কাস আবার ডুবন্ত ট্রলারের কাছে ফিরে যান। কিন্তু আল আমিন আর ফিরতে পারেননি। তিনি ডুবোচরের আশপাশে ভেসে থাকতে থাকেন। অবশেষে বুধবার বিকেলে ভোলার একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।

আল আমিন প্রশাসনকে জানিয়েছেন, নিখোঁজ জেলেরা যদি ট্রলার ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে তারা কাউয়ারচরের পশ্চিমে হাসাখালী এলাকার সাগরে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, আল আমিন জীবিত ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই, নিখোঁজ পাঁচ জেলের পরিবারে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

কয়েকদিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনরা এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠা এবং প্রার্থনায়।

কেউ ঘাটে অপেক্ষা করছেন, কেউ মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন, আবার কেউ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন প্রিয় মানুষটি যেন জীবিত ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন

গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান বলেন, বুধবার চরফ্যাসনের দুলাল মাঝির মাধ্যমে আল আমিন জীবিত উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্পিডবোটে সেখানে যাই। চিকিৎসা শেষে তাকে গলাচিপায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন আমরা চাই, বাকি জেলেদেরও দ্রুত উদ্ধার করা হোক।

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আল আমিনের দেওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বর্ণনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য এলাকায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

আমরা আশা করছি, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পাওয়া যাবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন নিখোঁজদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্য যাচাই করে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভাড়া বাসায় মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ, প্রেমিক উধাও

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই রাতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে গলাচিপার ১১ জেলেকে নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তিন দিন পর আল আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ জেলে। তারা হলেন হারুন হাওলাদার, এমাদুল, ফোরকান, সায়েম এবং আক্কাস।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দশমিনায় কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


দশমিনায় কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দীপা রানী দাস (৫১) নামে এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত দীপা রানী দাস, উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রণগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপা রানী দাসের শুভ্র সূচি দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে। তাদের সংসারে একটি ছেলে রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দীপার নিজ বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।

ঘরের দরজা বন্ধ ছিল, ফলে ছেলে বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পরে, নিহতের পরিবারের সদস্যরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দাবি করেন, এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। নিহতের ছোট বোন রাসমনি দাস অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই দীপা রানী দাসকে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। চাকরির বেতন-ভাতাও স্বামীকে দিতে হতো। এসব বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনোই হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মনে করছি না।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেব।” তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন। ছেলে ফোন করে জানায়, তার মা ঘরের দরজা খুলছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে দীপাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, “আমি কখনো তাকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল চন্দ্র বলেছেন, দীপা রানী দাস শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা গেছে, তবে পরে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেন। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্রের তীব্র ভাঙনে লণ্ডভণ্ড কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ এম


সমুদ্রের তীব্র ভাঙনে লণ্ডভণ্ড কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে চলে যাচ্ছে। সমুদ্রের তীব্র ভাঙনে সৈকতসহ আশপাশের অনেক এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ছে। প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থানগুলি। কোথাও সৈকতের বালু ধুয়ে নিচু হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও উঁচু হয়ে দেখা যাচ্ছে। পুরো সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে জীর্ণশীর্ণ জিও টিউব ও জিও ব্যাগের স্তূপ। বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডবে প্রতিবছরই কুয়াকাটা শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। তবে সৈকত রক্ষায় এখনো দৃশ্যমান কোনো টেকসই উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০০০ সাল থেকে কুয়াকাটা সৈকতে ভাঙন শুরু হয়। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এটি ভয়াবহ রূপ নেয়। ২০১১ সালের পর ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের পশ্চিম মাঝিবাড়ি এলাকায় কয়েকটি কংক্রিট ব্লক সরে গেছে। এছাড়া ঝাউবন, গঙ্গামতি ও চর গঙ্গামতিসহ প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ে গেছে। অনেক স্থানে বালু সরে গিয়ে গাছের শেকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, যদি দীর্ঘমেয়াদে এভাবে সৈকতের নান্দনিকতা নষ্ট হয়, তাহলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাবে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বে পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি।

তারা সৈকতের বালু ক্ষয় রোধে দ্রুত টেকসই গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের ভাঙনে ইতোমধ্যে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, শালবন, এলজিইডির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, ডাকবাংলো, বিস্তীর্ণ ঝাউবন, ইকোপার্কসহ বহু স্থাপনা সাগরে বিলীন হয়েছে। গত বছর ভেঙে গেছে নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়কের একটি অংশ। বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স, মসজিদ, মন্দির, ট্যুরিজম পার্ক, ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জোয়ারের সময় সৈকতের ওয়াকওয়েও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। পর্যটকদের অভিযোগ, একসময় যেখানে বিস্তীর্ণ বালুকাবেলায় হাঁটাহাঁটি করে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যেত, সেখানে এখন চোখে পড়ছে জিও ব্যাগের স্তূপ। এতে কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিও ব্যাগ সাময়িকভাবে ভাঙন রোধে কিছুটা কার্যকর হলেও কুয়াকাটাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপকূল ব্যবস্থাপনা। এজন্য নিয়মিত ড্রেজিং, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং উপকূলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন সমুদ্রভাঙন। সৈকত ও পর্যটন রক্ষায় স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।” কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “সৈকতের বালু ক্ষয় রোধে সময়োপযোগী স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

তা না হলে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসময় হারিয়ে যাবে। ভুল নকশা ও পরিকল্পনার কারণে বারবার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা রয়েছে।” এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, “ভাঙন রোধে সৈকতে অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি জিও টিউব স্থাপন করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈকতে গোসলে নামার ৩ দিন পর পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


সৈকতে গোসলে নামার ৩ দিন পর পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আসাদুলের (১৭) মরদেহ তিনদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার সময় সমুদ্র সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিদ্রারচর সংলগ্ন এলাকার সমুদ্র তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ৪ বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে আসেছিলেন আসাদুল। তারপর পাঁচজন মিলে উত্তাল সমুদ্রে গোসল করতে নামলে স্রোতের টানে তারা সবাই ভেসে যায়। এটিকে উদ্ধারে পরে চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আসাদুল নিখোঁজ হয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং ডুবুরিরা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে কিন্তু আসাদুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনদিন পরে শুক্রবার সকালে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে নিদ্রারচর সংলগ্ন এলাকায়, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। তালতলী থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশকে বিষয়টি জানালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা মরদেহের গায়ে থাকা টিশার্ট দেখে নিখোঁজ আসাদুলকে শনাক্ত করেন। পরে, মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেছেন। মরদেহ এবং মরদেহের গায়ে থাকা টি-শার্ট দেখে উপস্থিত স্বজনরা নিখোঁজ আসাদুলকে শনাক্ত করেছেন। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষার প্রভাব ডিমে, স্থিতিশীল মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০১ এম


বর্ষার প্রভাব ডিমে, স্থিতিশীল মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম

ছবি, সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম চলছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত বাজারে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। যার কারণে অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বর্ষার প্রভাব ডিমের উপর পড়লেও অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। তবে বাজারগুলোতে মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীলভাবেই রয়েছে।

এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, “ডিমের দাম আগের তুলনা ১০-১৫ টাকা ডজনে বেড়েছে।” এক ডজন সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ১২০ টাকা এবং ব্রাউন কালারের ১৩০ টাকা ডজন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজনে।

বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ করতে হবে।

এছাড়াও মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগির দাম ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদার দাম ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ এবং ট্যাংরার দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৩0 টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কিনতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ করতে হবে। এছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা উৎক্ষেপণ করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%