প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দীপা রানী দাস (৫১) নামে এক কলেজ শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত দীপা রানী দাস, উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রণগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপা রানী দাসের শুভ্র সূচি দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে। তাদের সংসারে একটি ছেলে রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দীপার নিজ বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
ঘরের দরজা বন্ধ ছিল, ফলে ছেলে বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পরে, নিহতের পরিবারের সদস্যরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দাবি করেন, এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। নিহতের ছোট বোন রাসমনি দাস অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই দীপা রানী দাসকে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। চাকরির বেতন-ভাতাও স্বামীকে দিতে হতো। এসব বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনোই হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মনে করছি না।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেব।” তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন। ছেলে ফোন করে জানায়, তার মা ঘরের দরজা খুলছেন না। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে দীপাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি দাবি করেন, “আমি কখনো তাকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করিনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল চন্দ্র বলেছেন, দীপা রানী দাস শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা গেছে, তবে পরে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেন। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন