০২:০৪ পি.এম
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ, যা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে সজ্জিত হওয়ার কথা ছিল, শেষ হওয়ার সময়সীমা ছিল দুটি বছর। কিন্তু প্রকল্পের কাজ মাঝপথে রেখেই সোয়া তিন কোটি টাকা বিল তুলে নিয়ে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গায়েব হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, চার বছর অতিবাহিত হলেও এই নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।
এর ফলে কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী খোলা আকাশের নিচে পড়ে নষ্ট হচ্ছে এবং ভবনের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েও কাজ ফেরাতে না পারায় এলজিইডি কার্যাদেশ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শিগগিরই নতুন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে।
পুরানো ভবনে জায়গার সংকট দূর করা এবং জরাজীর্ণ ভবনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে এক ছাদের নিচে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে চার তলাবিশিষ্ট আধুনিক প্রশাসনিক ভবন ও একতলা হলরুম নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় চার বছর আগে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি পুরো ভিন্ন। খুলনার 'মেসার্স এমআই ট্রেডিং অ্যান্ড কোং' নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত কাগজে-কলমে ৫২ শতাংশ কাজ দেখিয়ে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা তুলে নিয়ে যায়। ঠিকাদারের লোকজন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে কাজ ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে চার বছর পেরিয়ে যায়, কিন্তু উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স আলোর মুখ দেখেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা ভবনে কেবল দোতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। তৃতীয় তলার জন্য কিছু পিলার দাঁড়িয়ে আছে। নির্মাণাধীন হলরুমের ছাদে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। বৃষ্টি ও রোদে ভবনের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা কমছে। একই সঙ্গে সরকারের কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী দফায় দফায় চুরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও সেবাপ্রার্থী মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে।
উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ এলজিইডি বাস্তবায়ন করছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। পরে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে শিগগিরই নতুন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসাইন বলেছেন, আমরা বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই কার্যাদেশ বাতিল করে যৌথ মেজারমেন্টের জন্য ঠিকাদারের প্রতিনিধি দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়া না মেলায় বিধি অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেখে যৌথ মেজারমেন্ট করা হবে। কতটুকু কাজ করা হয়েছে এবং কতটুকু বাকি রয়েছে তা নির্ধারণ করা হবে এবং পরে নতুন করে টেন্ডার দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের আধুনিক ভবনটি না হওয়াতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। এটি এক ধরনের ভুক্তভোগী বলতেই পারেন। দোতলা পর্যন্ত ভবনটি হওয়ার পর আর কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যেখানে যে ঠিকাদার কাজ করতেন তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন করে কাজে আসেননি। এই কারণেই কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার দিয়ে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন