মোঃ জাহিদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি
০২:২১ পি.এম
নরসিংদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান কেয়া, নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মঞ্জুর এলাহী, জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকায় প্রামাণ্যচিত্রের কারণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশি অতিথিদের সামনে ওয়াকআউটের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, 'মানুষের ভুলত্রুটি হতেই পারে, কিন্তু সেটিকে কেন্দ্র করে বিদেশি অতিথিদের সামনে এমন আচরণ ও হট্টগোল অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।'
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের ছবি না থাকায় উপস্থিত কিছু অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এই অসন্তোষের কারণে সেখানে হট্টগোল এবং একপর্যায়ে ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ক্ষমা চাইলেও বিশৃঙ্খলা থামেনি, ফলে বিদেশি অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যান।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, 'সকালে অত্যন্ত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান দেখলাম, মানুষের ঐক্য দেখলাম। কিন্তু প্রামাণ্যচিত্রে কিছু ভুল ছিল, আবু সাঈদের ছবিটি আমি দেখলাম না। ভুল হতেই পারে, কিন্তু এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ক্ষমা চাওয়ার পরও যে ঘটনা ঘটল, তা অনভিপ্রেত। জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা মোটেই কাম্য ছিল না।'
জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, 'বিদেশি অতিথিরা অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেলেন, এটি তো ভালো দেখাল না। আমরা জাতীয় ঐক্য দেখাতে পারলাম না। সংসদ ভবনের মতো এখানে ওয়াকআউট করা একেবারেই শোভনীয় ছিল না।'
তিনি উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'রাষ্ট্রপতির সামনে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দেওয়া কোনভাবেই মানানসই নয়। আমরা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখানে এসেছি, উড়ে এসে জুড় বসিনি। ভুল করলে শুধরে দেবেন, কিন্তু বিশৃঙ্খলা করে কোন লাভ নেই।'
রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, 'এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। এই সরকার আওয়ামী লীগ হতে পারবে না, হতেও চায় না। আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে আসার ঘোষণা দেয়; আসেন, দেখা হবে রাজপথে।'
বিশৃঙ্খলাজনিত ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দেবে। শহীদদের মর্যাদা রক্ষা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার সব ব্যবস্থা সরকার নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলন সম্পর্কিত শহীদ পরিবারের সদস্য, ছাত্রনেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, রচনা ও কবিতা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (০৫ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান কামরুল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব জনি রায়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রচনা ও কবিতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল উপজেলা প্রশাসন, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ। উপস্থিত অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গণতান্ত্রিক চেতনা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী শেখ হাসিনার অডিও বার্তা এবং তার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে ভারতের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানী গুলশানের গ্যালারি হামিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখা শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বর্তমানে ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার বিভিন্ন অডিও বার্তা এবং ভারতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের উপর রুহুল কবির রিজভী তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে চোরাপথে আসা ফ্যাসিস্ট ক্ষমতায় থাকতে ছাত্র জনতা থেকে শুরু করে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে হত্যা করতে হচ্ছে। সেই ঘৃণা থেকেই বিশাল জাগরণ ঘটে জুলাই অভ্যুত্থানের।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘ভারতপ্রেমী হলে অন্য দেশের দাগি পলাতক আসামির অপরাধও অগ্রাহ্য করে নয়াদিল্লি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই নিয়ে টানাটানি করলে জুলাই আমাদের কারও থাকবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাসনে না থাকলে জুলাই এইভাবে সংগঠিত করা সম্ভব হত না। কারণ যারা দেশে ছিলেন, তাদেরকে জেলে রাখা হয়েছিল।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে আসুন একসাথে বসি। জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাইয়ের চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করা যাবে না এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘৭১ এর চেতনা বিক্রি করতে করতে দিল্লি যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। জুলাই নিয়ে কৃতিত্ব নেবার জন্য এমন কিছু যেন না করা হয়, জুলাই সবার। জুলাই আন্দোলন ৩৬ দিনে হয় নাই। এর শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নেয়ার জন্য সব রাজনৈতিক দল প্রতিযোগিতায় নেমেছে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আর বিএনপি ও তার সরকার জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন করতে এসেছে।
বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কি হবে, গণহত্যার জন্য যে দল দায়ী তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এক। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল এক। আমরা সংসদের ভেতরে বাইরে বাহাস করব, তর্ক করব কিন্তু আওয়ামী লীগ যাতে ফিরতে না পারে সে প্রশ্নে আমরা সবাই এক।
এসময় সবার সাথে কথা বলে মতামত নিয়ে সরকার সংবিধানে এমন সংশোধন আনতে চায় যে সংবিধান দীর্ঘমেয়াদি হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ