০৭:৪৯ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে সিইপিএ নিয়ে চূড়ান্ত দফার আলোচনা করতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জং-ক্বানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই চুক্তি আগামী ৪ আগস্ট সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।
এর আগে, মঙ্গলবার, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে টেলিফোনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রী কিম জং-ক্বান সিইপিএ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা ইতিবাচক ছিল।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
জানা গেছে, সিইপিএ চুক্তির অধীনে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ কিছু সুবিধা পাবে, যার মধ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে, দুই দেশ চারটি বিষয়ে চুক্তির জন্য একমত হয়েছে, বাকি আট বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।
এই চুক্তিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাটপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করা হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও এ সুবিধা চলমান থাকবে, এবং কিছু পণ্যকে রুলস অব অরিজিনের আওতায় রাখা হবে।
সেইসঙ্গে আইটি, প্রকৌশল ও অন্যান্য সেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, পণ্য দ্রুত ছাড়, ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপারটি) পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট সুরক্ষার বিষয়গুলোও আলোচনা হচ্ছে।
এছাড়াও, এই চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ভিন্নভাবে তুলনামূলক ছোট হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে আসছে। দুই দেশের মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় এক দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বিপরীতভাবে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রাধান্যগুণ সম্পন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন), হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক পণ্য। বিপরীতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মেশিনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন