১০:৪৩ এম
বর্ষা এলেই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের একই দুশ্চিন্তা; আবারও কি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে? জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গেল অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার ও পরিষ্কারে ব্যয় করেছে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং খাল-নালা ও নর্দমা পরিষ্কারে খরচ করেছিল প্রায় ৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু এত ব্যয়ের পরও প্রতিটি বর্ষায় একই অভিজ্ঞতা দেখা যাচ্ছে, তাই প্রশ্ন উঠছে, সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন?
একসময়, রাজধানী ঢাকা যে শহরের খাল ও জলাধার সহজেই বৃষ্টির পানি নদীর দিকে পৌঁছে দিত, আজকাল সেই ঢাকা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অলিগলি থেকে বড় সড়ক; সবই পানির নিচে চলে যায়। প্রতি বর্ষায় এই একই দুর্ভোগ এবং আলোচনা।
নগরবাসীর মনে প্রশ্ন; কেনো তিলোত্তমা এই নগরী ডুবে যায়? গবেষকদের মতে, জলাবদ্ধতার মূল কারণ হচ্ছে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া। ড্রেন, খাল ও জলাধার দিয়ে যে পানি ঢাকা আশেপাশের নদীতে যাওয়ার কথা, সেই পানি প্রবাহ এখন আর নেই।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এত টাকা ব্যয়ের পরও কেন একই অবস্থা; এই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষও। তাদের অভিযোগ, বর্ষার সময় উন্নয়ন কাজের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। এর ফলে ময়লা ও আবর্জনা ড্রেনে জমে থাকে, যা পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। শুধু বাজেট বরাদ্দ বা পরিকল্পনা করলেই চলবে না, কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ড্রেন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এর মধ্যে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে নতুন ড্রেন নির্মাণ, পুরানো ড্রেন সংস্কার এবং পুনর্বাসনের কাজ করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেন পরিষ্কারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ব্যয় হয়ে গেছে। এছাড়াও, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নর্দমা, খাল ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ ৪০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
সমস্যা সমাধান করার জন্য খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি বের হওয়ার পথের বাধা দূর করতে চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, "পলিথিন ব্যবহার বন্ধ না হলে ড্রেন, খাল বা রাস্তা কোনোভাবেই পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়।" খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করতে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সুফল পেতে অন্তত এক বছরের সময় লাগবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এবং উত্তর সিটি প্রশাসকের নজর ড্রেন নির্মাণ এবং খাল পুনরুদ্ধারে। ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেছেন, "খাল খননের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যদি খালগুলো পুনঃখনন করা যায়, তাহলেই বর্তমানে যে ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, তার প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।"
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ড্রেন নির্মাণ করলেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। খাল, জলাধার এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার করতেই হবে। নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলছেন, "হাতে ঝিলের মতো আরও অন্তত পাঁচটি রিটেনশন এরিয়া গড়ে তুলতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং একসঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর চাপ না পড়ে।"
এভাবে প্রতিবছর একই প্রশ্ন ফিরে আসে; আবারও কি ঢাকা ডুববে? এর উত্তর আকাশের বৃষ্টিতে নয়, বরং শহরের খাল, ড্রেন, জলাধার এবং কার্যকর নগর পরিকল্পনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন