মোঃ আব্দুল মোছাব্বির মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিদিন।
০৭:২১ পি.এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা মধ্যনগর বাজার মাদ্রাসা মসজিদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মধ্যনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মধ্যনগর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু তাহের।
বক্তারা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন। তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মধ্যনগর উপজেলা শাখার নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আহমেদ আল-জাবের’-এ হামলা করেছে তেহরান।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে ইরানি বাহিনী আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা ও পার্সটুডের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সায়েকেহ’ (বজ্রপাত) অভিযানের ২৭তম ধাপে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। কেশম দ্বীপে আবাসিক এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই কুয়েতের ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট যোগাযোগকেন্দ্র এবং অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে একের পর এক আত্মঘাতী ড্রোন চালানো হয়।
কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত মার্কিন বিমান ও নজরদারি অভিযানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
ইরানি বাহিনীর দাবি, ড্রোনের আঘাত মার্কিন ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অস্ত্রাগারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহত বা বস্তাগত ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন পেন্টাগন বা ওয়াশিংটন থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেশম দ্বীপে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মার্কিন আক্রমণকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে নিজেদের অবকাঠামোগত ক্ষতি ও সেনাসদস্যদের হতাহতের প্রকৃত তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে গোপন করার চেষ্টা করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৬ : রাজধানীর বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ মার্কেট-সংলগ্ন লিংক রোডে, পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক।
এই বিশেষ অভিযানটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল ইসলাম (৪০), মো. আজাদ (৩০) এবং মো. রাজন (৩৪)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের ৪৬৪টি ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে চাপাতি, বড় ছুরি, সুইচ গিয়ার চাকু, কমব্যাট নাইফ, ইলেকট্রিক শক গান, চাইনিজ কুড়াল, ব্যাটন স্টিক এবং আসল আগ্নেয়াস্ত্রের আদলে তৈরি খেলনা পিস্তল।
উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে এবং অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধে ডিএমপির এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্যাঞ্চলে অবাধে বাঁশকোড়ল (চারাবাঁশ) সংগ্রহ এবং নির্বিচারে বাঁশ নিধনের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রাকৃতিক পেঁয়াবাঁশ, মূলিবাঁশ, মিতাবাঁশ, ওড়াবাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশের জন্য এ অঞ্চল অত্যন্ত সুপরিচিত ছিল। কিন্তু বহুদিন ধরে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার, বাজারজাতকরণ এবং নির্বিচারে বাঁশ কাটার ফলে এসব বাঁশের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চল কেটে আগুনে পুড়িয়ে জুমচাষ করার কারণে প্রাকৃতিক বাঁশবনও ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে মূল্যবান এই বাঁশসম্পদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে এসব বাঁশ ব্যবহৃত হয়।
পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাদ্য। তারা বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে এটি সবজি হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, বাঁশকোড়ল সমৃদ্ধ স্বাদ ও স্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে। শুধু পাহাড়িরাই নয়, অনেক বাঙালিও বাঁশকোড়ল খেতে পছন্দ করেন।
স্থানীয়ভাবে বাঁশকোড়লের বিভিন্ন নাম রয়েছে। মারমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘মেহ্যাং’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘মেওয়া’, চাকমা ভাষায় ‘বাচ্ছুরি’ এবং তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় ‘বাচ্ছুই’ নামে পরিচিত। এটি মূলত বাঁশের গোড়া থেকে গজিয়ে ওঠা কচি ও নরম অংশের একটি নাম।
বন বিভাগ প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য বাঁশকোড়ল সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এর ফলে বাঁশের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে।
পাহাড়ি সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মারমা বলেন, পাহাড়িদের কাছে বাঁশকোড়ল একটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার এবং এটি তারা নিয়মিত সবজি হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ বন্ধ না হলে নতুন বাঁশ গজানোর সুযোগ এনসেস হবে। ফলে ভবিষ্যতে বাঁশের সংখ্যা কমে যাবে এবং বাঁশনির্ভর বিভিন্ন শিল্প ও প্রয়োজনীয় কাজে সংকট দেখা দেবে। তদুপরি, বাঁশকোড়ল সংগ্রহ ও বাঁশ নিধন বন্ধে স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণার প্রয়োজন আছে।
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর জুন মাস থেকে তিন মাস সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাঁশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ এই সময় বাঁশের বংশবিস্তারের মৌসুম। এর প্রেক্ষিতে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের উদ্যোগে প্রতিটি রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয়দের বোঝানো হচ্ছে যে, বাঁশকোড়ল সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে তারা বেশি উপকৃত হবেন এবং প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশসম্পদও রক্ষা পাবে।
তিনি জানান, পার্বত্যাঞ্চলের মূল্যবান বাঁশসম্পদ সংরক্ষণ ও নতুন নতুন বাঁশবন গড়ে তুলতেও বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। কে কী মন্তব্য করেছেন বা কে কী করেছেন, সেই বিষয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ আমাদের নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের মূল দায়িত্ব।
‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩ দিনব্যাপি বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি এবং সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সরকার জনগণের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমালোচনা কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অসহায় ও সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই। এজন্য দেশের প্রত্যেকটি উপজেলাতেই জনসাধারণকে বৃক্ষ রোপণে উৎসাহিত করতে বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রত্যেক নাগরিককে তাদের পছন্দমত ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা ক্রয় করে নিজেদের বাড়ি আশেপাশে পতিত জায়গাতে রোপণ করার জন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম মেরামত ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপকারভোগীদের মাঝে ২৩টি সেলাই মেশিন বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫২ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩৬ জন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ