বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১৬ পি.এম
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি চরম আর্থিক অনটন—কোনো কিছুই কক্সবাজারের রামুর তিন বোনের পড়াশোনার অদম্য স্পৃহাকে দমাতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে তাদের মাটির ঘর ধসে গেলেও ছেঁড়া পলিথিনের নিচে বসে থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে উম্মে হাবিবা, উম্মে সালমা এবং জান্নাতুল মাওয়া।
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের খাসজমিতে বাস করা এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা দিল মোহাম্মদ (৬৭) পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে অটোরিকশা চালানো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, মা রোকেয়া বেগম (৪০) জন্মগতভাবে এক চোখে দৃষ্টিহীন, রোদ উঠলে অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন।
সম্প্রতি বাকখালী নদীর পানি উপচে পুরো রামু এলাকা প্লাবিত হলে তাদের মাটির তৈরি বসতঘরের তিন পাশের দেয়াল পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ে। বর্তমানে মাথার ওপর ছেঁড়া পলিথিন টাঙিয়ে ভেজা জামাকাপড় ও বই-খাতা নিয়ে দিন পার করছে পরিবারটি। বৃষ্টি থামলেই বাড়ির উঠানে পলিথিন বিছিয়ে বই নিয়ে বসে পড়ে তিন বোন। উম্মে হাবিবা মাদরাসায় অষ্টম শ্রেনিতে, উম্মে সালমা পঞ্চম শ্রেনিতে এবং জান্নাতুল মাওয়া নার্সারিতে পড়ে। তাদের ছোট একটি চার বছরের বোনও রয়েছে।
সন্তানেরা লেখাপড়ার জন্য আগ্রহী থাকা সত্ত্বেও পরিবারের অভাবে ঠিকমতো বই কিনে দিতে না পারায় বুকফাটা কান্না আর অপরাধবোধ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা রোকেয়া বেগমকে গ্রাস করছে। পঙ্গু বাবা দিল মোহাম্মদও সন্তানের এই কিছু সহ্যের কাছে অসহায় বোধ করছেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানালেন, রোকেয়া বেগমের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা, নিরাপদ বাসস্থান এবং মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস/এএফপি) : জাপানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বৃহস্পতিবার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধার করার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, যেটি তীব্র গরমের মধ্যে হচ্ছে।
সরকার সর্বশেষ নিহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কুমামোতো কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের পর সন্দেহভাজন গ্যাস বিস্ফোরণে ধসে পড়া এইয়ন (অবড়হ) শপিংমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় একই সময়ে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে রয়েছে কংক্রিট, ইস্পাত ও তারের স্তূপ।
জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামতো প্রিফেকচারের রাজধানী শহর কুমামোতো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘শপিংমল থেকে আমরা ১০ জনকে উদ্ধার করেছি। তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও একজনের শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ নেই। বাকি পাঁচজন গুরুতর ও সামান্য আহত হয়েছেন।’
মঙ্গলবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগেছে। এ কারণে কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন। সপ্তাহের শেষে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশ জাপানে উকি শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের লবিতে কয়েক শত বয়স্ক মানুষ পাতলা মাদুর বিছিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতেই তারা সেখানে অবস্থান করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’ তারা সেখানে চেয়ার-টেবিলের মাঝখানে ঘুমাচ্ছেন বা টেলিভিশনের সামনে বসে খবর দেখছেন।
একজন বলেন, ‘আমি বাড়িতে থাকার বা গাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গরম খুব বেশি, আর মশারও উপদ্রব রয়েছে।’ চার সন্তানের বাবা ও সুপারমার্কেট কর্মী ৫৩ বছর বয়সী হিরোইউকি মাতসুশিমা বলেন, ‘এমন গরমে বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে যায়।’ ভূমিকম্পের পর শপিংমলটি খালি করে ফেলা হয়েছিল, তবে প্রায় ৫০ মিনিট পর সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তখন ঠিক কতজন কর্মী ভেতরে ছিলেন, তা জানা যায়নি।
৫৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ফুমিহিকো মাতসুউরা এএফপিকে বলেন, সপ্তাহখানেক আগে তিনি ওই শপিংমলেই সর্বশেষ ‘টয় স্টোরি’ চলচ্চিত্রটি দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে ছিলাম। ঠিক এখানেই ছিলাম। মনে হচ্ছে অল্পের জন্য বিপদ থেকে বেঁচে গেছি।’ ঘটনার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা বিপদের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা বুধবার এএফপিকে জানান, ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার একটি লাল-সাদা চিমনির অংশ ধসে পড়ে। এতে পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
-বিদ্যুৎ ও পানির সংকট-
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৭০টি পরিবার ও স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৪ হাজার বাড়িতে পানির সরবরাহ ব্যাহত ছিল। টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, মানুষ পেট্রোল ও বিশুদ্ধ পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কর্তৃপক্ষ কয়েক শত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পাঠিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এই সময়ে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন ও ৬০ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শহরের নিউ মার্কেট এলাকার শফিক প্লাজার চতুর্থ তলায় এই অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার পূর্ব পাইকপাড়ার সুজন দেবনাথ (৪৮), কান্দিপাড়ার সালমান ভূঁইয়া (২৫), গোকর্ণঘাট এলাকার ঝন্টু কর্মকার (৩৪), কান্দিপাড়ার আকরাম হোসেন (৩৯), কান্দিপাড়ার কায়েস মিয়া (৪২), নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় ইউনিয়নের নরহা গ্রামের শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (৩৮), কসবা উপজেলার শ্যামবাড়ি এলাকার জহর (২৫) এবং সদর উপজেলার কাজীপাড়া (ব্যাপারিপাড়া) এলাকার আলামিন (৪৫)।
র্যাব জানায়, অভিযানের সময় অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।
র্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর নবী বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে জুয়া, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে র্যাব নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় গীতা রাণী বিশ্বাস (৫০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত গীতা আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের নন্দ লালের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্গের ভেতর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গীতা রাণীর স্বামী নন্দলাল তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে গীতা রাণী একলাই বসবাস করতেন। স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে তাকে অপহরণ করেছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁকে বাড়ির আশেপাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা।
খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কে বা কারা কী কারণে তাকে হত্যা করলো তা পরে জানাতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলার ফলে দুই বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় আহত হয়েছে আরও দুই শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে 'ভারী মাত্রার' হামলা শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স বৃহস্পতিবার এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
হোরমোজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের সূত্র অবলম্বন করে ফার্স জানায়, ‘কেশমের চাহ তাঙ্গু এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একই পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবা, মা এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।’
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় পরিবারের আরও দুই শিশু আহত হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ