০২:৪০ পি.এম
ঢাকা, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মিত্রের মধ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা করার দাবি করেছে।
শনিবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, তারা সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান এবং ইয়ানবু এলাকার স্থাপনাগুলোর দিকে হামলা চালিয়েছে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে হুথিদের পাল্টা জবাব আরও ব্যাপক হতে পারে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, আগে হুথি বিদ্রোহীদের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে, জিজানে হামলার পর সেখানে আগুন লেগে যায়। এএফপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও যাচাই করেছে। ভিডিওতে দেখা যায় শহরটির আরামকোর মালিকানাধীন একটি তেল শোধনাগার হতে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
সৌদি আরব হামলার বিষয়ে এখনও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জিজান এবং ইয়ানবু এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।
গ্রিক বিমান বাহিনীর কার্যালয় জানাচ্ছে, শনিবার সকালে সৌদি আরবে মোতায়েন গ্রিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা অভিযোগ করেছে যে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব ইয়েমেনের তাদের অবস্থানে হামলা চালিয়ে 'বিপজ্জনক উত্তেজনা' সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ইয়েমেনের একটি নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সৌদি হামলায় হোদেইদা বন্দরের একটি নৌঘাঁটি ও কামারান দ্বীপের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মিত্রদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
হোদেইদার বাসিন্দা Fায়জা, যিনি ৩৬ বছর বয়সী এবং দুই সন্তানের মা, এএফপিকে বলেছেন, হামলার শব্দ ছিল 'প্রচণ্ড বজ্রপাতের মতো'। তিনি তিনটি পৃথক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
জায়জা আরও উল্লেখ করেন, 'আমি বিশ্বাস করতে চাইনি যে আমরা আবারও হামলার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।'
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতির পর দরিদ্র এই দেশে বড় ধরনের সংঘর্ষ বেশ কিছুটা থমকে গিয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে হুথিরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে থাকে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য তেহরানকে দায়ী করা যায় না। তিনি হুথি এবং সৌদিদের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নিতে ইরানের সহায়তার প্রস্তাব দেন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
আরাকচি আরও বলেন, 'এই সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই।'
এই নৌ-হুমকির পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধের পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বর্তমানে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শনিবার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা চারটি জাহাজ তারা আটকে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ট্যাংকার জাহাজ এবং অজ্ঞাত সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন একটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি। দুই পক্ষের টানা ১৩ রাতের বোমা হামলার পর এটিই ছিল প্রথম বিরতি।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে ১৪তম রাতের হামলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিল। তবে ট্রাম্প তা অনুমোদন না করে নতুন করে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, 'আমরা এখন তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমি মনে করি দিন যত যাচ্ছে, তারা আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে এবং সম্ভবত এর কারণ স্পষ্ট।'
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে দুটি পথ রয়েছে- একটি হলো চুক্তিতে পৌঁছানো, অন্যটি হলো আরও 'বড় মাত্রার' হামলার মুখোমুখি হওয়া। এর আগে দুই সপ্তাহের মার্কিন হামলায় এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।
এক সময় ট্রাম্প যে যুদ্ধকে চার-পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে ধারণা করেছিলেন, তা এখন পঞ্চম মাসের দিকে এগোচ্ছে। এই দীর্ঘ সংঘাত আগামী নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার জনপ্রিয়তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন