ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে


শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ জামাতার বিরুদ্ধে

 ৭০ বছর বয়সী একটি বৃদ্ধা শাশুড়িকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ের জামাতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে ঘটেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফরেনসিক টেস্টের জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা অভিযোগ করেছেন, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে তিনি নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার মেয়ের জামাতা আজিম চৌকিদার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। যখন তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তাকে মারধর করা হয়। অভিযুক্তের স্ত্রী রেকসোনা বেগম জানান, ঘটনার সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। রেকসোনা বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আজিম তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীকালে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাদের বিয়ে দেয়া হয়।

রেকসোনা বেগম আরও জানান, তার আগের সংসারের আট বছর বয়সী কন্যা সন্তানকেও আজিম বিভিন্ন সময় যৌণ হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। ছেলের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোদ অভিযুক্ত আজিমের মা নাজমা বেগম বলেন, আমার ছেলে মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর নিপীড়ন চালায়। অতীতে একটি শিশুকে ধর্ষণের মামলায় সে জেল খেটেছে। আমি আমার ছেলের কঠোর আইনগত শাস্তি দাবি করছি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১১ জুলাই রাতের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আজিম চৌকিদার (৩৫) আত্মগোপনে চলে গেছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু বকর সিদ্দিক জানান, হাসপাতালে দুইজন নারী চিকিৎসক ভুক্তভোগী বৃদ্ধাকে পরীক্ষা করেছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাকে বরিশালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. আদিল হোসেন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ আসছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত আজিম চৌকিদারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে পেলে পাও দুইডা ধইরা কইতাম, নদীভাঙন থেকে আমাদের বাঁচান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীকে পেলে পাও দুইডা ধইরা কইতাম, নদীভাঙন থেকে আমাদের বাঁচান

"প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে দুইটি হাতে ধরে বলবো- নদীভাঙন থেকে আমাদের বাঁচান। বাপ-দাদার জমি সব হারিয়েছি, কবরস্থানও হারিয়েছি। এখন বসতভিটাও নদী খেয়ে ফেলবে। আমরা কোথায় যাবে, কার কাছে দুঃখের কথা বলবো?" আবেগে কথা বলছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আজাহার মোল্লা। নদীর ভাঙনকবলিত তীরে বসে তিনি নিজের জীবনের দীর্ঘ কষ্টের কাহিনী তুলে ধরেন। আজাহার মোল্লা জানান, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া প্রায় সব আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি পারিবারিক কবরস্থানও নয়। তাঁর শেষ সম্বল ছিল বসতভিটা, কিন্তু এখন সেটিও নদীভাঙনের শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

শুধু আজাহার মোল্লা নন; পাশের সিংহেরকাঠী গ্রামের কামাল সরদারও একই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, নদীভাঙনের কারণে তাকে পাঁচবার বাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বাড়ি সরানোর মতো আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে সিংহেরকাঠী, লোহালিয়া ও রফিয়াদি গ্রামের শত শত পরিবার গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। টানা পাঁচ বছরের ভাঙনে তিনটি গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও নিম্নচাপের প্রভাবে নদীর পানি নামতে শুরু করায় কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে, যা নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আগের মতো দ্রুত টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন জানিয়েছেন, গত প্রায় ১০ বছর ধরে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে ছোট মীরগঞ্জ হয়ে ময়দানেরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত তিনটি গ্রাম বিলীনের পথে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে বহুবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। মাঝে মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে কোনো স্থায়ী সুফল মেলেনি। তাই আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। তিনি জানান, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া অন্তত ১৭টি পরিবার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসিত হলেও এখনো শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে, নদীবেষ্টিত বরিশালের চারপাশে কীর্তনখোলা, পদ্মা, মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, কালাবদর, জয়ন্তী, কারখানাসহ অসংখ্য নদী বয়ে যাচ্ছে। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিবছর জেলায় ভৌগোলিক চিত্র বদলে যাচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীর পাড় কেটে ইটভাটায় মাটি নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসনের অভাবের কারণে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন বলে সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন। মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা, মেঘনা, কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ছাড়া কেদারপুর, চাঁদপাশা, দেহেরগতি, রহমতপুর ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ও শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরেও চরবাড়িয়ায় বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কাইউম হোসেন বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তিনবার বাড়ি হারিয়েছি। এখন যেখানে আছি, সেটিও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় থাকবে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় আহবায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই বরিশালে প্রতিবছর ব্যাপক নদীভাঙন হচ্ছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত আট বছরে নদীভাঙন রোধে অন্তত ১০টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রকল্প এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, আজ (১৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরের প্রেক্ষাপটে নদীভাঙনকবলিত জনপদের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও বরিশাল সদরসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা, কীর্তনখোলা ও সন্ধ্যা নদীর তীর রক্ষায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলের নদী তীরে বসবাসকারী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানোরে খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নামে বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


তানোরে খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নামে বাণিজ্য

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ সরকারি খাদ্যগুদামে রাজনৈতিক পরিচয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা, জুয়েল নামের, যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং খাদ্যগুদামে ধান দেওয়া থেকে তারা দূরে রয়েছেন। এবারের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে কৃষকদের অংশগ্রহণ নেই। তাদের নাম ব্যবহার করে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী জুয়েল নামের এক নেতা ধান সংগ্রহ করছেন। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার নেপথ্যে মদদে কৃষকের কার্ড ভাড়া নিয়ে, অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকের অজান্তে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষক ধান দিতে গেলে আর্দ্রতাসহ নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা তাদের কৃষি কার্ড ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষক রুবেল, শহিদুল, গনেশ এবং ফারুক জানিয়েছেন যে, তারা একাধিকবার গুদামে ধান দিতে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের ধানের আর্দ্রতা ঠিক নাই বলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অথচ একই ধান কিনে জুয়েল গুদামে সরবরাহ করছেন। এটি অবশ্য নীতিমালা অনুযায়ী সম্ভব নয়, কেননা কার্ডধারী কৃষকদের উপস্থিতিতে ধান কেনা উচিত। তবে সিন্ডিকেট চক্র বিভিন্ন কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে ধান সংগ্রহ করছে। এই অবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠছে, যেহেতু যারা ধান দিতে পারবেন না, তাদের নামও তালিকায় রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শর্ত পূরণ না করে এসব ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় এলাকার পরিবর্তে বাইরের এলাকার ধান গুদামে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি, এলএসডির মাধ্যমে প্রতি টন ধানে দেড় থেকে ৩ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। সরেজমিনে সিসি ক্যামেরা এবং কৃষকের মোবাইল নম্বর যাচাই ও গুদামে কেনা ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, বাজারে মোটা ধানের দাম সাড়ে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে ২৮ টাকা কেজি হিসেবে দাম পড়ে। অপরদিকে, সরকার ৩৬ টাকা প্রতি কেজি ধান ক্রয় করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে কৃষক প্রতিটি মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হারাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা ধান এনে গুদামে প্রদান করা হচ্ছে। তবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সরকারী সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের মাঝে। জানা গিয়েছে, তানোরে চলতি বছরের ১৯ মে মঙ্গলবার ধান সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় ৪৯ টাকা কেজি দরে অটো ও হাস্কিং মিল থেকে মোট ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩০০ মেট্রিক টন গমের পাশাপাশি ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এই পরিকল্পনার আওতায়, উপজেলা কামারগাঁ সরকারি খাদ্যগুদামে কামারগাঁ এবং কলমা ইউনিয়ন থেকে ৫৫৫ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে, কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সরকারি গুদামে তা বিক্রি করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভের সুবিধা নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জৈষ্ঠ নেতা মন্তব্য করেছেন যে, দুঃখজনক হলেও সত্যি, কামারগাঁয়ের কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী নেতা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন। তারা নিজেদের পছন্দের ইউনিয়নগুলো ভাগ করে নিজেদের বিশ্বাসভাজন লোকদের মাধ্যমে কৃষকদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করেছেন। কৃষকদের সঙ্গে যে প্রতারণা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেছেন, শুরুতে তিনি সাধারণ কৃষক ছিলেন এবং বিগত সময়ে যেসব কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের তালিকা করে ধান দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু একজন প্রভাবশালী নেতার লোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি দলের হাইকমান্ডের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উন্নয়নে ধানের সন্তোষজনক মূল্য দিয়েছেন, কিন্তু এক শ্রেণির প্রভাবশালী তা লুটে নিচ্ছেন; ফলে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ বিষয়ে উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আতিকুর রহমান আতিক বলেছেন, তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় চাল ও ধান-গম ক্রয়ের অভিযান চলছে। আগামী ৩১ আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে এবং প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই ধান কেনা হচ্ছে। তানোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভীন খাতুন জানিয়েছে, তিনি কোনও লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। কামারগাঁ ইউপির হরিপুর, ছাঐড়, মালশিরা, কচুয়া ও কাদিরপুর এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে কথা হলে, তাদের প্রায় সবার বক্তব্য কাছাকাছি ছিল। তারা জানিয়েছে, সরকার ধান কেনে বলে শুনেছি কিন্তু কীভাবে এবং কখন ধান নেয়, সেই বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নেই। এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনও প্রচার চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ কৃষক জানেন না, সরকার কত টাকা মূল্যে ধান কিনছে। সরকারি গুদামে কতটুকু পর্যন্ত ধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন কৃষকের, তা নিয়েও তাদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সভাপতি পদ না পেয়ে মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


সভাপতি পদ না পেয়ে মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি

গাজীপুরের টঙ্গী গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে সভাপতি পদ না পেয়ে যার বিরুদ্ধে মসজিদে তালা মেরে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ এসেছে, তিনি বিএনপির সমর্থক। অভিযুক্তের নাম হলো এডভোকেট জালাল খান, যিনি সারোয়ার নামেও পরিচিত (৩৩)। এ ঘটনার কারণে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে গুটিয়া কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে পূর্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সভা চলছিল। এই সময় এডভোকেট জালাল খান অবৈধভাবে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং কমিটিতে তার নাম না থাকার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এরপর তিনি উপস্থিত মুরুব্বিদের গালমন্দ করতে শুরু করেন। এর এক পর্যায় তিনি সভা পরিচালনায় মারাত্মকভাবে বাধা দেন এবং মসজিদের অত্যাবশ্যকীয় নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলেন। এরপর তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তাকে কমিটিতে না রাখা হয় তাহলে মসজিদে তালা মেরে দেবেন। এই ঘটনার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। এই ক্ষেত্রে নতুন মসজিদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থির হয়ে গেছে, যা মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পর শনিবার রাতে (১১ জুলাই) টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যদি এব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তবে এডভোকেট জালাল খান ওরফে সারোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মসজিদে তালা মারার হুমকি দেইনি। তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর যাবত একটি মহল মসজিদ কমিটির পদ দখল করে আছে, আমি সামাজিকভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলাম। গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এসব কারণে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা ও সহাবস্থান বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু সমাধানের অভাবে মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সশস্ত্র পাহারায় ঢাকায় ঢুকছিল মাদক, ডিবির অভিযানে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


সশস্ত্র পাহারায় ঢাকায় ঢুকছিল মাদক, ডিবির অভিযানে আটক

দেশের বিভিন্ন সীমান্তগুলির মাধ্যমে একটি প্রাইভেটকারের সাহায্যে ঢাকায় মাদক আনা হচ্ছিল। গাড়িটির গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অস্ত্রসহ পাহাড়ায় আরেকটি প্রাইভেটকার প্রস্তুত ছিল। অবশেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর অভিযানে মাদকটির চালানটি ধরা পড়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি অস্ত্র।

সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসছিল একটি মাদকের বড় চালান, এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গাবতলীতে অভিযানে যায় ডিবি। অভিযানের সময় দুটি প্রাইভেটকারকে দাঁড়াতে সংকেত দিলে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায় দুইজন। এ সময় ডিবির সদস্যরা দৌড়ে তাদের একজনকে আটক করেন।

এরপর একটি গাড়ি তল্লাশি করার পর বের হয়ে আসে দুটি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ১০০ বোতল ভারতীয় এস্কাপ সিরাপ। এছাড়াও আরেকটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় আরও ৪০০ বোতল সিরাপ।

জানা গেছে, উদ্ধারকৃত বন্দুক দুটি বেলজিয়ামের তৈরি। এই অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর থানা থেকে লুট হতে পারে, এমন ধারণা করেছেন ডিবির সদস্যরা। চক্রটি মাদকের চালান ঢাকায় আনতে অস্ত্রসহ এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার করতো।

ডিবি জানায়, গত ২৪ তারিখেও আরও দুটি অভিযান চালানো হয় গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে। উত্তরার আজমপুরে একটি প্রাইভেটকার ও পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ বোতল এস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিবির আরেকটি দল কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক্স নোয়া গাড়িসহ তিনজনকে আটক করে। সেই তল্লাশিতে বেরিয়ে এসেছে ২ হাজার পিস ইয়াবা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, তিনটি সংঘবদ্ধ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%