০৬:৪৩ পি.এম
ভারত বা অন্য দেশের সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন করতে দেওয়া হবে না জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়ার অনুমতি নেই।
সোমবার (২০ জুলাই) পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে একজনকেও দেশে পুশ ইন হতে দিইনি। আমাদের বর্ডার গার্ড ও সচেতন জনগণের সহায়তায় আমরা এখনো পর্যন্ত সফলভাবে তা ঠেকাতে পারছি।’
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার সংখ্যা খুব বেশি নয় এবং সেসব অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পুশ ইন করতে দিইনি।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। তবে মিয়ানমার সীমান্তে একটি কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার বিষয়ে প্রস্তাব রয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। মিয়ানমার সরকার বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতি মুখোমুখি হয়েছে। এসব সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ‘এই অস্থিতিশীলতার ফলে মাদক চোরাচালান বেড়ে যাচ্ছে এবং মাঝে মধ্যে ওপার থেকে আসা গোলাগুলির কারণে আমাদের নাগরিকদের প্রাণহানি হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাইন দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিজিবিকে ইতিমধ্যে মাইন শনাক্তকরণের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। তিনি জানান, বিজিবির সদস্যরা এই যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিজিবির লোকবল বৃদ্ধি, যানবাহন, সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো—সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রাথমিকভাবে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেবে। যদিও আইনে ডিএনসির নিজস্ব ডগ স্কোয়াড তৈরির সুযোগ আছে, তবে সেটি তৈরিতে সময় লাগবে বলে আপাতত বিজিবির সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিজিবির সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন। সীমান্ত পাহারার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি বিজিবির এই ধরনের জনসম্পৃক্ত ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন