প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলোর সামনে পার্কিং ব্যবস্থার অব্যবস্থা এবং সড়ক দখল করে যানবাহন রাখার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অবস্থা নগরের ক্রমবর্ধমান যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করেন। পরিদর্শনের প্রথম দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে অনিয়মের মধ্যে রয়েছে- যদিও পার্কিং ব্যবস্থা বিদ্যমান, তবুও সেখানে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্ক করা যাচ্ছে না। তাই তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রয়েল হাসপাতালটি বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে, কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত পার্কিং নেই। মেডিকেল সেন্টারটিও একইভাবে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে এবং সেখানে আবার অপর্যাপ্ত পার্কিং রয়েছে। ডিজাইন অনুযায়ী সেখানে ডাস্টবিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারও রয়েছে। এছাড়া, সিএসসিআর হাসপাতালটি তাৎক্ষণিক তাদের নকশা উপস্থাপন করতে পারছে না।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এজিএম. সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান, অথোরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথোরাইজড অফিসার-২ তানজীব হোসেন।
পরিদর্শনের পর চউকের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, "আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করছি। নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই আপাতত সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
চউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন মন্তব্য করেন, "বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়ম দেখে খারাপ লাগছে। হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা রাখেনি। তারা সিডওএর নকশা বহির্ভূতভাবে এবং পার্কিং ব্যবস্থা না রেখেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা নিজেরাও জানে যে, তারা সিডিএর কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই- তারা যেন অবিলম্বে নিজ উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলে। কারণ আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা একরকমের আইওয়াশ এবং সেটি চলবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপিসহ সেবা সংস্থাগুলো একমত হয়েছি, যেকোনো মূল্যে এই নগরের যানজট নিরসন করা হবে। এই শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘববিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। আমাদের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টিম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তাদের সার্বিক চিত্র দেখেছে। যেসব হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা নেই, তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিদর্শনে হাসপাতালের আকার অনুসারে পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে, অজুহাত না শুনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন