বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪৪ পি.এম
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল। ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের ফলে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ঠিকাদার। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ঠিকাদার মো. ইয়াসিন হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক রাইফা সরকার মামলাটি গ্রহণ করে সমন জারি করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়কে পিচ ঢালাইয়ের সময় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন ঠিকাদার ইয়াসিন হোসেনের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে সড়কের কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলানো হয়।
তবে মামলার বিবরণীতে ঠিকাদারের দেওয়া মৌখিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা অমিল দেখা গেছে। চাঁদা দাবির প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে ঠিকাদার বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রজেক্টের নকশা অনুসারে রাস্তার দুই পাশে প্রায় তিন ফুট করে মাটির শোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা করা হয়নি। এজিংয়ের কাজের জন্য পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে মান বজায় না রাখায় কাজ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে গত ৩০ জুন এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এখন এই ঘটনার পর ৬ জুলাই ‘আমার দেশ’ পত্রিকাসহ একাধিক গণমাধ্যমে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে ঠিকাদার তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন এবং অনিয়মের বিষয় থেকে জনমত ভিন্নদিকে ঘোরাতেই এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী এবং টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাবেরুল ইসলাম বাধন এই মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি হুমকি স্বরূপ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোটালীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সুধান্য ঘরামী এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়ার সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ওই ঠিকাদারের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এলাকাবাসী অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তিনি মামলা ও হামলার ভয় দেখান।
এ বিষয়ে ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জাকাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। গোপালগঞ্জে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি রয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। ইয়াসিন হোসেনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমার কাজের পার্টনার।
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি বলেন! মামলা করবে কেন? ইয়াসিন তো আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও দেখেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারিগরি টিমকে খতিয়ে দেখার জন্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় প্রায় ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩০১ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৬৫ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কার্যাদেশ পায় চুয়াডাঙ্গার ‘জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার বা স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার ইয়াসিন হোসেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক জানিয়েছেন যে, তদন্তে ত্রুটি পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করতে হবে। তবে এলজিইডির কারিগরি টিমের তদন্ত প্রতিবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্র সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পার হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না; উল্টো মামলা তুলে নিতে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
নিহত সুমন শেখ (২৪) আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সুমন।
জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী যাওয়ার পথে বড়ভাগ গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সুমন। ওই এলাকার হোসাইন শেখ ও তার সহযোগীরা সুমনের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বোন সরজানা বেগম বলেন, ‘হত্যাকারী হোসাইন এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। আমার ভাই তাকে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হোসাইন। আমার ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এখন মোবাইলে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে মামলা তুলে নিতে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ছেলের মৃত্যুর ১২ দিন পার হলেও স্বাভাবিক হতে পারছেন না বাবা আলাউদ্দিন শেখ ও মা শেফালী বেগম। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে দেখছেন আর কান্না করছেন। কৃষক আলাউদ্দিন শেখ অভাব-অনটনের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ছেলে সুমনও উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখতেন। সামনেই তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল, সে ফরম পূরণও করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার হলের বদলে তাকে চলে যেতে হয়েছে চিরনিদ্রার ঠিকানায়।
নিহতের বাবা আলাউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে হোসাইনসহ তার সহযোগীরা। ১২ দিন পার হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
মা শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বুকের মানিককে ওরা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিছে। আমার ছেলের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের ধরছে না। আমার ছেলের কত স্বপ্ন ছিল আমাদের নিয়ে, সেই স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে গেল। আমার সুমন চলে গেছে ১২ দিন হলো, এখনও আসামিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন আসামিদের স্বজনরা। গত কয়েকদিনে ৯টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আসামিপক্ষের স্বজনরা জানান, তাদের ৯টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘরের সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র লুট করে নেয়া হয়েছে। ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছেন।
আরেক গৃহবধূ বলেন, ‘মামলা হয়েছে, যদি আমার স্বজনরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হয়, তবে আদালত তাদের বিচার করবে। কিন্তু এভাবে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট, এটা কী হচ্ছে! আমাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। ঘরে অসুস্থ প্রবীণ সদস্য রয়েছেন, হামলার দিনে তারা ভয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নারীদের গলা, কান থেকে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা কোথায় যাব, কোথায় অভিযোগ দেব?’
তবে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী ও নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ। তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষ নিজেরাই তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমাদের কোনো লোকজন হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের সাথে জড়িত নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ থাকে যারা এ ধরনের লুটপাট করে। আসামিপক্ষের লোকজনই বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেছে। আমাদের কাছে ভিডিও প্রমাণ আছে।’
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, তারা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া যদি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রমজান আলীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার রাতে সীতাকুণ্ডের চৌধুরীঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার ফজলের রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, জাহাজভাঙা শিল্পে হামলা, মালামালবাহী যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, লুটপাট, কর্মকর্তাদের মারধর এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাগরিকা শিপইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় রমজান আলী, আরাফাতসহ নাম উল্লেখ করে দুজন এবং অজ্ঞাত আরও আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রমজান, আরাফাত ও তাদের সহযোগীরা শীতলপুরের চৌধুরীঘাটা এলাকার শিপইয়ার্ডে চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে মালামাল পরিবহন ব্যাহত হয়। এছাড়া তারা বারাকা শিপইয়ার্ডের মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে শিপইয়ার্ডে ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “শিপইয়ার্ড এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করে বুধবার ইরানে নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প|
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নতুন দফা হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ ঘটেছে|
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে|
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, কিশ দ্বীপের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়| বন্দর আব্বাস, কোনারাক ও চাবাহার বন্দরনগরী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে| এর মধ্যে চাবাহারের একটি অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়|
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘গতকাল ইরানের জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে|’ তিনি বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা আবার ঘটলে তার পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ|’
তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার নির্দেশ দিলেও বুধবারের দিনের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, সর্বশেষ সামরিক উত্তেজনা দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন| একই সঙ্গে তিনি আরও আলোচনার পথও খোলা রাখেন|
সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে| বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই প্রণালী দিয়ে যায়|
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করছে|’
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এক্সে লেখেন, ‘আগ্রাসী শত্রু ও তাদের সহযোগীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে|’
নতুন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে| এরপরই মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান, কাতার এবং জাতিসংঘ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানায়|
বুধবার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে "কিছুক্ষণ আগে’ ফোন করা হয়েছে| তারা ‘খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়|’
তবে কে ফোন করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি| একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি ইরানিদের ‘কিছুটা পাগলাটে’ বলে মন্তব্য করেন|
বৃহস্পতিবার ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনের ঠিক আগে এই নতুন হামলা চালানো হলো| গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি নিহত হন|
হামলার পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার ওপর জোর দিয়ে আসছে| তারা জানায়, প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে| অনুমোদিত পথ ছেড়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলারও হুমকি দিয়েছে|
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালায়| এর জবাবে মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র| পরে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে পাল্টা হামলা চালায়|
আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমরা তাদের ওপর জোরালো হামলা চালাব| তারা প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘন করছে|’
তবে পরে তিনি বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি হবে|’
যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আট শতাংশ বেড়ে যায়|
সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান-
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন| যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও একই আহ্বান জানায়|
ইরান জানায়, বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী ফোনে কথা বলেন| তারা আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক উপায় ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশই জানিয়েছে, প্রাথমিক দফার হামলায় তারা কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে| ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, এতে দেশটির আটজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন|
সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার তাদের বাহিনী ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে| এর মধ্যে ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টি ছোট নৌযান|
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে|
কুয়েত জানায়, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে| অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীতেও হামলা চালিয়েছে|
এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বুধবার জানান, ইরানের সর্বশেষ হামলায় কোনো মার্কিন নাগরিক হতাহত হয়নি এবং কোন স্থাপনার বড় ধরণের ক্ষতিও হয়নি|
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হয় প্রতিহত করা হয়েছে, নয়তো বড় ধরনের ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়েছে|’
বাহরাইনের সরকারি কর্মকর্তা নাওয়াল সাদ বলেন, ‘যুদ্ধের ছায়া আবারও ঘনিয়ে আসছে|’ তিনি বলেন, ‘ভয় ও উদ্বেগের সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমি আর যেতে চাই না|’
সমুদ্রে আটকা নাবিকরা-
বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার পাশাপাশি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীর অপর পারে অবস্থিত ওমান| তবে তারা এ জন্য ইরানকে দায়ী করেনি|
সাবেক এই মধ্যস্থতাকারী পুরো যুদ্ধজুড়েই হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করা থেকে বিরত থেকেছে| হরমুজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতেই তারা এ অবস্থান নিয়েছে|
ওয়াশিংটন হরমুজে জাহাজের অবাধ চলাচল চায়| কিন্তু ইরান চলাচলের জন্য ফি আরোপে অনড় রয়েছে| একই সঙ্গে ওমানের জলসীমা ব্যবহার করেও জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে|
সম্প্রতি হামলার শিকার হওয়া তিনটি জাহাজই ওমান উপকূলের কাছ দিয়ে চলাচল করছিল| ওমান তাদের উপকূল ঘেঁষে অস্থায়ী একটি নৌপথ চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল|
গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল|
তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বুধবার জানিয়েছেন, এখনো প্রায় ছয় হাজার নাবিক ওই এলাকায় আটকা পড়ে আছেন|
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তিন দেশ—কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে একযোগে নজিরবিহীন আত্মঘাতী (কামিকাজে) ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যৌথ বিবৃতিতে এই পাল্টা হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন মডেলের দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতের পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের আর্লি ওয়ার্নিং (আগাম সতর্কবার্তা) সিস্টেম ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ফুয়েল ট্যাংক বা জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে এই সফল হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, হামলার পরপরই বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। এ সময় দেশটিতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের ‘শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরই কুয়েতজুড়েও উচ্চশব্দে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতি সেনাবাহিনী এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এই মুহূর্তে দেশের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে কাতারেও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা (অ্যালার্ট) পাঠানো হয়েছে।
আইআরজিসি পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তাদের ড্রোনগুলো নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। একই সাথে তারা ওয়াশিংটন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের মূল ভূখণ্ডে আবারও কোনো হামলার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ওপরও হামলার পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বিস্তার করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ