০২:২৩ পি.এম
দেহের সঙ্গে রুহের যেমন সম্পর্ক রয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক তেমনি সম্পর্ক রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। এই মন্তব্যটি করেছেন কবি, নজরুল গবেষক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের আয়োজন করা একটি বক্তৃতা ও গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুল হাই শিকদার বলেন, কবি নজরুলকে নিয়ে বহুদিন ধরে নানা গবেষণা চলেছে, তবে তাঁর জীবন নিয়ে অনেক অসঠিক তথ্য ও গল্প প্রচলিত আছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নজরুল কখনো রুটির দোকানে বেলনা দিয়ে রুটি বানাননি। বরং প্রকৃতপক্ষে তিনি একটি বেকারিতে পাউরুটি তৈরির কাজ করতেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি আরও বলেন, কবি নজরুলের সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। গান, কবিতা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। দারোগা রফিজউল্লাহই এই প্রতিভাবান কবিকে ত্রিশালের মাটিতে নিয়ে এসেছিলেন। তাই তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রফিজউল্লাহ দারোগার নামে কোনও স্থাপনা বা অবকাঠামোর নামকরণ করা উচিত, এই মত প্রকাশ করেন তিনি।
নজরুলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুধের সঙ্গে সাদার যেমন সম্পর্ক, দেহের সঙ্গে রুহের যেমন সম্পর্ক রয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কও রয়েছে। নজরুলের প্রতিটি শব্দ যেন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে একেকটি যুদ্ধের ঘোষণা। স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর মতো উচ্চারণ আর কোনো কবির লেখায় দেখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের অবিসংবাদিত অবদানের কারণেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা। একই সঙ্গে বহু বিষয়ে কাজ করার অসাধারণ সক্ষমতা ছিল তাঁর। নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত হলে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মোট ৩৮টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পের মূল্যায়নকারী হিসেবে ছিলেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রশিদুন নবী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন