প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাস সুন্দরবন। এই শীর্ষ শিকারির ভূমিকা বন ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের আন্দারমানিক ফরেস্ট অফিসের সামনে বাঘের অবাধ বিচরণ এবং দুই দিনের ব্যবধানে নদী সাঁতরে পার হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে। কখনো নদীর তীরে, কখনো ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা দিচ্ছে তার অবাধ বিচরণ।
এসব দৃশ্য বলছে যে, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে মিলছে আশার বার্তা। সরকারি জরিপে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ এ, যা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে সংকটও কম নয়। ছয় মাস আগে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়া একটি বাঘ চিকিৎসা শেষে আবার বনে ফিরেছে। কিন্তু চোরা শিকারিদের ফাঁদ এখনও বড় হুমকি। হরিণ শিকার বাড়ায় কমছে বাঘের খাদ্যও। এরসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ আবাস ও প্রজননের সংকট, মানুষ-বাঘ সংঘাত এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতা সংরক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে বসে আছে।
বাঘ জরিপ কারিগরি কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক একটি বিষয়। তবে শুধু সংখ্যা বাড়লেই হবে না, তাদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত গবেষণা ও নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র বন বিভাগের উদ্যোগ নয়; জলবায়ু অভিযোজন, খাদ্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।
সুন্দরবন একাডেমির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, বাঘ রক্ষা করতে হলে পুরো সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। খাদ্য, প্রাণী, হরিণ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা জরুরি।
বন বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং উদ্ধার-পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, বন রক্ষায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সুন্দরবনের বাঘকে নিরাপদ রাখা হবে। আগামী জরিপে বাঘের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমাদের আশাবাদী।
‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ এই প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাংলাদেশসহ বাঘের আবাস থাকা বিশ্বের ১৩টি দেশে দিবসটি পালন করে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন