ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে নামে বন্যার পানি, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে


কক্সবাজারে নামে বন্যার পানি, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণের পর কক্সবাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পানি সরে যেতেই সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র-বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-বেড়িবাঁধ, বিপর্যস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত। দুর্যোগের পানি কমলেও এখন বড় চ্যালেঞ্জ বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত সারানো।

কক্সবাজারের রামুর কালাখন্দকার পাড়ার রিকশাচালক মাহমুদুল হকের ঘরে এখনো বন্যার পানি রয়েছে। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু দুর্ভোগ কাটেনি। কোমরসমান পানি পেরিয়ে তিনি দেখছেন ভেঙে পড়া বসতির ঘেরা-বেড়া এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া সংসারের শেষ সম্বল।

মাহমুদুল হকের দাবি, বন্যার পানিতে আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এখনো মেলেনি কোনো সহায়তা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে প্রাণহানি, বসতবাড়ি, মৎস্যখাত, কৃষি, সড়ক, বেড়িবাঁধে ভাঙনসহ ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত হয়। এরই মধ্যে সোমবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে এবং অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এরপর মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫ শতাংশ করে এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ায়। সেখানে পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চকরিয়ায় ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। কক্সবাজার সদরে তিনজন, পেকুয়া ও রামুতে দুজন করে, এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে নিহত হন।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য বলছে, নয় দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়ায়। উপজেলাটিতে ৪৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।

এরপর চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি এবং মাতামুহুরীতে ১৯০টি, টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানায় জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় জেলার ১০ উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়গুলোর মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তিনি বলেন, এসব পুকুর ও ঘের থেকে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৭৬৮টি পুকুর, ঘের ও খামারের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে, চকরিয়ায় ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর, টেকনাফে ১৪০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নয় উপজেলায় মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাইশেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিবেদনে বলা হয়, চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদরে ২০ কিলোমিটার, রামুতে ৫০ কিলোমিটার, কুতুবদিয়ায় ৯ কিলোমিটার, উখিয়ায় ৬ কিলোমিটার, টেকনাফে ৫ কিলোমিটার এবং ঈদগাঁওয়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতু ও কালভার্টের মধ্যে টেকনাফে ১৫টি, উখিয়ায় ১২টি, রামুতে ৫টি, কক্সবাজার সদরে ৪টি, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় দুটি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরদিকে টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় ১৫টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কোনো তথ্য জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৯৮ মেট্টিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই হবে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষকের ফসল, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

সোমবার রাতে কক্সবাজারে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন থেকেই পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, স্লুইস গেটগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পাহাড়ধস রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুম এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি থাকায় আবারও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। তবে আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একই এলাকায় একাধিকবার সহায়তা পৌঁছানো কমবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তরাও দ্রুত সহায়তা পাবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো-কোনো ক্ষুধার্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। একই সাথে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

ত্রাণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে।

জিলা প্রশাসনের সীমিত নৌযানের কারণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সম্পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকার দ্রুততম সময়ে সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে ভৌগোলিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব এলাকায় একই সময়ে সহায়তা পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হয় না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় একাকিত্বে ভুগছেন ? ভয় কাটানোর উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


বিদেশে উচ্চশিক্ষায় একাকিত্বে ভুগছেন ? ভয় কাটানোর উপায়

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেকের স্বপ্ন হয়ে থাকে। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন সম্ভাবনাগুলির দিকে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু এই আনন্দের পাশাপাশি, অনেকেই একাকিত্ব, ঘরছাড়া কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অজানা ভয় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা এবং সঠিকভাবে সামলাতে পারলে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিদেশে যাওয়ার পর পরিচিত মানুষ, পরিবার, ভাষা ও দৈনন্দিন পরিবেশ থেকে দূরে থাকার কারণে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি অনেকের মনে তৈরি হয়ে যায়। অসুস্থ হলে কী হবে, মন খারাপ হলে কার সঙ্গে কথা বলবেন, অথবা প্রয়োজনের সময়ে পাশে কে থাকবে—এমন নানা প্রশ্ন একাকিত্বের অনুভূতি আরও বাড়াতে পারে।

অনেক সময় হঠাৎ করে মায়ের রান্নার গন্ধ, সন্ধ্যার পরিচিত পরিবেশ বা নিজের বাড়ির নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এগুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের শেকড়ের প্রতি স্বাভাবিক দৃঢ় টান। তবে যখন এই স্মৃতি বর্তমানের একাকিত্বের সঙ্গে তুলনা করা শুরু হয়, তখন মানসিক চাপও বেড়ে যেতে পারে।

এছাড়া, এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার ফলে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে। একই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পরিবহন ব্যবস্থা, আবহাওয়া, বাজার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। এসব নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেকের জন্য শুরুতে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের দৃষ্টিতে অনেককে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও বাস্তবে বিদেশে থাকা অনেক শিক্ষার্থী একই ধরনের একাকিত্ব অনুভব করেন। কিন্তু বিষয়টি সকলের দ্বারা প্রকাশিত না হওয়ায় অনেকের মনে হয় যে, শুধু তিনিই এই সমস্যায় ভোগছেন। অথচ এই অভিজ্ঞতা বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই সাধারণ।

এমন পরিস্থিতিতে ভয়কে অস্বীকার না করে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিজের কাছে প্রশ্ন করা দরকার—আপনি আসলে কী বেশি অনুভব করছেন? পরিবারের অভাব, পরিচিত পরিবেশের অভাব, অথবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা? কারণ সমস্যাটি বুঝতে পারলে সহজেই তার সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে বিদেশে নিজের জন্য নতুন একটি দৈনন্দিন অভ্যাস তৈরি করার বরাত দেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। নিয়মিত হাঁটা, নিজের পছন্দের খাবার রান্না করা, নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতীতের স্মৃতিতে ডুবে না থেকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একা থাকা মানে একা হয়ে যাওয়া নয় বরং এই সময়টি নিজেকে নতুনভাবে জানার এবং মানসিকভাবে আরও শক্ত হওয়ার সুযোগ। ভয়, ঘরছাড়া কষ্ট বা মন খারাপ—এসব অনুভূতি বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে অস্বাভাবিক নয়। ধীরে ধীরে এই অভিজ্ঞতাই মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

তাদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়টি শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানসিকভাবে পরিণত হওয়ার একটি দীর্ঘ যাত্রা। তাই শুরুতে একাকিত্ব বা ভয় অনুভব করলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হা ম লা যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হা ম লা যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে

বাহরাইনে নোঙর করা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানায়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব দিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে বাহরাইনের মার্কিন নৌঘাঁটির প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগারে বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলায় একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, নৌঘাঁটির প্রধান আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং রকেট প্রতিরোধী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর চালকবিহীন যুদ্ধজাহাজ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ কেন্দ্রও এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


ইসলামের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব

ন্যায়বিচার ইসলামের অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে পরিচিত। ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ন্যায়বিচার শুধুমাত্র বিচারকের দায়িত্ব নয়; বরং প্রত্যেক মুসলিমের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোরআন ও সুন্নাহ বারবার শিক্ষা দেয় যে, ন্যায়ের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, ক্ষমতাবান কিংবা নিজের স্বার্থ কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। একজন মুমিনের পরিচয় হলো তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবেন।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আল্লাহর নির্দেশ।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন; আর অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। (সুরা নাহল:৯০) এই আয়াতটি ইসলামে ন্যায়বিচারের গুরুত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে একটি কল্যাণকর সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো ইনসাফ।

নিজের বা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে হলেও ন্যায়ের সাক্ষ্য দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ ۚ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَنْ تَعْدِلُوا। হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র আল্লাহই তাদের ব্যাপারে অধিক হকদার। সুতরাং ন্যায়বিচার করতে গিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। (সুরা নিসা:১৩৫) এই আয়াত ইসলামের ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ মানদণ্ড তুলে ধরে। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ন্যায়ের প্রশ্নে নিজের স্বার্থ, পারিবারিক সম্পর্ক বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না।

শত্রুর প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষ্যদাতা হয়ে দাঁড়াও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি তোমাদের বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। (সুরা মায়িদা:৮) এই আয়াত ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে, যেখানে ইসলাম শুধু বন্ধুদের সঙ্গে নয়, বরং শত্রুর প্রতিও ন্যায়বিচার করার শিক্ষা দেয়।

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনে ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

একবার কুরাইশ বংশের এক সম্ভ্রান্ত নারী চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হলে কিছু লোক তার শাস্তি মওকুফ করার জন্য সুপারিশ করতে চেয়েছিল। তখন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّדٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا। আল্লাহর শপথ! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫; সহিহ মুসলিম: ১৬৮৮) এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইসলামে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। ক্ষমতা, বংশমর্যাদা বা সামাজিক অবস্থান কাউকে ন্যায়বিচারের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না।

বিচারকার্যে সতর্ক থাকার নির্দেশ।

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ: وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ، وَاثْنَانِ فِي النَّارِ، فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ، وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَلَمْ يَقْضِ بِهِ وَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ، وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ। বিচারক তিন প্রকার। একজন জান্নাতে এবং দুজন জাহান্নামে। যে ব্যক্তি সত্য জেনে সে অনুযায়ী বিচার করে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি সত্য জেনেও অন্যায় বিচার করে এবং যে ব্যক্তি অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করে, তারা জাহান্নামে যাবে। (সুনান আবি দাউদ,: ৩৫৭৩; সুনানুত তিরমিজি: ১৩২২)

এই হাদিস বিচারকার্যে জ্ঞান, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ন্যায়বিচার সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের অধিকার সংরক্ষিত হয়, দুর্নীতি হ্রাস পায়, অত্যাচার কমে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস সুদৃঢ় হয়। অন্যদিকে অন্যায় বিচার সমাজে বিশৃঙ্খলা, অবিশ্বাস ও জুলুমের জন্ম দেয়। তাই ইসলাম এমন একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ধনী-গরিব, শাসক-প্রজা এবং শক্তিশালী-দুর্বল সকলেই সমান ন্যায়বিচার লাভ করবে।

ন্যায়পরায়ণদের জন্য বিশেষ মর্যাদা।

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ، الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ، وَأَهْلِيهِمْ، وَمَا وَلُوا। নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে নুরের মিম্বরে থাকবে, রহমানের ডান পাশে। তারা হলো যারা তাদের বিচারকার্যে, নিজেদের পরিবারে এবং তাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে ন্যায়বিচার করে। (সহিহ মুসলিম:১৮২৭)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে ন্যায়পরায়ণতা শুধু একটি সামাজিক গুণ নয়; এটি আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি ইবাদত।

দৈনন্দিন জীবনে ন্যায়বিচারের প্রয়োগ।

ইসলামে ন্যায়বিচার আদালতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং একজন মুসলিমের উচিত, ১. সত্য কথা বলা, যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে যায়। ২. সন্তানদের মধ্যে সমান আচরণ করা। ৩. ব্যবসা-বাণিজ্যে ওজন, পরিমাপ ও লেনদেনে সততা বজায় রাখা। ৪. কর্মচারী ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করা। ৫. পারিবারিক বিরোধে পক্ষপাতিত্ব না করা। ৬. সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইনসাফ বজায় রাখা। ৭. গুজব বা একপক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত না নেওয়া।

ইসলামে ন্যায়বিচার কোনো ঐচ্ছিক নৈতিক গুণ নয়; এটি আল্লাহর নির্দেশ এবং একজন মুমিনের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কোরআন ও সুন্নাহ আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের স্বার্থ, আত্মীয়তার সম্পর্ক কিংবা শত্রুতাকেও পাশে রাখতে হবে। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা, আস্থা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হওয়া।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মেধাবী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি এ সময় আরও বলেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। প্রত্যেক স্টার্টআপ উদ্যোক্তাকে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ' শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী পর্বের পর বেলা ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হিসেবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আমরা চিন্তা করছি যে এমন উদ্যোক্তা আছেন যারা ব্যাংকের বিভিন্ন হ্যাচেল ফেস করেছেন, যারা সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে বাধ্য হন। এই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের রাখা হয়নি। একটি নিরপেক্ষ কমিটি তৈরি হয়েছে যা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে একটি প্রশ্ন করে জানান, বাবা-মায়ের জমি বা সম্পত্তি দেখে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন উপায় আছে, কিন্তু সেগুলো যথার্থ নয়। যাদের ভালো স্টার্টআপ ধারণা রয়েছে, কিন্তু জামানত নেই, তাদের ঋণ পাওয়ার জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ক নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট বিশ্লেষণ করে তাদের ফান্ড করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একটি আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সাহায্য প্রদান করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি উদ্যোক্তার মধ্যে পটেনসিয়াল থাকে, তাহলে আবার ফান্ডের বিষয়টি ভাবা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই সফল হয় না, কিন্তু সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার তারা সুযোগ পাবেন।

এটি উল্লেখযোগ্য যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকে জানতে পারবেন এবং গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, এর ফলে উদ্যোক্তা উন্নয়নের কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে সহায়ক হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%