০৫:১৯ পি.এম
প্রযুক্তির ছোঁয়া ও উন্নতির মধ্যেও, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইব্রেরি সেবা যখন আরও আধুনিক ও স্মার্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে, তখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সনাতন পদ্ধতিতে আটকে রয়েছে। কাগজের কার্ড ব্যবহার করে সেবা প্রদানের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, এবং তারা দ্রুত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন। লাইব্রেরিটিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইআরপি জটিলতার কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণার প্রধান কেন্দ্র হলেও, এতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু না হওয়া কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, আধুনিক যুগের সাথে সনাতন লাইব্রেরি ব্যবস্থা একেবারেই মানানসই নয়।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি এখনও সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের কার্ডের মাধ্যমেই চলছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পিতা রায় চৌধুরী বলেন, 'স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড চালু হলে ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ, বই অনুসন্ধান এবং সর্বমোট ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।'
রসায়ন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, 'লাইব্রেরি হল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকাটা সত্যিই দুঃখজনক। কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড সংগ্রহ করাও একটি ঝামেলার বিষয়। ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবে।'
বাংলা বিভাগের অপর শিক্ষার্থী রব্বানী হোসেনের মতে, 'দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড চালু রয়েছে। সেখানে কয়েক সেকেন্ডেই বই ইস্যু ও ফেরত দেওয়া যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন ব্যবস্থা চালুর এখন সময়ের দাবি।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন আলম বলেন, 'লাইব্রেরি কার্ড ডিজিটাল করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ বিষয়ে আমি আগের উপাচার্য হায়দার আলী স্যারের সাথে একাধিকবার আলোচনা করেছিলাম। তবে তিনি অতীতের লাইব্রেরির জন্য আলাদা কার্ড না করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইউনিক আইডি কার্ড চালুর কথা বলেছিলেন। পরে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।'
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
তিনি আরও জানান, 'বর্তমান উপাচার্য অনুমতি দিলে আগামী তিন মাসের ভিতরে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড প্রদান এবং পুরো লাইব্রেরিকে অটোমেশনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'আমরা আগে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। ২০ জুলাই যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা তাদের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অটোমেশন সিস্টেম চালু হলে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ উদ্যোগে বই ইস্যু ও রিটার্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে কোন বইটি রয়েছে, সেটির অবস্থান, বর্তমানে ইস্যুকৃত বইয়ের অবস্থা এবং ইস্যু থাকলে কবে পুনরায় পাওয়া যাবে, এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব হবে। এতে লাইব্রেরি সেবার গতি, স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন