প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম অঞ্চলের টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার ফলস্বরূপ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের জানআলীহাট এবং ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে প্রায় দুই ফুট রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য, রেল কর্তৃপক্ষ এ রুটে ট্রেন চলাচল পাঁচ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে অগ্রিম কাটা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিট ফেরত নেওয়া হয়। এর ফলস্বরূপ, যাত্রীদের ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, যা রেলওয়ের জন্য একটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন জানান, অত্যাধিক বৃষ্টির কারণে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে চলে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পানি নেমে গেলে সরেজমিন পরিদর্শন করার পর এ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়। বন্ধের সময় যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম নগরের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী শমসেরপাড়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য রেললাইনের সমান্তরালে একটি নতুন খাল খনন এবং প্রায় ২০ হেক্টর এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য জলাধার নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় তিন দশকেও এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ভারী বর্ষণে শমসেরপাড়া এলাকার রেললাইন পাঁচ দিন পানির নিচে থাকার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেলপথ ডুয়েলগেজে উন্নীত করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকায় রেললাইন প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন করে জানান, প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেললাইন উঁচু হলে ভবিষ্যতে ভারী বর্ষণেও এই রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন