০৭:৩৭ পি.এম
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জে, একটি নারীর বিরুদ্ধে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির মিথ্যা অপবাদে মধ্যযুগীয় পদ্ধতিতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগটি তুলেছেন ছয়গাঁও ইউনিয়নের এক BNP নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে গোলাম রাব্বি কমিশন করে ভেদরগঞ্জ থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার দুই লক্ষ টাকা এবং চার ভরি স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
এই ঘটনার পর, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনোয়ার হোসেন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা ওই নারীর উপর হামলা চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে ক্ষেত্রস্থানে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর পরিবার বলছে, নির্যাতনের সময় তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছেন। মারধরের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলাকারীদের নির্যাতন থেমে যায়নি।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুটি ব্যক্তি ওই নারীর হাত ধরে রেখেছেন এবং অন্য একজন লাঠি দিয়ে তাকে মেরে ফেলছেন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে তুলে আবার মারধর করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নারগিস বেগম মন্তব্য করেছেন, "আমি কোনো চুরি করিনি। তারা আমাকে চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। তারা আমাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।" ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, "আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই বিদেশে আছেন। আমার মা কোনো চুরি করেননি। তবুও BNP নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে মারধর করেছেন। মা স্ট্রোকের রোগী। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।” তিনি এর বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, "আমার বাড়ি থেকে নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। আমরা গোপালগঞ্জ থেকে ডিম এনে গরম পানিতে দেওয়ার পর তার শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সে সময় তাকে কিছুটা চাপ প্রয়োগ করা হয়।"
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন, "আমরা ইতোমধ্যে ভিডিওটি দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। তদন্ত ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে এভাবে নির্যাতন করার অবকাশ নেই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।"
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, "আমরা খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন