০৪:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সোমবার (২৯ জুন) ছিল সুপ্রিম কোর্টে মিশ্র ফলাফলের দিন। এ দিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় আসে। এর মধ্যে একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা বেড়ে গেছে, তবে বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত তার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর রায়টি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় জয় হলেও অন্যান্য কয়েকটি সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে যে সুপ্রিম কোর্ট সব সময় তার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না।
সবচেয়ে আলোচিত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো একটি নজির বাতিল করেছে। আগে কংগ্রেস গঠিত স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো বরখাস্ত করতে পারতেন না। কিন্তু নতুন রায়ের ফলে, প্রেসিডেন্ট এসব কর্মকর্তাকে অপসারণের জন্য আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তারা প্রেসিডেন্টের কাছেই জবাবদিহি করবেন। এজন্য প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট তাদের অপসারণ করতে পারবেন।
এই মামলায় ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ করেছিলেন। অপরদিকে তিনজন উদারপন্থি বিচারপতি এই রায়ের বিরোধিতা করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলেই শুধু ট্রাম্প নয়, ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরাও বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষমতা লাভ করবেন।
রায়ের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো নজির বাতিল হয়েছে এবং এমন সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বেড়েছে, যখন সেটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তবে একই দিনে ট্রাম্প আরও তিনটি বিষয়ে ধাক্কা খান। এর একটি ছিল ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা। ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ-চার ভোটে সেই উদ্যোগ আটকে দেয়।
প্রধান বিচারপতি রবার্টস বলেন, কাউকে অপসারণের আগে অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণও থাকতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, প্রেসিডেন্টরা যদি ফেডারেল রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
আরেকটি মামলায় আদালত রায় দেয় যে, নির্বাচন দিনের ডাকমোহর থাকা ডাকযোগে পাঠানো ভোট পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে। এই রায়ও ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে যায়।
এই মামলার রায় লেখেন বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর রয়েছে। ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের করা একটি মানহানি মামলার আপিলও শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ই জ্যা ক্যারল মামলাতেও তিনি স্বস্তি পাননি। সব মিলিয়ে সোমবারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের মধ্যে মাত্র একটিতে ট্রাম্প বড় জয় পেলেও, বাকি তিনটি সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন