০৩:০৩ পি.এম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় জাগছড়া চা বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিশাল আকৃতির অজগর। এই অজগরটির দৈর্ঘ্য কিন্তু প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ কেজি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশন থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চা-শ্রমিকরা যখন বাগানে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ বিশাল আকৃতির অজগরটি তাদের সামনে আসে। সাপটি দেখে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কাজে বিরতি দেন। এরপর তারা সেলিম মিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে দেন, যিনি ওই চা বাগানের দায়িত্বে আছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ঘটনার খবর পেয়ে বনবিভাগ এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হন। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বনবিভাগের সদস্যদের যৌথ অভিযানে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ কেজি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে চা বাগান থেকে এই বিশাল অজগর উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে।
এই বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর এবং খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি সাধারণত গাছে একাকী থাকে তবে প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল হয়। দেশে ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
জোহরা মিলা আরও জানান, সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না এবং খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, এবং ছোট বন্যপ্রাণী খায়। তবে সাপটি নিজের আকারের চেয়ে অনেক বড় প্রাণী সহজেই গিলে খেতে সক্ষম।
তিনি সতর্ক করে বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী এই বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, এজন্য এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন