০৩:২৪ পি.এম
দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রয়েছে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে নানা জটিলতার কারণে ক্রিয়াশীল প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থাকতে না পেরে ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কাঁচামাল আমদানি পূর্বক পোশাক রফতানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জটিলতা ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ভারত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরে একবারও রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা হবে, এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী মন্তব্য করেন, নতুন বাজারে প্রবেশ বা নতুন ফ্যাশনেবল পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এইচএস কোডের জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই প্রতিবন্ধকতার কারণে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টিতে ১৯ বিলিয়ন এবং যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। অপ্রচলিত বাজারগুলোতে রফতানি হয়েছে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। তবে আগের বছরের তুলনায় এই আয় কিছুটা কম।
বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, একটি কারখানা আধুনিকায়নে প্রায় ১০ লাখ ডলার প্রয়োজন। কিন্ত বর্তমান সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ হওয়ায়, ঋণ নিয়ে কারখানা উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্বল্প সুদে অর্থায়নের প্রয়োজন অনুভব করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা আনছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলোয় তৈরি পোশাকের চাহিদা কমছে। অল্প কিছু ক্রয়াদেশ পাওয়ার পরেও সেখানে মূল্য কমানোর চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত ক্রেতাদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিজেদের দিকে ক্রয়াদেশগুলো টেনেছে।
বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্রয়াদেশ ধরে রাখতে গিয়ে পণ্যের দাম নিয়ে এমন পর্যায়ে দর-কষাকষি করতে হচ্ছে, যা বাংলাদেশের পক্ষে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো কীভাবে তা করছে, সেটিই এখন প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। রফতানিযোগ্য পণ্যও এই বন্দর দিয়েই জাহাজীকরণ করা হয়। আমদানি-রফতানির শুল্কায়নের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। এজন্য সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ।
বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ জানিয়েছেন, কাস্টমসের কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত করতে হবে। যাতে করে কাঁচামাল দ্রুত খালাস করা যায় এবং রফতানি পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ সম্ভব হয়। এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রথম অবস্থানে রয়েছে চীন এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম দ্বিতীয় স্থানের জন্য দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন