ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দলের চাওয়ার বিরুদ্ধে পদত্যাগ করছেন ইশরাক, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা


দলের চাওয়ার বিরুদ্ধে পদত্যাগ করছেন ইশরাক, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এবং বিশেষ কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

তিনি উল্লেখ করেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তটি দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে এবং দল চায়নি যে তিনি পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগের পর তিনি মাদকের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটা করতে গিয়েই আজকের এই পরিস্থিতি। যেখানে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। দল চায়নি, দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটা আমি বক্তব্যে বলবো।’

মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক আরও বলেন, ‘এখনতো আমি আরও এগ্রেসিভলি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। যুদ্ধ করবো আমি।’

ইশরাকের বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি আরও জানান, এ সিদ্ধান্ত তার দলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পদত্যাগের পেছনে বিশেষ কারণ কী এবং এ বিষয়ে দলের সঙ্গে তার কী ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা তিনি পরবর্তী বক্তব্যে বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত করেছেন।

এদিকে, ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না বরং এ বিষয়ে আরও কঠোর ও আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এক নারী, যার বোন সন্ন্যাসিনী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি খ্রিস্টীয় ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন এবং একসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গমন করেন। তবে সেখানে মুসলমানদের ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা এবং আজানের ধ্বনি তার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। সাত বছরের প্রশ্ন, অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেন সিস্টার ডেইজি।

সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের ঘটনা তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও সত্য অনুসন্ধানের দীর্ঘ যাত্রার একটি গল্প হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যেখানে তার বোন ছিলেন কারমেলাইট সন্ন্যাসিনী। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শৈশব থেকেই গির্জা, প্রার্থনা ও খ্রিস্টীয় ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা সিস্টার ডেইজির মনে খ্রিস্টধর্মের কিছু মৌলিক বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে ত্রিত্ববাদ এবং যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলত। তিনি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হলে তার মৃত্যুবরণের ধারণা কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেন।

পরবর্তীতে, গির্জার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুবাদে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান ডেইজি। সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পরিকল্পনা ছিল তার, কারণ তার ধারণা ছিল, আরবের মানুষ যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না।

কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে তার ধারণা পরিবর্তিত হয়। তিনি দেখতে পান, মুসলমানেরা ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পবিত্র কুরআনে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, যা ডেইজির মনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ ও আজানের ধ্বনি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। মুসলমানদের ইবাদত, আল্লাহর প্রতি নিবেদন এবং ধর্মীয় জীবনযাপন তাকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পরও সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা তাকে তাড়িত করত। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য মেসেজ’-এর একটি অংশ দেখার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়ে। এরপর তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে থাকেন।

তবে তার এই পরিবর্তন পরিবার সহজভাবে মেনে নেয়নি। বিশেষ করে সন্ন্যাসিনী বোনসহ পরিবারের সদস্যরা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাকে বিভিন্ন যাজক, সন্ন্যাসী ও বিশপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় সাত বছর ধরে তাকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এ সময় এক সন্ন্যাসী তার দেওয়া ইংরেজি কুরআন রাগ করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই সন্ন্যাসী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ডেইজির কাছে ক্ষমা চান।

দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে ডেইজির সঙ্গে ফাদার টম নামের এক যাজকেরও আলোচনা হয়। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, তার বক্তব্যে ডেইজি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। তবে বর্ণনা অনুযায়ী, ফাদার টম তাকে নিজের বিবেক ও সত্য অনুসন্ধানের গুরুত্ব বোঝান। এতে ডেইজি নিজের বিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ পান।

একপর্যায়ে, তিনি ছোট দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি মসজিদে যান। সেখানে এক ফিলিস্তিনি নারী তাকে নামাজের নিয়ম শেখান। এরপর জীবনে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের মতো নামাজ আদায় করেন ডেইজি এবং আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন।

বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম সিজদার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, দ্বিধা ও অনুসন্ধানের পর এই অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অনুভব করেন।

ডেইজির ইসলাম গ্রহণের পেছনে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ঈসা (আ.) আল্লাহর সম্মানিত নবী ও রাসুল এবং মরিয়ম (আ.) পবিত্র ও মর্যাদাবান নারী। পবিত্র কুরআনে তাদের জীবন ও ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্মের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডেইজির জীবনযাপনে পরিবর্তন দেখে তার মেয়েও ইসলাম গ্রহণ করেন।

সিস্টার ডেইজির এই কাহিনি ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান ও পারিবারিক বাধার মধ্য দিয়ে একটি নতুন জীবনদর্শন গ্রহণের গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা, জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সূত্র এখানে উল্লেখ নেই। তাই ঘটনাগুলোকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়র নির্বাচন নিয়ে ইশরাক হোসেন বললেন, প্রস্তুতি রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


মেয়র নির্বাচন নিয়ে ইশরাক হোসেন বললেন, প্রস্তুতি রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, মেয়র নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তবে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন।

তিনি বলেন, "আমি মেয়র নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।"

এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন, "যদি দলের অন্য কাউকেও প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, সে ক্ষেত্রে তাকে জেতানোর জন্যও শতভাগ প্রস্তুত আছি।"

এই সংসদ সদস্য বলেন, "আমি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে যাব।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাঅষ্টমীতে সারাদেশের পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


মহাঅষ্টমীতে সারাদেশের পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

আজ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মহাঅষ্টমী’ উদযাপিত হচ্ছে, যা ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন। সকাল থেকেই রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ঢল দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে মহাঅষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন এবং চরণামৃত গ্রহণ করেন। এ সময় মহাপ্রসাদও ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে ‘সন্ধিপূজা’ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত এই পূজা সম্পন্ন হয়।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই বিশেষ আচারটি দেবী দুর্গার চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই অসুরকে বধ করার মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন তিনি ‘চামুণ্ডা’ রূপ ধারণ করেছিলেন।

সারাদেশের কিছু মন্দিরে ‘কুমারী পূজা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা একটি ঐতিহ্যবাহী আচার। এখানে একজন অল্পবয়সী অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা ও দিব্য নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই আচারের সময় সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী, বয়ঃসন্ধি-পূর্ববর্তী একজন অবিবাহিত বালিকাকে দেবী দুর্গা ও দিব্য নারীশক্তির জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।

এই বিশেষ আচারের অংশ হিসেবে ভক্তরা কুমারীর পায়ে জল, বস্ত্র, ফুল এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কার নিবেদন করেন।

গত শুক্রবার ‘মহাসপ্তমী’ বা মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মাধ্যমে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়েছে, যার ফলে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

নানা রঙের সাজসজ্জা, ঢাকের আওয়াজ, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে চারপাশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। ভক্তরা সারাদেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে প্রার্থনা ও উৎসব উপভোগ করছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে ২৫৮টি মণ্ডপ রাজধানীতে অবস্থিত।

গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে। গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশন বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে অন্যতম জমকালো পূজার আয়োজন করেছে। রাজধানীর কলাবাগান মাঠ ও খামারবাড়িতে নির্মিত অস্থায়ী মণ্ডপগুলোও দর্শনার্থীদের জন্য প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সেখানে বিশাল কাঠামো ও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা মানুষের ভিড় টানছে।

আগামীকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে মহানবমী উদযাপিত হবে। এদিন ভক্তরা মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে সমবেত হয়ে অঞ্জলি দেবেন। পাশাপাশি পূজার শেষ পর্যায়ের আচার-অনুষ্ঠান ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হবে।

বুধবার বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে, যা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এদিন ভক্তরা শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা নিয়ে নদী, পুকুর বা অন্যান্য জলাশয়ে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন।

রাজধানীর পুরনো ঢাকার তাঁতিবাজার ও শাখারিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার বড় পরিসরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। রমনা কালী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও উত্তরা সর্বজনীন মন্দিরেও উৎসব চলাকালীন প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর কাছে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নেবেন?’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর কাছে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নেবেন?’

চাকরির সাক্ষাৎকারের সময় এক নারীকে তার পারিবারিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) একজন প্রতিনিধি। ভারতের শাতাক্ষী দ্বিবেদী নামের ওই চাকরিপ্রত্যাশী নারীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দ্বিবেদী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাকে করা সবচেয়ে অযৌক্তিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

দ্বিবেদী জানান, সাক্ষাৎকারের শুরুতে তার বাসস্থান এবং অফিসে যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, অফিসে যাতায়াত করতে তার কোনো সমস্যা হবে না। তার স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন, ফলে প্রয়োজনে তিনি স্বামীর সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন।

তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে এইচআর প্রতিনিধি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘একটা প্রশ্ন করতে আপনার আপত্তি নেই তো? আপনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাই তো?’

প্রশ্নটি শুনে হতবাক হয়ে যান দ্বিবেদী। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বাস্তবে তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বৈপরীত্যের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

দ্বিবেদী বলেন, ‘এরপর আমরা আবার কাচের ছাদ ভাঙার কথা বলি। এসব প্রতিষ্ঠানই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।’

তবে তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাদেরও বিয়ে, সন্তান নেওয়া এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাক্ষাৎকারে অবিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে বিয়ে করবেন। বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে সন্তান নেবেন। সন্তান থাকলে জানতে চাওয়া হয়, কাজ আর সন্তান কীভাবে সামলাবেন। অর্থাৎ, ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত, এমনকি ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এই দ্বিমুখী মানসিকতার সমাজে সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন চলতেই থাকবে।’

আরেক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। তারা সরাসরি আমার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ২০২৬ সালেও নারীদের এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

তৃতীয় এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জবাবটা এমন হওয়া উচিত ছিল, “দুঃখিত, আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ আমি মেনে নিই না।” অথবা শুধু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুপ থাকা উচিত।’

ঘটনাটি আবারও চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%