মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৬ পি.এম
শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে।
সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউনসহ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। উপাচার্য নিয়োগ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে পুনর্বহালের দাবিতেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। অধ্যাপক সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৮ সালে শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে সংস্থাটি বছরের বিভিন্ন সময় নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে ভারতীয় দলের বিপক্ষে একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব সামনে এসেছে বিশ্ব একাদশের।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এই আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপন ২০২৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালজুড়ে চলতে পারে। এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ভারত ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে।
তবে, ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য তারিখ, ভেন্যু কিংবা দুই দলের খেলোয়াড়দের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ, পুরো পরিকল্পনাটি আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের ধারণাটি নতুন নয় ভারত ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে। অতীতে বিভিন্ন উপলক্ষে এমন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপনে এবারও এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদযাপনের একটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার মধ্যে মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সময় তাকে থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাবী। পুলিশ এ ঘটনায় ইমনকে আটক করেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইমনের মা পেয়ারা বেগম (৬০) এবং তার ৮ মাস বয়সী ভাতিজি। আহত রাবেয়া আক্তার, নিহত শিশুটির মা এবং ইমনের ভাবী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবী রাবেয়া আক্তার তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন দা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন এবং ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে ছুড়ে ফেলে হত্যার অভিযোগও ওঠে।
ইমনকে থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রাবেয়া আক্তার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইমন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাকে বাধা দেওয়ায় তিনি তার মা ও ভাবীকে আঘাত করেন এবং ভাতিজিকে ছুড়ে ফেলে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি বলেন, ঘটনাস্থলেই ইমনের মা ও ভাতিজির মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইমনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কুমিল্লা থেকে সিআইডির একটি দল গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ জানায়, সুরতহাল শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
স্থানীয়রা জানান, ইমন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। সোমবার সকালে পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এ সময় মা ও ভাবী তাকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে খাবার বিতরণ করতে গিয়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই-ICE) এক অফিসারের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার যুবক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজ। এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উত্তর অস্টিনে। পেরেজের শরীরের ওপরের অংশে গুলি লাগে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে গুরুতর তবে স্থিতিশীল অবস্থায় পাওয়া যায় বলে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আইনজীবী জানান, পেরেজ খাবার সরবরাহের (ফুড ডেলিভারি) কাজ করছিলেন। অভিবাসন অফিসাররা তার গাড়িকে অনুসরণ করার পর এ ঘটনা ঘটে। টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নীল রঙের একটি গাড়িকে ধাওয়া করার জন্য অভিবাসন অফিসাররা সহায়তা চেয়েছিলেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় একটি গাঢ় রঙের গাড়ির পাশে নীল গাড়ি থেমে আছে। এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ভিডিওতে গুলি চালানোর পুরো ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
অস্টিন পুলিশ জানিয়েছে, গুলি চালানোর সময় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির চালককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন।
আইনজীবীর দাবি
পেরেজের আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, পেরেজ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন এবং একটি মানবিক অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এসেছিলেন। তার বৈধ কাজের অনুমতিপ্রত্রও ছিল বলে আইনজীবীর দাবি।
তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, পেরেজ বাইডেন প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। ঘটনার তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ, এতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাও সহায়তা করছে বলে জানানো হয়েছে।
আইনজীবী আরও জানান, পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়ার পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে টেক্সাসের পিয়ারসালের দক্ষিণ টেক্সাস অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
পেরেজের পিঠে এখনও গুলি আটকে রয়েছে বলে তার আইনজীবীর কার্যালয় জানিয়েছে। আইনজীবীর দাবি, গুলিটি মেরুদণ্ডের কাছাকাছি থাকায় চিকিৎসকেরা তা বের করেননি। পেরেজ তার আইনজীবীকে জানিয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং শুরুতে প্রয়োজনীয় ব্যথানাশকও দেওয়া হয়নি।
পেরেজের স্ত্রী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পেরেজ স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে তাকে গুলি করা হয়েছে। কথা বলার সময় তিনি প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করছিলেন এবং একপর্যায়ে ফোন কেটে যায়।
হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় অভিবাসন হেফাজতে। আইনজীবী জানান, তিনি পেরেজের স্ত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে। কিন্তু তাদের হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। আইনজীবীর দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে নিশ্চিত করে যে পেরেজকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেরেজের চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শহরের পুলিশ এ অভিযানে জড়িত ছিল না। অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানান, ঘটনাস্থলে অল্প সময়ের একটি পায়ে হেঁটে ধাওয়া করার ঘটনা ঘটেছিল এবং পুলিশ তদন্তকারীরা সেখানে ছিলেন।
টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
পেরেজের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তার মক্কেলকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ
গুলির ঘটনার পর উত্তর অস্টিনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কেউ কেউ অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকানোর ঘটনাও ঘটে। রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বৃহত্তম অধিকার সংগঠনও অভিবাসন আইন প্রয়োগের ওপর স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাভিস কাউন্টির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ও তদন্তে সমান অংশীদার হওয়ার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আইনপ্রণেতাদের প্রতিক্রিয়া
টেক্সাসের কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ কাসার ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, গুলির সময় ধারণ করা ক্যামেরার সব ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টেক্সাসের আরেক কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রোও ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি দাবি করেছেন।
এদিকে, টেক্সাসের একটি আসনের জন্য সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জেমস তালারিকোও ঘটনাটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন এবং তদন্তের দাবি করেছেন।
দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান জোরদার
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি গ্রীষ্মে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান জোরদার হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে প্রথমবারের মতো প্রতি মাসে ৫০ হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা।
অস্টিনের ঘটনাটি টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলির আরেকটি ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউখো নামে মেক্সিকোর এক নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। ওই ঘটনার তদন্তও চলছে।
অস্টিনের সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শরীরে ধারণ করা ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং পেরেজকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৫এন১) বা বার্ড ফ্লু শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরে দেশে এ সংক্রমণের চতুর্থ মানব কেসটি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা অ্যাট দ্য হিউম্যান-অ্যানিমেল ইন্টারফেস: সামারি অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাঁস ও মুরগির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে এসব সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে।
গত ৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছরে আবারও এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সর্বশেষ আক্রান্ত শিশুটি রংপুর বিভাগের। ১৫ আগস্ট তার জ্বর, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার উপসর্গ দেখা দেয়। দুই দিন পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আক্রান্তের বিষয়টি যখন জানা যায়, তখন শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।
শিশুটি সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও ঘুরতে যায়নি। তবে নিজ বাড়ি ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে এসেছিল সে। এর মধ্যে অসুস্থ হাঁস-মুরগিও ছিল।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে শনাক্ত হওয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সব সংক্রমণই শিশুদের মধ্যে হয়েছে। আমরা সংক্রমণের সঙ্গে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসার যোগসূত্র পেয়েছি। হাঁস-মুরগির মাংস বা অন্যান্য পণ্য খাওয়ার চেয়ে সরাসরি সংস্পর্শ থেকেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
ডা. জাকী বলেন, আক্রান্ত বা অসুস্থ হাঁস-মুরগি ধরার সময়, জবাই করার সময় কিংবা সরাসরি সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তিনি বলেন, ভালোভাবে রান্না করা হাঁস-মুরগির মাংস খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।
এইচ৫এন১ একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। তিনি বলেন, তাই খামার ও হাঁস-মুরগির নিয়মিত নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। হাঁস-মুরগির নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। সংক্রমিত পাখি শনাক্ত হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে তাদের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎসেই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হবে না।
২০০৩ সালের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১৭ জনের এইচ৫এন১ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন—একজন ২০১৩ সালে এবং অন্যজন চলতি বছরের শুরুতে। ২০২৫ সালে তিনজন আক্রান্ত হলেও কারও মৃত্যু হয়নি। আর ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি।
২০২৬ সালে এইচ৫এন১-এ প্রথম মারা যায় চট্টগ্রাম বিভাগের এক শিশু। ১ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষায় তার এইচ৫এন১ সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। রংপুরের সর্বশেষ ঘটনাটির আগে সিলেট বিভাগের আরও দুই শিশুর এইচ৫এন১ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।
শিশুদের হাঁস-মুরগি থেকে দূরে রাখার পরামর্শ
চলতি বছর চার শিশুর এইচ৫এন১ এ সংক্রমিত হওয়ায় মহামারি পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করছে। এ কারণে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন।
ডা. মুশতাক বলেন, এইচ৫এন১ একটি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং আমরা এটিকে মহামারির ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করি। মানুষের মধ্যে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি এটাও দেখায় যে আমাদের নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করছে—অন্তত আমরা আক্রান্তদের শনাক্ত করতে পারছি। আগে কোনো খামারে সংক্রমণ শনাক্ত হলে হাঁস-মুরগি মেরে ফেলা হতো। তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু টিকা দিলেও ভাইরাস নির্মূল হয় না।
তিনি বলেন, টিকা দিলে মুরগির মৃত্যু কমে, কিন্তু ভাইরাসের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এতে ভাইরাসের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। গ্রামাঞ্চলে শিশুরা প্রায়ই গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সঙ্গে খেলা করে বা সেগুলো ধরে। এতে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগি স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
হাঁস-মুরগির খামারের কর্মী ও জীবন্ত হাঁস-মুরগি বিক্রেতাদের জন্য মাস্ক ও গ্লাভস পরা এবং কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন
ডা. মুশতাকের মতে, এইচ৫এন১ ভাইরাসে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। ভাইরাসটি মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের শরীরে এর বিরুদ্ধে আগে থেকে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে এ সংক্রমণ বেশি শনাক্ত হতে পারে, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে আরও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা উচিত।
দেশে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা চালুর বিষয়টিও বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০০৩ থেকে ২০২৬ সালের সম্মিলিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৫এন১) সংক্রমণের ১ হাজার ৩টি কেস নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৭৯ জনের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ